শামসুন্নাহারের গোল-জাদু চলছেই, পাঁচ ম্যাচে পাঁচটিতেই সেরা

নারী ফুটবল লিগে টানা পাঁচ ম্যাচে ম্যাচসেরা শামসুন্নাহার জুনিয়রশামসুল হক

টানা পাঁচ ম্যাচে জয় স্বাভাবিক ঘটনাই। তবে টানা পাঁচ ম্যাচ সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পাওয়াটা বিরলই। সেই বিরল ঘটনারও সাক্ষী হলো বাংলাদেশ নারী ফুটবল লিগ। ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবের স্ট্রাইকার শামসুন্নাহার জুনিয়র টানা পাঁচ ম্যাচে হয়েছেন সেরা খেলোয়াড়!

আজ কমলাপুর স্টেডিয়ামে তাঁর একমাত্র গোলেই শিরোপাপ্রত্যাশী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে লিগে নিজেদের টানা পঞ্চম জয় নিশ্চিত করেছে আরেক শিরোপাপ্রত্যাশী দল ফরাশগঞ্জ। সেনাবাহিনী জিতেছিল আগের পাঁচ ম্যাচই, ফরাশগঞ্জও এ ম্যাচটি খেলতে নামে টানা চার ম্যাচ জিতে।

১১ দলের লিগে দুই অপরাজিত দলের গুরুত্বপূর্ণ এই লড়াইয়ে শামসুন্নাহারের বাঁ পায়ের দুর্দান্ত ফিনিশিংই শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দেয়। সেনাবাহিনীর এক ডিফেন্ডারের ভুলের সুযোগ নিয়ে বক্সের ঠিক সামনে বল পেয়ে যান তিনি, এরপর বাঁ পায়ের তীব্র শটে প্রথম বারের একেবারে কোনা দিয়ে বল পাঠান জালে। এ জয়ে মারিয়া মান্দা, মনিকা চাকমা, তহুরা খাতুনদের দল ফরাশগঞ্জ শিরোপার পথে বড় এক বাধা টপকে গেল, যাদের সামনে এখন পরবর্তী চ্যালেঞ্জ ঋতুপর্ণাদের রাজশাহী স্টারস।

নিয়মিতভাবেই পুরস্কার মঞ্চে উঠছেন শামসুন্নাহার জুনিয়র
প্রথম আলো

ফরাশগঞ্জের এই জয় ছাপিয়ে আকর্ষণের কেন্দ্রে শামসুন্নাহারের অতিমানবীয় পরিসংখ্যান। চলতি নারী লিগে পাঁচ ম্যাচ খেলে পাঁচটিতেই ম্যাচ সেরা হওয়ার কীর্তি গড়েছেন তিনি; যার মধ্যে প্রথমটিতে যৌথভাবে এবং বাকি চারটিতে এককভাবে। লিগে পাঁচ ম্যাচে তাঁর গোল সংখ্যা এখন ১৯টি। আগের ম্যাচে অসুস্থ শরীর নিয়ে করেছিলেন চারটি গোল। ওই ম্যাচের আগের ম্যাচেও শামসুন্নাহার ৪ গোল পেয়েছিলেন।

আজ ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি জানিয়ে শামসুন্নাহার বলেন, ‘আমাদের জন্য এই ম্যাচ ছিল চ্যালেঞ্জ। আমার গোলে জিতেছি, ভালো লাগছে। পাঁচ ম্যাচেই সেরা হয়েছি। চার ম্যাচে টানা সেরা হওয়ার পরই মনে হয়েছিল এটা রেকর্ড।’

শামসুন্নাহারকে আটকাবে কে
প্রথম আলো

ক্যারিয়ারে হেডে বেশি গোল করলেও আজকের বাঁ পায়ের গোলটি নিয়ে তিনি তৃপ্ত। তাঁর ভাষ্য, ‘আজকে বাঁ পায়ের গোল। টাফ ম্যাচ থাকায় এই গোলটিই সেরা। আরও ভালো করতে চাই। আরও ভালো করলে গোল আসবে।’

আরও পড়ুন

ফরাশগঞ্জ অধিনায়ক মারিয়া মান্দা পা মাটিতেই রাখছেন। তাঁর কথায়, ‘লিগে সব ম্যাচ শেষ হয়নি। কঠিন ম্যাচ আছে। কঠিন হবে শিরোপা জেতা। তবে আমরা আত্মবিশ্বাসী। সেনাবাহিনী দলে বেশির ভাগই জাতীয় দলের। ওদের হারাতে পেরেছি।’

পরপর দুই ম্যাচে ৪ গোল করে করেছিলেন শামসুন্নাহার
প্রথম আলো

ম্যাচসেরার পুরস্কার হিসেবে ১০ হাজার টাকা পাওয়ার পাশাপাশি এদিন এক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ভালোবাসায়ও সিক্ত হন শামসুন্নাহার। ওই কর্মকর্তা শামসুন্নাহারের হাতে গুঁজে দেন ৫০০ টাকার একটা নোট। মাঠের লড়াইয়ে এমন বিধ্বংসী রূপ ধরে থাকলে শামসুন্নাহার যে এবার লিগের সব রেকর্ড ভেঙে দেবেন তাঁর ইঙ্গিত মিলছে।

আরও পড়ুন