ঋতুপর্ণাদের না খেলিয়ে ১০ গোল হজমের দায় নিলেন বাটলার
অভিজ্ঞদের বেঞ্চে রেখে উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তারুণ্যনির্ভর একাদশ নামিয়েছিলেন পিটার বাটলার। ফলটা হয়েছে ভয়াবহ—এশিয়ান গেমসে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছে ১০-০ গোলে। তাই ম্যাচের পর প্রশ্ন উঠেছে, এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কেন অভিজ্ঞদের বাইরে রেখে একাদশ সাজালেন কোচ?
বাটলারের ব্যাখ্যা, এটি হঠাৎ নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দিয়ে ভবিষ্যতের দল তৈরি করতে চান তিনি। তবে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে বড় হারের দায়ও এড়িয়ে যাননি বাংলাদেশ কোচ।
ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা, মুনকি আক্তার ও শামসুন্নাহারের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের বেঞ্চে রেখেছিলেন বাটলার। অন্যদিকে অভিষেক হয়েছে অর্পিতা বিশ্বাসের। এত বড় মঞ্চে তরুণদের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে যে প্রশ্ন উঠতে পারে; বাটলার সেটি মানলেও এর ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি।
ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে কোচ বলেন, ‘আমাদের দলে অনেক তরুণ খেলোয়াড় রয়েছে। আমাদের এমন একজন মেয়ে রয়েছে, যার বয়স মাত্র ১৫ বছর। এখন তরুণ খেলোয়াড়দের বিকাশের নীতি বাস্তবায়ন করা সঠিক নাকি ভুল—হয়তো অনেকেই আমাদের কাজের এই উন্নয়নমূলক দিকটি পছন্দ করছেন না। তবে আপনাকে বুঝতে হবে যে আমাদের নিজস্ব কোনো স্বীকৃত লিগ নেই। আমি কোনো অজুহাত দিচ্ছি না, কারণ আজকের এই ফলাফলের পুরো দায় আমি নিচ্ছি; যেহেতু তারা আমার খেলোয়াড়।’
শুধু তরুণদের খেলানোকেও হারের একমাত্র কারণ মনে করেন না বাটলার। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের শক্তির পার্থক্যও তিনি স্পষ্ট করেছেন। প্রতিপক্ষের গতি ও মানের সঙ্গে বাংলাদেশের মেয়েরা এখনো অভ্যস্ত নন। বাটলারের মতে, ‘তাদের গতির সঙ্গে আমাদের মেয়েরা অভ্যস্ত নয়। এই মানের দলের বিপক্ষে খেলার মতো আমরা এখনো প্রস্তুত নই।’
ম্যাচের প্রথমার্ধেই সাত গোল হজম করে বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধে খেয়েছে আরও তিন গোল। তবে বিরতির পর দলের খেলায় সামান্য উন্নতি দেখেছেন বাটলার। তাঁর কাছে উত্তর কোরিয়া ম্যাচের ফলের চেয়ে সামনে থাকা মিয়ানমার ম্যাচই বাংলাদেশ নারী দলের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ, ‘১-০ বা ১০-০—ফলটা এখন বড় বিষয় নয়। আমাদের মূল লক্ষ্য মিয়ানমার ম্যাচ।’
দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষেও বাংলাদেশের সামনে কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে। সেই ম্যাচেও একই ধরনের পরিস্থিতি হতে পারে বলে মনে করেন বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার।