যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানে হামলা চালানোর পর যুদ্ধ শুরু হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। এর মধ্যে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরান এবার বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারে, তবে ‘নিজেদের জীবন এবং নিরাপত্তার স্বার্থে’ যুক্তরাষ্ট্রে তাদের খেলা হয়তো ঠিক হবে না। এরপর বিশ্বকাপে ইরানের ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে মেক্সিকোয় আয়োজনের বিষয়ে ফিফার সঙ্গে আলোচনা শুরুর কথা গত পরশু জানান ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ।
কিন্তু ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস জানিয়েছে, বিশ্বকাপে ইরানের ম্যাচগুলো মেক্সিকোয় সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে না ফিফা। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, এই প্রস্তাব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়নি এবং এমন পদক্ষেপ কার্যকরযোগ্য নয়। ইতিমধ্যে ভেন্যুগুলোর জন্য টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে এবং এটি অন্যান্য অংশগ্রহণকারী দলের ওপরও প্রভাব ফেলবে।
মেক্সিকোয় নিযুক্ত ইরান দূতাবাসের এক্স হ্যান্ডলে গত পরশু করা পোস্টে মেহদি তাজ বলেন, ‘ট্রাম্প যখন নিজেই স্বীকার করছেন যে তিনি আমাদের জাতীয় দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছেন না, তখন আমরা অবশ্যই আমেরিকা সফরে যাব না। ইরানের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো মেক্সিকোয় আয়োজনের বিষয়ে আমরা ফিফার সঙ্গে আলোচনা করছি।’
আগামী ১১ জুন শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। ‘জি’ গ্রুপে ইরানের তিন প্রতিদ্বন্দ্বী—বেলজিয়াম, মিসর ও নিউজিল্যান্ড। লস অ্যাঞ্জেলসে ১৫ ও ২১ জুন যথাক্রমে নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়ামের মুখোমুখি হবে ইরান। ২৬ জুন সিয়াটলে মিসরের মুখোমুখি হবে তারা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নিজ নিজ গ্রুপে দ্বিতীয় হলে ৩ জুলাই ডালাসে পরের রাউন্ডের নকআউট ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে ইরানের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ এ অনিশ্চয়তার কথা জানান। এরপর ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ দানিয়ামালি গত সপ্তাহে রাষ্ট্রীয় টিভিকে বলেন, ‘যে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার আমাদের নেতাকে হত্যা করেছে, কোনো পরিস্থিতিতেই তাদের দেশে আমরা বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারি না।’
এর আগে ১১ মার্চ ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছিলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নিয়ে বৈঠকে তিনি আশ্বাস পেয়েছেন যে ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। কিন্তু ইনফান্তিনোর এই প্রতিশ্রুতির দুই দিন পর নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরান জাতীয় ফুটবল দলকে বিশ্বকাপে স্বাগত। কিন্তু তাদের নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করলে সেখানে থাকা তাদের জন্য উপযুক্ত হবে বলে আমি সত্যিই মনে করি না।’
ট্রাম্পের পোস্টে স্পষ্ট নয়, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের নিরাপত্তাঝুঁকির কথা বলেছেন নাকি নিজ দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তবে ইরান ফুটবল ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবও দিয়েছে। দেশটির জাতীয় ফুটবল দলের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘নিশ্চিতভাবে কেউ ইরান জাতীয় দলকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিতে পারবে না। বরং বাদ পড়তে পারে সেই দেশ, যারা শুধু “আয়োজক” নামটি বহন করে, কিন্তু এই বৈশ্বিক আসরে অংশ নেওয়া দলগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সক্ষমতা নেই।’
ইরান বিশ্বকাপে না খেললে তাদের জায়গায় কারা খেলতে পারে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র ক্ষমতা ফিফার। যদিও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) সাধারণ সম্পাদক উইন্ডসর জনের দাবি, ইরান বিশ্বকাপে খেলবে বলেই তাঁরা এখন পর্যন্ত জানেন, ‘আজ পর্যন্ত তারা আমাদের যা জানিয়েছে, তাতে তারা বিশ্বকাপে যাচ্ছে বলেই জানি।’