চিরবিদায় নিলেন ক্রীড়াঙ্গনের মোস্তফা কামাল
আজকের সকালটা বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য ছিল বিষণ্নতার। অনন্তলোকে পাড়ি দিয়েছেন ক্রীড়াব্যক্তিত্ব মোস্তফা কামাল। আজ রোববার ভোরে রাজধানীর শান্তিনগরে নিজ বাসভবনে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা ও কিডনির সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছিলেন দীর্ঘদিন। শেষ পর্যন্ত আজ থামল সেই লড়াই। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর।
মোস্তফা কামাল শুধু একজন সংগঠক ছিলেন না, তিনি ছিলেন নামী ক্রীড়াবিদও। নোয়াখালীতে জন্ম নেওয়া এই মানুষ ষাটের দশকে ঢাকার খেলার মাঠকে মাতিয়ে রেখেছিলেন। তাঁর ফুটবল ও ভলিবল ক্যারিয়ারের দিকে তাকালে চোখে পড়ে এক সোনালি অধ্যায়।
১৯৬২ থেকে ১৯৬৫ পর্যন্ত মোস্তফা কামাল দাপটের সঙ্গে ঢাকার প্রথম বিভাগ ফুটবলে খেলেছেন আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবে। এরপর ১৯৬৬ সালে নাম লেখান ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে। সাদা–কালো জার্সিতে কাটানো চার বছরের মধ্যে দুবারই তিনি লিগ চ্যাম্পিয়নের স্বাদ পেয়েছেন।
১৯৬৬ সালের আগা খাঁন গোল্ডকাপে মোস্তফা কামাল যখন মোহামেডানের জার্সিতে মাঠে নামতেন, তাঁর পাশে থাকতেন জাকারিয়া পিন্টু, প্রতাপ শংকর হাজরা, তোরাব আলী কিংবা বশীর–জহিরুল হকদের মতো কিংবদন্তিরা। আজ সেই সোনালি সময়ের আরও একটি পাতা ঝরে গেল।
শুধু ফুটবল নয়, ভলিবল কোর্টেও মোস্তফা কামাল ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। ১৯৬৩ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান ভলিবল দলের অপরিহার্য সদস্য ছিলেন তিনি এবং ১৯৬৮ সালে নেতৃত্ব দিয়েছেন অধিনায়ক হিসেবে।
মাঠের বাইরে মোস্তফা কামাল ছিলেন এক অত্যন্ত অমায়িক ও সাদামনের মানুষ। তাঁর সদালাপী ব্যবহারের কারণে ছোট–বড় সবাই তাঁকে শ্রদ্ধা করত। বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসপিএ) আজীবন সদস্য হিসেবে সংবাদকর্মীদের কাছেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত আপনজন। বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের সহসভাপতি হিসেবে তিনি নতুন প্রজন্মকে বারবার অনুপ্রাণিত করেছেন।
আজ বাদ জোহর শান্তিনগর ইস্টার্ন প্লাস শপিং মলে মোস্তফা কামালের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর মরদেহ ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে আনার কথা। রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন এই গুণী মানুষ।
মোস্তফা কামালের প্রয়াণে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নেমেছে শোকের ছায়া। শোক জানিয়েছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা মোহামেডান, বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠন।