দেশের ফুটবলে আবার জ্বলবে শুকতারা

শুকতারা যুব সংসদ স্পোর্টিং ক্লাবশুকতারার সৌজন্যে

নারায়ণগঞ্জের ফুটবল মানেই একসময় ছিল তারুণ্যের জোয়ার আর জাতীয় দলের পাইপলাইন। সেই ঐতিহ্যের অন্যতম নাম ‘শুকতারা যুব সংসদ’। ২০০৯-১০ মৌসুমে দেশের শীর্ষ পেশাদার ফুটবল লিগে নাম লিখিয়েও এক আসর পরই অবনমিত হয়ে দৃশ্যপট থেকে হারিয়ে গিয়েছিল দলটি। দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে আবারও দেশের শীর্ষ ফুটবলে ফিরছে সেই শুকতারা। ২৫ জানুয়ারি কমলাপুর স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের (বিসিএল) মাধ্যমে পেশাদার ফুটবলের দ্বিতীয় স্তরে তাদের এই নতুন পথচলা শুরু হচ্ছে।

মূলত নারায়ণগঞ্জের স্থবির হয়ে পড়া ফুটবলে প্রাণ ফেরাতেই শুকতারার এই প্রত্যাবর্তন। ৭-৮ বছর ধরে জেলায় কোনো স্থানীয় লিগ নেই। মাঠসংকট আর কার্যকর উদ্যোগের অভাবে ঝিমিয়ে পড়া এই ফুটবল নিয়ে চিন্তিত ছিলেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোজাম্মেল হক তালুকদারের ছেলে এবং বর্তমান সমন্বয়ক মেহেবুবুল হক তালুকদার জানান, নারায়ণগঞ্জের ফুটবলকে আবার সামনে এগিয়ে নিতেই তাঁরা চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের জন্য দল গড়েছেন। তাঁর কথায়, ‘মাঠসংকটসহ নানা কারণে কয়েক বছর ধরে নারায়ণগঞ্জে লিগ হয় না। কিন্তু আমরা খেলতে চাই। সেই আগ্রহ থেকেই চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য দল গড়া।’

চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব লাইসেন্সিং শেষে ১৫ জানুয়ারি দলবদলও শেষ করেছে ক্লাবটি। বিসিএলের জন্য তারা ৩৫ সদস্যের একটি দল গঠন করেছে, যার মধ্যে ২৫ জনের মতো খেলোয়াড় নারায়ণগঞ্জের স্থানীয়। দলে আছেন পাঁচজন উদীয়মান বয়সভিত্তিক খেলোয়াড়ও। জেলার ফুটবলের হারানো গৌরব ফেরাতে স্থানীয় প্রতিভাকেই মূল শক্তি হিসেবে বেছে নিয়েছে শুকতারা। এই মিশনের কারিগর হিসেবে প্রধান কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন নারায়ণগঞ্জেরই ঘরের ছেলে এবং জাতীয় দলের সাবেক তারকা ডিফেন্ডার ওয়ালী ফয়সাল।

নিজের শহরের ক্লাবের দায়িত্ব পেয়ে ওয়ালী ফয়সাল বলেন, একসময় জাতীয় দলে একসঙ্গে নারায়ণগঞ্জের ৫-৭ জন খেলোয়াড় থাকতেন, কিন্তু এখন আছেন মাত্র ২ জন—তপু বর্মণ ও মোহাম্মদ হৃদয়। তাঁর কথায়, নারায়ণগঞ্জের ফুটবল এখন বিলুপ্তির পথে। অনেকটা সোনার হরিণ হয়ে গেছে ফুটবল। শুকতারা ক্লাব স্থানীয় ছেলেদের জন্য বড় একটা সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে, যা কাজে লাগিয়ে নারায়ণগঞ্জের ছেলেরা আবার জাতীয় স্তরে ওঠার একটা সিঁড়ি পেল।

নারায়ণগঞ্জের ফুটবল ঐতিহ্য ফেরানোর নতুনভাবে শুরু করছে শুকতারা
শুকতারার সৌজন্যে

ওয়ালীর বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জের ছেলেদের স্কিল খুব ভালো এবং সঠিক পরিশ্রমের মাধ্যমে তাঁরা আবার নিজেদের প্রমাণ করতে পারবেন। ওয়ালী ফয়সাল এর আগে বাংলাদেশ লিগে চট্টগ্রাম আবাহনীর সহকারী কোচ ছিলেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর ফুটবল দলকে কোচিং করানোর পাশাপাশি বর্তমানে ঢাকার নারী লিগে পুলিশ দলের কোচের দায়িত্বেও আছেন। সেই অভিজ্ঞতা তিনি এবার কাজে লাগাতে চান শুকতারার হয়ে।

শুকতারা ক্লাবের ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। এই ক্লাব থেকেই উঠে এসেছিলেন সম্রাট হোসেন এমিলি, গোলাম গাউস, আবু জোবায়ের নিপু, জাকির হোসেন, সালাহউদ্দিন (প্রয়াত), রেজাউল করিম লিটনদের মতো ফুটবলাররা। সেই সোনালি অতীতকে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আপাতত ক্লাবের সদস্যদের নিজস্ব অনুদানে গঠিত তহবিলে চলছে কার্যক্রম। তবে পেশাদারত্বের লড়াইয়ে দীর্ঘ মেয়াদে টিকে থাকতে ক্লাবটি এখন পৃষ্ঠপোষকের সন্ধান করছে। নারায়ণগঞ্জের ফুটবল ঐতিহ্য ফেরানোর নতুনভাবে শুরু করা লড়াইয়ে তারা টিকে থাকতে চায়।

এবার বিসিএলে খেলছে খেলাঘর সমাজকল্যাণ সমিতি আর চট্টগ্রাম সিটি ফুটবল একাডেমিও। ১০ দলের লিগে বাকি ৭টি দল ওয়ারী, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স, বিআরটিসি, লিটল ফ্রেন্ডস, সিটি ক্লাব, ঢাকা রেঞ্জার্স ফুটবল ক্লাব ও চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেড। চট্টগ্রাম আবাহনী গত মৌসুমে শীর্ষ লিগ থেকে অবনমিত হয়ে গিয়েছিল।

আরও পড়ুন