আসিয়ান কাপের অপেক্ষায় জাতীয় দল, খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও প্রস্তুতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় ডুলি
সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ফিফা উইন্ডো ও নভেম্বরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। কিন্তু কাগজ-কলমে ফিফা উইন্ডোতে কার বিপক্ষে বা কোথায় খেলা হবে—বাংলাদেশের এখনো কোনো কিছুই চূড়ান্ত নয়। সব মিলিয়ে জাতীয় ফুটবল দলকে ঘিরে এক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের উইন্ডোয় আসিয়ান কাপ বা প্রীতি ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত কী হবে, বাফুফে এখনো জানে না। অন্যদিকে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের প্রথম রাউন্ডের সূচি দেওয়া আছে ২৮ ও ২৯ আগস্ট। কিন্তু বসুন্ধরা কিংস ও আবাহনী লিমিটেড এখনো ফিফার দলবদল নিষেধাজ্ঞামুক্ত হতে না পারায় ঘরোয়া ফুটবল নিয়ে নানা জটিলতা আর অনিশচয়তা তৈরি হয়েছে।
দলগুলো এখনো অনুশীলনেই নামতে পারেনি। খেলোয়াড়েরা অনেক দিন ধরে আছেন অনুশীলনের বাইরে, যা মোটেও সুখকর মনে করছেন না বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ টমাস ডুলি।
আজ বাফুফে ভবন থেকে বেরোনোর সময় সাংবাদিকেরা নানা প্রশ্ন ছুড়ে দেন ডুলিকে। সেসবের উত্তরে জাতীয় দলের প্রস্তুতি নিয়ে চরম দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ, ‘সেপ্টেম্বর-অক্টোবর এবং নভেম্বরে আমাদের ফিফা উইন্ডো রয়েছে। আগামী মাসে আসিয়ান কাপে খেলার একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কিন্তু সেটি এখনো চূড়ান্ত নয়। আমরা আসিয়ানে খেলতে চাই এবং আসিয়ানের আয়োজকেরাও (ফিফা) আমাদের পেতে আগ্রহী, যা বেশ আনন্দের। তবে কাগজে-কলমে না হওয়া পর্যন্ত এটা হবেই বলা যাচ্ছে না।’
দলীয় প্রস্তুতির মূল বাধা হিসেবে খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ঘরোয়া লিগের অনিশ্চয়তাকে দায়ী করেছেন জাতীয় দলের কোচ। যুক্তিও দেন, ‘একটি পেশাদার ক্লাবের প্রাক্-মৌসুম প্রস্তুতি সাধারণত ছয় সপ্তাহের হয় প্রায় ফিট হয়ে ওঠার জন্য, আর শতভাগ ফিট হতে আরও পাঁচ থেকে আটটি ম্যাচ লাগে। আর মাত্র চার সপ্তাহ পর ফিফা উইন্ডো, কিন্তু খেলোয়াড়েরা চার-পাঁচ সপ্তাহ ধরে অনুশীলনের বাইরে। লিগ কবে শুরু হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে, যা প্রস্তুতির জন্য সহায়ক নয়। আমরা হয়তো ফিফা উইন্ডোর সময় খেলোয়াড়দের পাব, যা আমাদের অনুশীলনের জন্য মাত্র তিন বা চারটি সেশন সময় দেবে।’
একপর্যায়ে আক্ষেপ ঝরে কোচের কণ্ঠে, ‘কোনো কিছুই আমাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী হচ্ছে না। আমি চেয়েছিলাম দল অনুশীলনে থাকুক এবং অন্তত ছয়-সাতটি ম্যাচ খেলে আসুক। জাতীয় দলে এসে কোনো খেলোয়াড়কে ফিট করে তোলা সম্ভব নয়। কারণ, সেই সময়টুকু থাকে না। কিন্তু এখন এই বাস্তবতার সাথেই আমাদের মানিয়ে নিতে হবে।’
আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত আসিয়ান কাপ। তা থেকে ভারত সরে যাওয়ায় ফিফা বাংলাদেশের কাছে জানতে চেয়েছিল বাংলাদেশের আগ্রহ আছে কি না আসিয়ানে খেলতে। গতকাল বাফুফে সম্মতি দিয়েও দিয়েছে। এখন ফিফার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা। আসিয়ানে সুযোগ পেলে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো শক্ত প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশকে।
এসব দলের বিপক্ষে খেলে সাফের প্রস্তুতি নিয়ে ডুলির কথা, ‘ওরা আমাদের চেয়ে শক্তিতে এগিয়ে। শক্তিশালী দলগুলোর বিপক্ষে খেললে আমরা ভুলগুলো শুধরে নিতে পারব। তা ছাড়া আসিয়ান কাপে আমরা বাংলাদেশি সমর্থকদের পাশে পাব। সাফে ভালো করতে প্রস্তুতি একদম নিখুঁত হতে হবে। শতভাগ ফিট থাকলে খেলোয়াড়দের ওপর আমার পুরো আস্থা আছে যে তারা চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে। আসিয়ান কাপে আমরা আন্ডারডগ থাকব, যা আমাদের কিছুটা বাড়তি সুবিধাও এনে দিতে পারে।’
তবে আসিয়ান কাপে খেলা না হলে বিকল্প ভাবনাও আছে। সেটা এত দিনে সবারই জানা। কোচের কথায়, ‘আসিয়ান কাপে আমাদের খেলার সুযোগ না হলে নিজেদেরই টুর্নামেন্টের আয়োজন করতে হবে। কিরগিজস্তান বা লেবাননের মতো দলগুলোর বিপক্ষে শতভাগ ফিট না থেকে খেলা এবং বাজেভাবে হারাটা দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে না। আশা করি, যত দ্রুত সম্ভব বিষয়টি পরিষ্কার হবে।’
জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরুর সময়সূচি নিয়ে বাফুফে এখনো সিদ্ধান্তহীন এবং অনেকটা নমনীয়। এ প্রসঙ্গে ডুলির মন্তব্য, ‘বাংলাদেশ লিগের সূচির ওপর আমাদের নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে ভালো। কারণ, তারা লিগ কিছুটা আগে থামিয়ে অন্তত বাড়তি ৭ দিন অনুশীলনের সুযোগ দেয়।
খেলোয়াড়দের চার সপ্তাহ আগে পেলে দারুণ হতো, তবে আপাতত লিগ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর আমাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।’