লিভারপুলের মালিকানায় এবার অ্যামাজনের জেফ বেজোস
লিভারপুলের মালিকানায় যুক্ত হলেন বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি জেফ বেজোস। অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা অবশ্য সরাসরি এককভাবে ক্লাবটির অংশীদার হচ্ছেন না। তাঁর নেতৃত্বাধীন একটি বিনিয়োগ তহবিলসহ একদল বিনিয়োগকারী ইংলিশ ফুটবল ক্লাবটির সংখ্যালঘু মালিকানা কিনেছেন।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে লিভারপুল। ক্লাবটির মালিক প্রতিষ্ঠান ফেনওয়ে স্পোর্টস গ্রুপ (এফএসজি) জানিয়েছে, ‘১৮৯২ হোল্ডিংস’ নামের একটি কনসোর্টিয়ামের কাছে লিভারপুলের সংখ্যালঘু মালিকানা বিক্রির জন্য চূড়ান্ত চুক্তি হয়েছে।
এই কনসোর্টিয়ামের নেতৃত্বে আছেন ব্রিটিশ ব্যবসায়ী অমিত ভাটিয়া। তাঁর সঙ্গে বিনিয়োগ করেছে মিত্তাল ফ্যামিলি ট্রাস্ট, কে৫ স্পোর্টস ও ইই ক্যাপিটাল। কে৫ স্পোর্টস তহবিলের প্রধান বিনিয়োগকারী বেজোস। ইই ক্যাপিটাল আবার ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা এদুয়ার্দো সাভেরিন ও তাঁর স্ত্রী এলেইন সাভেরিনের পারিবারিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান।
অর্থাৎ লিভারপুলের মালিকানার সঙ্গে এবার একই সুতায় জড়িয়ে গেল অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা বেজোস ও ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা সাভেরিনের নামও।
ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, চুক্তিতে লিভারপুলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মালিকানা হাতবদল হচ্ছে এবং এর মূল্য দেড় বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি। সেই হিসাবে ক্লাবটির মোট মূল্যায়ন দাঁড়াচ্ছে পাঁচ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি। তবে এফএসজিই সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানা ও ক্লাবের পরিচালনাগত নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখছে। ২০১০ সালে প্রায় ৩০ কোটি পাউন্ডে লিভারপুল কিনেছিল এফএসজি।
নতুন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভারতের ইস্পাত টাইকুন লক্ষ্মী মিত্তালও আছেন। তাঁর মেয়ে ভনিশা মিত্তাল ভাটিয়ার স্বামী অমিত ভাটিয়াই এবার লিভারপুলে বিনিয়োগকারী কনসোর্টিয়ামটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই বিনিয়োগের পর ভাটিয়া লিভারপুলের নতুন ভাইস চেয়ারম্যান হবেন এবং সম্প্রসারিত পরিচালনা পর্ষদেও যোগ দেবেন। তাঁর সঙ্গে ইই ক্যাপিটালের এলেইন সাভেরিন ও কে৫ স্পোর্টসের ব্রায়ান বমও বোর্ডে থাকবেন। তবে বেজোস নিজে লিভারপুলের পরিচালনা পর্ষদে থাকছেন না।
এফএসজির প্রেসিডেন্ট মাইক গর্ডন বলেছেন, লিভারপুল সব সময়ই শুধু একটি মৌসুমের কথা না ভেবে দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থকে সামনে রেখে সিদ্ধান্ত নেয়। নতুন বিনিয়োগকারীদের দর্শনের সঙ্গেও সেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মিল খুঁজে পেয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
ভাটিয়ার ভাষায়, এমন মর্যাদার একটি ক্লাবের অংশীদার হওয়ার সুযোগ পাওয়া তাঁর জন্য ‘বড় সম্মানের’। তিনি বলেছেন, লিভারপুল ও ক্লাবটির নেতৃত্বের ওপর তাঁদের গভীর বিশ্বাস আছে বলেই এই বিনিয়োগ।