লেম্যানের পরিচয় আগে একটু দেওয়া যাক। জার্মানির হয়ে দুটি বিশ্বকাপ খেলা লেম্যান সেরা সময় কাটিয়েছেন আর্সেনালে (২০০৩–২০০৮)। আর্সেনালের বিখ্যাত সেই ‘ইনভিন্সিবলস’ দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি।

আর্সেনালে অপরাজিত থেকে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ জয়ের সে মৌসুমে সব ম্যাচ খেলেছিলেন। চ্যাম্পিয়নস লিগে সর্বোচ্চসংখ্যক ম্যাচে ‘ক্লিন শিট’ ধরে রাখার রেকর্ডও তাঁর দখলে (আট ম্যাচ)। সর্বোচ্চ ৮৫৩ মিনিট গোল হজম না করার রেকর্ডও নিজের নামে লিখিয়েছেন লেম্যান।

১৯৯৬–৯৭ ও ২০০৫–০৬ মৌসুমে উয়েফার ক্লাবসেরা গোলকিপারও হয়েছেন তিনি। ২০১১ সালে খেলা ছাড়ার পর আর্সেনালের গোলকিপিং কোচ, এরপর অগসবুর্গের সহকারি কোচ এবং তারপর গত বছর পর্যন্ত হার্থা বার্লিনের বোর্ড সদস্য ছিলেন লেম্যান। আর্সেনাল ছাড়া এসি মিলান ও বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের মতো ক্লাবেও খেলেছেন।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের পাশাপাশি জিতেছেন বুন্দেসলিগা ও ইতালিয়ান সিরি আ। খেলোয়াড়ি জীবনে বেশ রগচটা হিসেবে ‘সুনাম’ ছিল তাঁর। দেখা গেল, খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হওয়ার পরও সে ‘সুনাম’ রক্ষায় বেশ কাজ করে যাচ্ছেন!

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, সেই প্রতিবেশীর সঙ্গে বেশ আগে থেকেই বাদানুবাদ হয়ে আসছে লেম্যানের। সমস্যা দুটি—প্রতিবেশী একটি গ্যারেজ বানিয়েছেন, আর এই গ্যারেজ তাঁর জমির ওপর বানানো হয়েছে বলে বেশ আগে থেকেই দাবি করে আসছেন লেম্যান।

আরেকটি সমস্যা হলো, প্রতিবেশীর বানানো গ্যারেজের কারণে বাসা থেকে দৃষ্টিনন্দন লেক স্টানবার্গের নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে পারছেন না লেম্যান। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, যন্ত্রচালিত করাত দিয়ে লেম্যান সেই প্রতিবেশীর ঘরের ছাদের কিছু জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন এবং ‘রাগে গজরাচ্ছিলেন’।

default-image

বিল্ডের প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, হামলার সময় প্রতিবেশীর বাসার নিরাপত্তা ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করেও পারেননি লেম্যান। এতে বাড়ির মালিক লেম্যানের আক্রমণ সরাসরি দেখতে পেয়েছেন। আর্থিক অঙ্কে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা যায়নি। আনুমানিক কয়েক হাজার পাউন্ডের ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।

পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করছে। ৮ হাজার ৫০০ পাউন্ড মূল্যের ব্যক্তিগত সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত করার দায়ে লেম্যানের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে।

আর্সেনালে থাকতে জার্মানির বাভারিয়া অঞ্চলে ৪২ লাখ পাউন্ডে এই বাড়ি কিনেছিলেন লেম্যান। লেক স্টানবার্গের পাশেই তাঁর বাড়িটি।

গত বছর হোয়াটসঅ্যাপে বর্ণবাদী মন্তব্য ফাঁস হওয়ার পর হার্থা বার্লিনের বোর্ড সদস্যের পদ থেকে ছাঁটাই হন লেম্যান। মেইল অনলাইন যোগাযোগ করলেও প্রতিবেশীর বাড়িতে হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য পায়নি লেম্যানের কাছ থেকে।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন