যে গান গায়ে কাঁটা দিয়েছিল ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের
গ্যালারিতে হাজারো কণ্ঠের প্রতিধ্বনি, মাঠে খেলোয়াড়দের বল দখলের লড়াই। ফুটবলের ধ্রুপদি সুর খানিকটা বিরতি পায় রেফারির বাঁশিতে, কিন্তু সুরের রেশ রয়ে যায় গ্যালারিতে। দর্শকদের সুরে সুরে বিরতিও হয়ে উঠতে পারে মনোমুগ্ধকর। গতিশীল ফুটবলের সেই বিরতি দ্বিগুণ হয়েছে হাইড্রেশন ব্রেকের কল্যাণে। দর্শকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া নাতিদীর্ঘ বিজ্ঞাপন বিরতি যেখানে বাড়িয়েছে বিরক্তি, সেখানে এক পশলা বৃষ্টি হয়ে এসেছে গান।
মার্কিন সংস্কৃতির অংশ হয়ে হাইড্রেশন ব্রেক, ফাইনালে হাফ টাইম শোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দলের নিজস্ব গান। প্রথম দুটোকে ছুড়ে ফেললেও দর্শকেরা বেশ আপন করে নিয়েছেন গানগুলো। কারণ, প্রতিটি গানের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে সমর্থকদের আবেগ, তাই তো এক সুরে গলা মেলানোতে নেই ক্লান্তি।
বিশ্বকাপের আগেই ৭৫০টি গানের এক বিশাল তালিকা তৈরি করেছিল ফিফার ‘স্টেডিয়াম এন্টারটেইনমেন্ট টিম’। প্রতিটি দেশের সুযোগ ছিল সেখান থেকে গান বেছে নেওয়ার। কেউ কেউ আবার যোগ করেছে নিজেদের পছন্দের গানও।
তিনটি করে গান বেছে নেওয়ার সুযোগ ছিল দলগুলোর। কেউ কেউ অবশ্য থেমেছে দুটিতে। বাজানোর সময়টাও একেবারে ঠিক করা—একটি বাজবে খেলোয়াড়দের নাম ঘোষণার সময়, আরেকটি গা গরম করার সময়, অন্যটি গোলের পর।
বিশ্বকাপের শুরুতে ঠিক করা গানই যে বাজছে, তা কিন্তু নয়। বরং গানে যারা গলা মেলাচ্ছে, তারাই ঠিক করছে, কোন গান বাজবে মাঠে। ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রে যেমন সমর্থকেরাই ঠিক করে দিয়েছেন, কোন গান বাজবে মাঠে।
ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর দর্শকেরা গলা মিলিয়েছিলেন ওয়েসিসের ‘ওয়ান্ডারওয়াল’ গানের সঙ্গে। সেই গান গায়ে কাঁটা দিয়েছিল ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের। হ্যারি কেইন তো বলেই বসেছেন, ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা মুহূর্ত ছিল গানের সুরে গলা মেলানো। সেই গান এখন ইংল্যান্ড ম্যাচের নিয়মিত দৃশ্য।
জুড বেলিংহামের জন্য তো আলাদা একটা গানই লেখা আছে বিটলসের। বেলিংহাম গোল করলেই বাজে ‘হেই জুড’, গান শুনলেই জুড মাইক রেখে ছুটে যান দর্শকদের কাছে। হেই জুড এখন যতটা না বিটলসের, তার চেয়ে বেশি জুড বেলিংহামের।
নিল ডায়মন্ডের ‘সুইট ক্যারোলিন’-এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইংলিশ ভক্তদের আবেগ। করোনার দীর্ঘ বিরতির পর যখন মাঠে ফিরেছিলেন দর্শকেরা, তখনো পাশাপাশি বসার অনুমতি ছিল না। হাত ধরার অনুমতি ছিল না। ‘হ্যান্ডস/ টাচিং হ্যান্ডস/ রিচিং আউট/ টাচিং মি, টাচিং ইউ’ গানের লাইনগুলো আর্তনাদ থেকে পরিণত হয়েছে দর্শকদের আশার প্রতীকে।
আর্জেন্টিনা বেছে নিয়েছে লস ফ্যাবুলোসোস ক্যাডিলাকসের ‘এল মাতাদোর’, যেখানে জড়িয়ে আছে লাতিন আমেরিকার রাজনীতির উত্থান-পতন। মেক্সিকো বেছে নিয়েছে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী মারিয়াচি গান, দক্ষিণ কোরিয়ার বিখ্যাত বিটিএস ও কে-পপকে কে না চেনে? আর কিলিয়ান এমবাপ্পে গোল করলেই বেজে ওঠে ডাফ্ট পাঙ্কের ‘ওয়ান মোর টাইম’।
মাঠের লড়াই যখন মুহূর্তের জন্য থমকে যায়, খেলোয়াড়েরা যায় একটু বিরতিতে। সুরে সুরে বিশ্বকাপ তখন হয়ে ওঠে রঙিন। সবাইকে এক সুরে গাথতে, গানের চেয়ে রঙিন আর কীইবা আছে?