রিয়ালে এস্পির মার ‘শেষ রাতে’
কথায় আছে, ‘ওস্তাদের মার শেষ রাতে।’ তেমনি কার্লোস এস্পির মারও। তবে রাতের জায়গায় হবে ম্যাচের শেষ মুহূর্ত আর মারের জায়গায় গোল, এতটুকুই যা পার্থক্য। রিয়াল মাদ্রিদও টের পাচ্ছে, এস্পিকে কিনতে তাদের আড়াই কোটি ইউরো তাহলে জলে যায়নি!
গত জুলাইয়ে লেভান্তের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়া খেলোয়াড়ের রেকর্ড গড়ে রিয়ালে যোগ দেন এস্পি। তখন জানা গিয়েছিল, ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার ২১ বছর বয়সী স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড আসলে রিয়াল কোচ জোসে মরিনিওর ‘প্ল্যান বি’। অর্থাৎ নিয়মিত খেলোয়াড়দের দিয়ে গোল আদায় করতে না পারলে তখন এস্পিকে ব্যবহার করবেন। আর এস্পিও যেন বাংলাদেশ পুলিশের বড় কর্মকর্তার সেই পদের মতো দায়িত্ব পালন করছেন। অপরাধী খোঁজার মতো ম্যাচের শেষ মুহূর্তে রিয়ালকে খুঁজে এনে দিচ্ছেন গোল!
গতকাল রাতে এলচের মাঠে লা লিগায় রিয়ালের ম্যাচটাই সাম্প্রতিকতম উদাহরণ। কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং এলচের আত্মঘাতী গোলে ম্যাচে ৩৩ মিনিটেই ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল রিয়াল। কিন্তু ৭১ ও ৮৩ মিনিটে ২টি গোল হজম করে পয়েন্ট ভাগের শঙ্কায় ছিল রিয়াল। বিপদ টের পেয়ে ৮৭ মিনিটে ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ডকে তুলে এস্পিকে মাঠে নামান মরিনিও। ফল হাতেনাতে পেয়েছেন ঠিক চার মিনিট পরই। এমবাপ্পের পাস থেকে যোগ করা (৯০+১) সময়ে এস্পির গোলে শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলে জেতে রিয়াল।
ব্যাপারটা এমন নয় যে বদলি নেমে শেষ মুহূর্তে করা গোলে এই প্রথম মাদ্রিদের ক্লাবটিকে জেতালেন এস্পি। রিয়ালে দ্বিতীয় মেয়াদে কোচ হয়ে ফেরার পর এসপানিওলের বিপক্ষে মরিনিওর প্রথম ম্যাচে জয় এনে দিয়েছিলেন এই এস্পিই। সেটাও ৯০ মিনিটে জয়সূচক গোল করে এবং রিয়ালের হয়ে সেটা ছিল তাঁর অভিষেক ম্যাচ।
অপ্টা জানাচ্ছে, লা লিগায় এবারের মৌসুমে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ৯০ মিনিট বা তার পর যোগ করা সময়ে দুটি জয়সূচক গোল করলেন এস্পি। তবে লিগ যেহেতু কেবল শুরু হলো, তাই আন্দাজ করে নেওয়াই যায়, চলতি মৌসুমে এস্পির শেষ মুহূর্তের ‘মার’ আরও দেখা যাবে। তবে লা লিগার গোটা ইতিহাস বিচারে এস্পি একটি জায়গায় দ্বিতীয়। ভিয়ারিয়ালের অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার আয়োজে পেরেজের পর দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে লিগে দলের প্রথম ছয় ম্যাচে মধ্যে ৯০ মিনিট বা তার পরে ২টি জয়সূচক গোল করলেন এস্পি।
লা লিগা পয়েন্ট তালিকায় এলচে তলানির দল। এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এগিয়ে গিয়েও ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে চাননি মরিনিও। এ কারণে এমবাপ্পের পেছনে বদলি হিসেবে নামান এস্পিকে। দুজনকে একসঙ্গে খেলাতে কৌশল পাল্টানোর পাশাপাশি অন্য কিছু জায়গাও পরিবর্তন করার ঝুঁকিটা নেন মরিনিও। তাতে সফল হওয়ার পর রিয়াল কোচ বলেন, ‘(এস্পি) দারুণ উদ্দীপনা নিয়ে মাঠে নেমেছে, তবে তার সামনে এমন একজন খেলোয়াড় ছিল যে সাধারণ কেউ নয়। তাদের দুজনকে একসঙ্গে খেলানো সহজ নয়...ম্যাচে শেষ দিকে আমি যেসব পরিবর্তন এনেছি, তাতে সব রকম ঝুঁকিই নিয়েছি। কারণ, ড্র আমাদের জন্য যথেষ্ট ছিল না।’
রিয়ালের প্রথম একাদশে এখনো সুযোগ পাননি এস্পি। মরিনিও তাঁকে নিশ্চয়ই আগামী দিনগুলোতে সেই সুযোগ দেবেন? রিয়াল কোচের ভাবনায় আপাতত এ বিষয়টা থাকার কথা নয়। দল ২-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর কীভাবে ২ গোল হজম করে, সেটা নিয়ে ভাবনায় পড়েছেন এই কোচ। শুনুন তাঁর মুখেই, ‘কিছু ম্যাচ দেখে মনে হয় যেন ফল ঠিক হয়ে গেছে...কিন্তু আমরা ম্যাচগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বড় ব্যবধান গড়তে পারছি না। নিজেদের কাজটা শেষ না করায় সহজ ম্যাচগুলোই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।’
মরিনিও তাঁর কথায় এলচের বিপক্ষে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সকে বুঝিয়েছেন। তাতে অবশ্য লা লিগায় কম শক্তিশালী দলের বিপক্ষে তাঁর অপরাজেয় যাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। কোচ হিসেবে লা লিগায় অবনমনে থাকা কোনো দলের বিপক্ষে কখনোই হারেননি মরিনিও। আর গতকাল রাতে তো জয়ই তুলে নিলেন এস্পির কল্যাণে।
লা লিগায় ৬ ম্যাচে পঞ্চম জয়ে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে রিয়াল মাদ্রিদ। ৫ ম্যাচের সব কটি জিতে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা। রিয়ালের সঙ্গে গোল ব্যবধানে এগিয়ে হান্সি ফ্লিকের দল।