কেইনের পেনাল্টি মিস, ইংল্যান্ডকে ভুলের ‘শাস্তি’ দিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন

ইংল্যান্ডের জালে ওইয়ারসাবালের জয়সূচক গোলের ‍মুহূর্তরয়টার্স

ইংল্যান্ড ২-৩ স্পেন

ওয়েম্বলিতে অনেক ভুলের আনন্দময় এক ম্যাচ!

ইংল্যান্ড ২ মিনিটে করা ভুল থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে এগিয়ে গেল ৪০ মিনিটের মধ্যে। তাতে প্রথমার্ধেই দুটি পরিস্কার গোলের সুযোগ নষ্টের ভুল করা স্পেন পিছিয়ে রইল ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। পরের মিনিটে অ্যালেক্স বায়েনার গোলে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা সমতায় ফিরলেও গ্যালারিতে জেগেছে হ্যারি কেইনের পেনাল্টি মিসের আক্ষেপ।

ইংল্যান্ড সেই ভুল থেকে ঘুরে দাঁড়াতে না পারলেও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা পারল। সেটা ৭৪ মিনিটে দুই বদলি খেলোয়াড়ের বোঝাপড়ার কল্যাণে। বায়েনার পাস থেকে মিকেল ওইয়ারসাবালের চিপে বল উড়ল ইংল্যান্ড গোলকিপার জেমস ট্র্র্যাফোর্ডের মাথার ওপর দিয়ে। গোল! শেষ পর্যন্ত ওইয়ারসাবালের সেই গোলেই নেশনস লিগে স্পেন শুভসূচনা করল ৩-২ গোলের জয়ে। ইংল্যান্ড পারল না ২০২৪ ইউরো ফাইনালে সর্বশেষ মুখোমুখির ফল পাল্টাতে।

বিশ্বকাপে তৃতীয় হয়ে ফেরার পর প্রথম ম্যাচেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বাগে পেয়েও শেষ পর্যন্ত হারে ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেলের খুশি হওয়ার কথা নয়। ২-১ গোলে এগিয়ে থাকতে ৫৫ মিনিটে পেনাল্টি মিস করেন কেইন! শেষ বাঁশি বাজার পর টুখেলকে তাই যতটা হতাশ লাগল, স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের মুখে যেন ততটাই স্বস্তির হাসি।

বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর যে এটাই ছিল স্পেনের প্রথম ম্যাচ। সেখানে পিছিয়ে পড়া থেকে ঘুরে দাঁড়ানো জয়ে কোন কোচ মন খারাপ করবেন! তাতে স্পেনের অপরাজিত-যাত্রাও টিকে রইল টানা ৩৯ ম্যাচে।

২ মিনিটে ইংল্যান্ড ডিফেন্ডার মার্ক গেহির ভুলে এগিয়ে যায় স্পেন। পেছনে যে লামিনে ইয়ামাল ওত পেতে ছিলেন টের পাননি। গেহি ঘুরতেই ইয়ামাল বল কেড়ে গোল করে ওয়েম্বলিতে নিজের প্রথম ম্যাচটা স্মরণীয় করে রাখেন। গেহিও হয়তো ভুলবেন না। কারণ ওটা তো এক অর্থে ওয়েম্বলিতে ইয়ামালের প্রথম পদাপর্ণে পাওয়া ইংলিশ ‘উপহার।’

ইংল্যান্ডের একটু রসিক সমর্থকরা পাল্টা খোঁচায় বলতে পারেন, এই ‘উপহার’ পাওয়ার সৌজন্যতায়ই কি ১৮ ও ৩২ মিনিটে ফেরান তোরেস দুটি পরিস্কার সুযোগ নষ্ট করলেন!

গোল করছেন ইয়ামাল। পাশেই গোলটি ‘উপহার’ দেওয়া গেহি
রয়টার্স

প্রথম সুযোগটিতে অবশ্য তোরেসের শট ঠেকিয়ে দেন নিয়মিত গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডের জায়গায় নামা ট্রাফেোর্ড। তবে মাথার ওপর দিয়ে মারার সুযোগ ছিল। পরের শটটি তো বাইরেই মারলেন। স্পেন এ দুটি সুযোগ নষ্ট করার ঠিক চার মিনিট পরই ঘোর কাটে ইংল্যান্ডের।

৩৬ থেকে ৪০ মিনিট, এই চার মিনিটের মধ্যে দুটি গোল পায় টুখেলের দল। একদম সঠিক হিসাবে ইংল্যান্ডের দুটি গোলের মাঝে ব্যবধান ছিল ৩ মিনিট ১২ সেকেন্ড!

প্রতি আক্রমণে জুড বেলিংহামের পাস থেকে গোল করে ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান অ্যান্থনি গর্ডন। এরপরই কেইনের গোল। নিকো ও’রাইলির চিপ থেকে কেইনের ডাইভিং হেড, বল স্পেন লেফট ব্যাক মার্ক কুকুরেয়ার উরু ছুঁয়ে আশ্রয় নেয় জালে। প্রথমে আত্মঘাতী মনে হলেও গোলটা পেয়েছেন কেইনই। তখন কে জানত বিরতির পর ইংলিশদের হতাশার কারণ হবেন এই কেইনই!

ম্যাচের তখন ৫৪ মিনিট। ২-১ গোলে এগিয়ে ইংলিশ সমর্থকরা তখন সর্বশেষ ইউরো ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে এই একই ব্যবধানে হারের প্রতিশোধ নেওয়ার স্বপ্নে বিভোর। ঠিক তখনই বক্সে স্পেন অধিনায়ক রদ্রি মাড়িয়ে দেন বেলিংহামের পা। ভিএআর পেনাল্টির রায় দেওয়ার পর ৫৫ মিনিটে স্পটকিক থেকে বল ক্রসবারে মারেন গত মৌসুম থেকে দারুণ ফর্মে থাকা কেইন! পরে ভিডিও রিপ্লেতে দেখা গেল, শটটি নেওয়ার সময় ইংল্যান্ড স্ট্রাইকারের বাঁ পা একটু পিছলে যায়, ফলে ভারসাম্য হারান।

পেনাল্টি মিসের হতাশায় পুড়েছেন ইংল্যান্ড তারকা কেইন
রয়টার্স

পাঁচ মিনিট পরই বায়েনার গোলে স্পেনের সমতায় ফেরার মূল উৎস ছিল ইংল্যান্ড লেফট ব্যাক নিকো ও’রাইলির ভুল পাস। দুই বছর আগের সেই ইউরোয় স্পেনের জয়সূচক গোল করা ওইয়ারসাবাল এই ম্যাচেও শেষ পর্যন্ত গোল করে জেতান দলকে। আর ইংল্যান্ড ততক্ষণে পুড়ছিল তিনটি ভুলের হতাশায়। গেহি ও নিকো ও’রাইলির ভুল এবং কেইনের পেনাল্টি মিস।