ম্যারাডোনা বেঁচে থাকতে তাঁর কাছের বন্ধু এবং ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেছেন স্টিফেন কেকি। কাল ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে কেকির কাছ থেকে ব্রোঞ্জ দিয়ে বানানো ম্যারাডোনার বিখ্যাত বাঁ পায়ের রেপ্লিকা গ্রহণ করেন মাদুরো। আর্জেন্টিনাকে ’৮৬ বিশ্বকাপ জেতানো মহানায়কের নানা কীর্তিগাথা এবং ফুটবলে তাঁর অবদান ভেনেজুয়েলায় ছড়িয়ে দিতে এখন দেশটি সফর করছেন কেকি। সেই সফরেরই অংশ হিসেবে ভেনেজুয়েলা প্রেসিডেন্টকে উপহারটি দেওয়া হলো।

default-image

কারাকাসের মিরাফ্লোরেসে প্রেসিডেনশিয়াল প্যালেসে উপহারটি নেন মাদুরো। ভেনেজুয়েলা প্রেসিডেন্টের প্রেস বিভাগ থেকে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ম্যারাডোনার বাঁ পায়ের এই রেপ্লিকা ব্রোঞ্জে বানানো। আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলারের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর অংশ হিসেবে উপহারটি সযত্নে রেখে দেবেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট।

নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে ম্যারাডোনাকে স্মরণ করেন মাদুরো, ‘ম্যারাডোনার বন্ধু এবং তার ম্যানেজার স্টিফেন কেকির সঙ্গে সাক্ষাৎটা আনন্দদায়ক ছিল। সোনালি সন্তানের (ম্যারাডোনার) বাঁ পায়ের রেপ্লিকাটি দেওয়ার জন্য তাকে ধন্যবাদ। তার খেলা, সামাজিক সমস্যায় ভোগা, ভেনেজুয়েলার প্রতি ভালোবাসা—এসব নিয়ে প্রচুর স্মৃতি আছে। ডিয়েগো চিরকালীন!’

সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলারের মর্যাদা পাওয়া ম্যারাডোনার বাঁ পায়ের এই রেপ্লিকা সীমিত সংখ্যায় বানানো হয়েছে। ত্রিমাত্রিক এই ভাস্কর্যের সংখ্যা প্রায় ৫০০। ২০১৮ সালে বুয়েনস এইরেসে ম্যারাডোনা তাঁর পায়ের ডিজিটাল ছাপ তুলিয়েছিলেন। সেটার ওপর ব্রোঞ্জ দিয়ে কাজ করে রেপ্লিকা বানানো হয়। রেপ্লিকার সঙ্গে সোনা দিয়ে বানানো একটি ফলকও আছে, যেখানে রয়েছে ম্যারাডোনার সই এবং তাঁর ক্যারিয়ারের বিবরণী।

সংবাদমাধ্যমকে কেকি বলেছেন, ‘আজ (শুক্রবার) আরেকটি স্বপ্ন সত্যি হলো। ২০১৮ সালে এই স্বপ্নের যাত্রা শুরু হয়েছিল যখন ডিয়েগো তার পাকে অমরত্ব দিতে বলেছিল। এ কারণে আমরা (পায়ের) ত্রিমাত্রিক ছবি তুলেছিলাম, যেন দুনিয়াকে তার জাদুকরি বাঁ পা’টা দেখাতে পারি।’

default-image

ইতালিয়ান ব্যবসায়ী কেকি জানিয়েছেন, প্রথম রেপ্লিকাটি পাঠানো হয়েছে নেপলসে। ইতালির এই শহরের ক্লাব নাপোলিকে বিশ্বসেরা ক্লাবগুলোর কাতারে তুলে এনেছিলেন ম্যারাডোনা। ক্লাবটির সভাপতি অরেলিয়ে দে লরেন্তিসের হাতে প্রথম রেপ্লিকাটি তুলে দেওয়া হয়। নেপলসের মেয়র গায়েতানো মানফ্রেদি বলেছেন, ‘ম্যারাডোনা সব সময় এই শহরের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবেন। স্টেফানোকে ধন্যবাদ ম্যারাডোনার অকৃত্রিম বন্ধু হয়ে থাকার জন্য।’

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন