ম্যাচ শেষ হওয়ার ৪২ সেকেন্ড আগে আবার মোনার্কের পোস্টে বল পাঠান চট্টগ্রামের কেলারম্যান। কিন্তু মালয়েশিয়ান আম্পায়ার গোল দেননি। এ নিয়ে একপর্যায় খেলা বন্ধ হয়ে যায়। আম্পায়ার পেনাল্টি (পিসি) কর্নার দেন। সেই পিসিতে গোল হয়নি।

শেষ পর্যন্ত ম্যাচ শেষ হওয়ার ৮ সেকেন্ড আগে পিসি পায় মোনার্ক। এ পিসিতেও গোল হয়নি। ঘড়ির কাঁটা যখন শূন্যতে, তখন আবার মোনার্কের পক্ষে পিসির বাঁশি। তবে শেষ পর্যন্ত এ পিসি আর কার্যকর হয়নি। ম্যাচ শেষ ২-২ ব্যবধানে। তরপরই টাইব্রেকার নাটক।

টাইব্রেকারে মোনার্কের প্রথম তিন চেষ্টাতেই গোল করেন কোরিয়ান সিও, ভারতীয় চিংলেসানা ও গোভার্স। একমির গোলদাতা পীর হিনরিচ, সিটুল, বাল্মীকি ও কেলারম্যান।

লিগের শুরু থেকেই দারুণ ছন্দে ছিল একমি চট্টগ্রাম। সেই ছন্দ ধরেই রেখে তারা ফাইনালে উঠে আসে। অন্যদিকে প্রথম চার ম্যাচে মাত্র একটি জেতা মোনার্ক পদ্মা ঘুরে দাঁড়িয়ে উঠে আসে ফাইনালে। ফাইনাল উপলক্ষে মওলানা ভাসানী স্টেডিয়াম বিকেল থেকেই সরগরম। কণ্ঠশিল্পী মমতাজ ফাইনালের আগে গান গাইলেন। বিরতির সময়ও মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে দর্শকদের অভিনন্দন জানালেন তিনি।

চট্টগ্রামের অধিনায়ক রেজাউল করিম ফাইনালের আগে বলেছিলেন, ‘আমাদের দলে আছে অলিম্পিকে খেলা বাল্মীকি, তিনি অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। এ ছাড়া নেদারল্যান্ডসের কেলারম্যান আছে। যেকোনো মুহূর্তে এরা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ফাইনালটা তাই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণই হবে বলে আশা করি।’ তাঁর কথা ফলেছে, দারুণ এক ফাইনালই হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত জয়ী দলের নাম একমিই।

লিগ পর্যায়ে দুবার মুখোমুখি হয় এই দুই দল। প্রথম ম্যাচে চট্টগ্রাম ৭-১ গোলে হারিয়েছিল পদ্মাকে। পরের ম্যাচে ৪-৩ গোলে জেতে মোনার্ক পদ্মা। পদ্মার অধিনায়ক ইমরান হাসান ম্যাচের আগে বলেছিলেন, ‘লিগের শুরুতে আমরা খারাপ খেলেছি। ছন্দপতন ছিল আমাদের। কিন্তু ঠিকই আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি। আমাদের দলে বেশ কজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আছে। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই আমরা মাঠে নামব।’

চ্যাম্পিয়ন প্রায় হয়েই গিয়েছিল দলটি। কিন্তু অল্পের জন্য হলো না। এটাই হকি। শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত কী ঘটবে, কেউ বলতে পারে না। এর প্রমাণ আজকের এই রুদ্ধশ্বাস ফাইনাল।