বিশ্বকাপের প্রথম চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে। সেই ১৯৩০ সালে। এর ঠিক ২০ বছর পর ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোর বিখ্যাত মারাকানা স্টেডিয়ামে উরুগুয়েই জন্ম দিয়েছিল ‘মারাকানাজো’র। স্বাগতিক ব্রাজিলকে স্তব্ধ করে দিয়ে জিতেছিল নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা। সে-ই শেষ। এরপর বিশ্ব ফুটবলে উরুগুয়ে যেন অতীতের চর্বিত চর্বণ। ২০১০ বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলা ছাড়া লাতিন বলয়ের এই ঐতিহাসিক ফুটবল-শক্তির বিশ্ব আসরে বলার মতো কোনো সাফল্যই নেই।

এবার কি অন্য কিছু হবে! দারউইন নুনিয়েজ, এদিনসন কাভানি, লুইস সুয়ারেজ, ফেদেরিকো ভালভের্দেদের নিয়ে উরুগুয়ের দলটা দারুণ। কিন্তু ‘ফেবারিট’ ‘ডার্ক হর্স’—আলাদাভাবে এই দলটার সঙ্গে কোনো বিশেষ তকমা নেই। কেউই বলছে না কাতারে এবার দারুণ কিছু করে দেখাবে গত শতকে দুবার বিশ্বকাপ জেতা দেশটি। কিন্তু তাদের লিভারপুলে খেলা স্ট্রাইকার দারউইন নুনিয়েজের মতে, দলটা চমকে দিতে পারে যেকোনো প্রতিপক্ষকেই। জোর লড়াই চালাতে পারে ফুটবলের তাবৎ তথাকথিত বড় শক্তিগুলোর সঙ্গেই।

উরুগুয়ে এবার অন্যকিছু করতে চায়
ছবি: রয়টার্স

এ মুহূর্তে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুশীলন ক্যাম্প করছে উরুগুয়ে। সেখানেই সংবাদমাধ্যমকে নুনিয়েজ বলেছেন নিজেদের সম্ভাবনার কথা, ‘আমাদের হয়তো কেউই ফেবারিট বলছে না, কেউই হয়তো আমাদের নিয়ে আলাদা করে ভাবছে না। কিন্তু আমরা যথেষ্ট ভালো দল। আমরা যেকোনো দলের সঙ্গেই, যেকোনো শক্তির সঙ্গেই জোর লড়াই করতে পারি।’

মাত্র ৩৫ লাখ জনসংখ্যার উরুগুয়ে ঐতিহাসিকভাবেই বিভিন্ন সময় দারুণ সব ফুটবলারের জন্ম দিয়েছে। হোসে লিওনার্দো আনদ্রাদে, হোসে নাজাজ্জি ইয়ারজা, হেক্টর বেরেত্তা, পেদ্রো রোচা, হুয়ান আলবার্তো শিয়াফিনো, আলসিদেজ ঘিগিয়া, এনজো ফ্রান্সেসকোলি, রুবেন সোসা, দিয়েগো ফোরলান, লুইস সুয়ারেজদের মতো তারকা ফুটবলারদের জন্ম দিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতাতেই এসেছেন দারউইন নুনিয়েজ ও ফেদেরিকো ভালভের্দেরা। নুনিয়েজ অবশ্য বড় স্বপ্ন দেখার আগে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটা নিয়ে ভাবতে চান। এবারের বিশ্বকাপে ‘এইচ’ গ্রুপে উরুগুয়ে পড়েছে পর্তুগাল, ঘানা ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে। ২৪ নভেম্বর নুনিয়েজদের প্রথম ম্যাচ দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে।

উরুগুয়ের আরেক তারকা ভালভের্দে
ছবি: এএফপি

প্রথম ম্যাচ নিয়ে নুনিয়েজ সাবধানী, ‘আমি আপাতত আমাদের প্রথম ম্যাচটি নিয়ে ভাবছি। সে ম্যাচে প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়াকে নিয়ে ভাবছি। তারা শক্তিশালী দল এবং বিশ্বকাপে খেলতে এসেছে যোগ্য দল হিসেবেই। এ ম্যাচটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’

বাছাইপর্বে ১০ দেশের লাতিন অঞ্চলে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার পরপরই উরুগুয়ের স্থান। নুনিয়েজ এবার বিশ্বকাপে অনেক দূরই যেতে চান, ‘আমরা বিশ্বকাপে ধাপে ধাপে এগোতে চাই। যেতে চাই অনেক দূর। বিশ্বাকাপটা জিততে পারলে দারুণ হবে। তবে আপাতত দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে জিততে চাই।’

বেনফিকার জার্সিতে নজর কেড়ে এই মৌসুমে ৭৫ মিলিয়ন পাউন্ডে নুনিয়েজ যোগ দেন লিভারপুলে। অ্যানফিল্ডে এখনো পর্যন্ত মন্দ নয় এই উরুগুইয়ান তারকার পারফরম্যান্স। সব ধরনের প্রতিযোগিতায় ১৮ ম্যাচে করেছেন ৯ গোল। কাতার বিশ্বকাপে নুনিয়েজ তাঁর গোল করার ক্ষমতা ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে উরুগুয়েকে কিন্তু গোনায় ধরতেই হবে।