চ্যাম্পিয়নস লিগ: ৩ মিনিটে ২ গোল করে রিয়ালকে ফাইনালে তুললেন হোসেলু

বদলি নামা হোসেলুই রিয়ালের জয়ের নায়কএক্স

রিয়াল মাদ্রিদ ২: ১ বায়ার্ন মিউনিখ (দুই লেগ মিলিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ ৪:৩ ব্যবধানে জয়ী)

ম্যাচটা এগোচ্ছিল অনেকটা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র বনাম মানুয়েল নয়্যার লড়াইয়ের আবহে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছিল দুজনের কেউই হতে যাচ্ছেন ম্যাচের নায়ক।

তবে ভিনিসিয়ুস বা নয়ার নন, রিয়াল-বায়ার্ন চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনাল দ্বিতীয় লেগের নায়ক বদলি নামা হোসেলু। ৩৪ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারই এক গোলে পিছিয়ে থাকা রিয়াল মাদ্রিদকে ৩ মিনিটের মধ্যে এনে দিয়েছেন দুই গোল। শেষ দিকের মহামূল্যবাণ যে দুটি গোল রিয়ালকে তুলে দিয়েছে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে।

আগামী ১ জুন ওয়েম্বলিতে ফাইনালে রিয়ালের প্রতিপক্ষ বরুসিয়া ডর্টমুন্ড।

ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া হোসেলু মাঠে নামেন ৮১ মিনিটে, ফেদে ভালভের্দের বদলি হিসেবে। এর ১১ মিনিট আগে আলফনসো ডেভিয়েসের গোলে ম্যাচে এগিয়ে গেছে বায়ার্ন। তবে দলটা রিয়াল বলেই সমর্থকেরা তখনো আশায় বুক বেঁধে। শেষ মিনিট পর্যন্ত হাল না ছেড়ে ঘুরে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা আর সামর্থ এই দলের চেয়ে বেশি আর কোন দলের আছে?

৮৮ মিনিটে রিয়ালকে ঘুরে দাঁড়ানোর সেই মুহূর্তই এনে দেন হোসেলু। ভিনিসিয়ুসের শট সোজাসুজি হাতেই পেয়েছিলেন বায়ার্ন গোলকিপার নয়্যার। কিন্তু এর আগ পর্যন্ত চারটি গোলের সম্ভাবনা নস্যাৎ করে দেওয়া নয়্যার এ দফায় বল হাত ফসকে ফেলেন। সুযোগসন্ধানী হোসেলু খুব কাছে থাকায় বল জালে জড়াতে একদমই ভুল করেননি।

আরও পড়ুন

পরের গোলটি আসে ৯১তম মিনিটে। তাও নাটকীয়ভাবে। নাচোর কাছ থেকে পাওয়া বল আন্টনি রুডিগার বাড়ান হোসেলুর দিকে, যিনি বল জালে জড়িয়ে উল্লাস শুরু করতে না করতেই অফসাইডের পতাকা তোলেন রেফারি।

তবে ভিএআর চেকে দেখা যায় রুডিগার-হোসেলু দুজনই অনসাইডে ছিলেন। পুরো রিয়াল মাদ্রিদ ডাগআউট গোলের আনন্দে মাঠে ঢুকে পড়ে। হোসেলু হয়ে ওঠেন উৎসবের মধ্যমণি।

অথচ ম্যাচের প্রথম ভাগ এবং দ্বিতীয়ার্ধের বড় অংশজুড়ে একের পর এক আক্রমণ করেও গোলের দেখা মিলছিল না রিয়ালের। বাঁ প্রান্ত দিয়ে ভিনিসিয়ুস বারবার হানা দিয়েছেন, বাইলাইন পর্যন্ত বল নিয়ে গিয়ে গোলমুখে বাড়িয়েছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ম্যাচের ১৩ মিনিটে ভিনির শট পোস্টে লেগে ফিরে আসার পর জোরালো শট নিয়েছিলেন রদ্রিগো, সেটি আটকে যায় কূশলী নয়্যারের হাতে।

আরও পড়ুন

বায়ার্নের অভিজ্ঞ গোলকিপার রদ্রিগোর গোল-সম্ভাবনার শট আটকে দেন ৪০ আর ৫৯ মিনিটেও। এর মধ্যে রিয়াল রক্ষণেও যে বায়ার্ন হানা দেয়নি, তা নয়। তবে হ্যারি কেইন, জামাল মুসিয়ালারা আতংক ছড়ালেও আন্দ্রে লুনিনকে তেমন বড় পরীক্ষায় ফেলতে পারেননি।

বায়ার্নের একমাত্র গোলটি আসে আলফনসো ডেভিয়েসের পা থেকে
এক্স

অনেকটা খেলার ধারার বিপরীতেই ৬৮ মিনিটে গোল পেয়ে যায় বায়ার্ন মিউনিখ। কেইনের নিজেদের অর্ধ থেকে লম্বা করে বাড়ানো বল ডেভিয়েস চমৎকারভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে রিয়াল বক্সে ঢুকে দূরের কোণা দিয়ে জালে জড়ান। ঝাঁপিয়ে পড়লেও কিছুই করার ছিল না লুনিনের।

তবে শেষ পযন্ত রিয়ালকে ওই গোল হজমের স্তব্ধতা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়নি। কারণ, শেষ দিকে একজন হোসেলু ছিলেন মাঠে!

আরও পড়ুন