যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) কলোরাডোর বিপক্ষে এলএ গ্যালাক্সির ৪-১ ব্যবধানে জেতা ম্যাচে চোখধাঁধানো গোলটি করেছেন হার্নান্দেজ। ঘরের মাঠ ডিগনিটি হেলথ স্পোর্টস পার্কে ম্যাচের ২৮ মিনিটেই ২-০ গোলে এগিয়ে যায় গ্যালাক্সি।

২২ মিনিটে গাস্টন বার্গম্যান ও ২৮ মিনিটে রাহিম এডওয়ার্ডস লক্ষ্য ভেদ করে এগিয়ে দেন গ্যালাক্সিকে। গ্যালাক্সির স্কোরলাইন ২–০ হওয়ার ৩ মিনিট পর জাদুকরি এক গোলে ডিগনিটি স্টেডিয়ামকে মাতিয়ে তোলেন হার্নান্দেজ।

default-image

প্রায় মাঝমাঠ থেকে আক্রমণটা শুরু করেছিলেন রিকি পুচ। ডান প্রান্তে নিখুঁত এক পাসে যিনি বল বাড়িয়ে দেন জুলিয়ান আরাউহোকে। বল পেয়ে দারুণ গতিতে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন আরাউহো। প্রায় একই গতিতে গোলমুখ বরাবর দৌড় শুরু করেছিলেন হার্নান্দেজও। কলোরাডোর ডিফেন্ডারকে এড়িয়ে ফাঁকা জায়গাতেও পৌঁছে যান তিনি। আরাউহোর বাড়িয়ে দেওয়া বল রিসিভ করে শট নেওয়ার ঝুঁকি না নিয়ে ব্যাকহিলেই লক্ষ্য ভেদ করে গোলরক্ষককে বোকা বানান হার্নান্দেজ।

দুর্দান্ত এ গোলের পর থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে এই মেক্সিকান তারকা। মেক্সিকোর বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়ার শঙ্কা থাকায় এই গোলকে কোচ টাটা মার্তিনোর প্রতি হার্নান্দেজের বার্তা হিসেবেও দেখছেন অনেকে। গোলটি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে থাকাকালে হার্নান্দেজের সোনালি সময়কেও মনে করিয়ে দিচ্ছে।

২০১০ সালে থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ম্যান ইডনাইটেডে নিজের সেরা সময় পার করেন হার্নান্দেজ। ইউনাইটেডের হয়ে দুটি প্রিমিয়ার লিগ জেতার পাশাপাশি একবার চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালেও খেলেন তিনি।

এরপর এক বছর ধারে খেলেন রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে। পরে স্থায়ী চুক্তিতে চলে যান লেভারকুসেনে। জার্মান ক্লাবে দুই বছর খেলে আবার ফিরে আসেন প্রিমিয়ার লিগে। ওয়েস্ট হামের হয়েও খেলেন দুই মৌসুম।

এরপর এক মৌসুম স্প্যানিশ ক্লাব সেভিয়ায় কাটিয়ে নাম লেখান এলএ গ্যালাক্সিতে। ২০২০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এই ক্লাবের হয়ে খেলে যাচ্ছেন হার্নান্দেজ। এ বছরের ডিসেম্বরেই তাঁর সঙ্গে গ্যালাক্সির চুক্তি শেষ হবে।

চুক্তি নবায়ন নিয়ে এখনো দুই পক্ষের মধ্যে কোনো আলাপ হয়নি। তবে দুর্দান্ত এ গোল করার পাশাপাশি এ মৌসুমে দলের হয়ে সর্বোচ্চ ১৬ গোল করেছেন তিনি। যা নতুন চুক্তির ব্যাপারে বাড়তি উৎসাহ জোগাতে পারে ক্লাব কর্তৃপক্ষকে।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন