default-image

এই পর্যায়ে উঠে আসতে অনেক কষ্ট করতে হয়। নিজেকে দিয়ে সেটা বুঝি। আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেকে তৈরির কথার পথে অনেক বাধাবিপত্তি থাকে। স্পনসর, অনুশীলন–সুবিধা সেভাবে নেই আমাদের দেশে।

আরও অনেক অনেক সমস্যা থাকে। সব সংকট পেরিয়ে আমাদের বোনেরা একটা বড় ট্রফি জিতেছে দক্ষিণ এশিয়ায় ফুটবলে। ভারতের মতো দল খেলে যে টুর্নামেন্টে, সেখানে চ্যাম্পিয়ন হওয়া অনেক কঠিনই মনে করছিলাম আমি। কিন্তু মারিয়া মান্দারা সেটা বুঝতেই দেয়নি। ওরা একটা ট্রফি এনে দিয়েছে। দেশকে গর্বিত করেছে। গর্বিত আমিও।

প্রথমবার এসএ গেমসে সোনা জয়ের সময় আমার বয়স ছিল ১৭। ফুটবল দলের এই মেয়েদের বেশির ভাগের বয়সও বেশি নয়, ২০ এর নিচেই। এই বয়সেই যদি ওরা নিজেদের নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে, আমার বিশ্বাস, সামনে ওরা আরও ট্রফি জিতবে, দেশকে আরও আনন্দের উপলক্ষ এনে দেবে।

সেদিনের অপেক্ষাটা শুরু হয়ে গেল এখনই। তবে শুধু আশা করলেই হবে না, মেয়েদের জীবন–জীবিকাসহ সবকিছুর দায়িত্ব নিতে হবে। দরকার ওদের ঠিকঠাক সমর্থন দিয়ে যাওয়া। ওদের জন্য খেলার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, নইলে ওদের যাত্রাটা বাধাগ্রস্ত হতে বাধ্য।

default-image

ওদের উঠে আসার গল্পগুলো অনেক আগেই শুনেছি। প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে এসেছে ওরা, যেখানে কোনো সুযোগ–সুবিধাই নেই। উঁচু–নিচু পথ পেরিয়ে ওরা আজ হিমালয় জয় করেছে। ওদের গল্প আমাকেও প্রেরণা দেয়।

আমিও অনেক সময় ভাবি, কীভাবে ওরা এত এত সাফল্য নিয়ে এল। আসলে কিছু অর্জন করতে হলে মনের মধ্যে একটা ক্ষুধা থাকতে হয়। সেটা ওদের মধ্য আছে। জয়ের ক্ষুধাই ওদের নিয়ে এসেছে অনেক দূর। এ অর্জন শুধু ওদের একা নয়, সব বাংলাদেশির, সব খেলোয়াড়ের।

সাবিনাদের আবারও অভিনন্দন।

লেখক: মাবিয়া আক্তার দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে দুটি সোনাজয়ী ভারোত্তোলক।

ফুটবল থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন