ইয়ামালদের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে কেমন দল, চিনে নিন
আফ্রিকার পশ্চিম উপকূল থেকে প্রায় ৫৭০ কিলোমিটার দূরে আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে ছড়িয়ে আছে ১০টি আগ্নেয় দ্বীপ। এই দ্বীপগুলোর সমন্বয়ে গঠিত কেপ ভার্দে, যার সরকারি নাম রিপাবলিক অব কাবো ভার্দে। ১৯৭৫ সালে পাঁচ শতাব্দীর বেশি সময়ের পর্তুগিজ শাসনের অবসান ঘটিয়ে স্বাধীনতা পায় দেশটি। জনসংখ্যা ছয় লাখের কম।
আজ সেই ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রই বিশ্বকাপের মঞ্চে নামছে স্পেনের বিপক্ষে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলা দলটিকে নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল আছে অনেকের। কেমন এই দল, কারা আছেন স্কোয়াডে, কী তাদের ফুটবল-ঐতিহ্য—চলুন জেনে নেওয়া যাক।
যেভাবে বিশ্বকাপে কেপ ভার্দে
কেপ ভার্দে বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছে আফ্রিকা অঞ্চল থেকে। বাছাইপর্বের ‘ডি’ গ্রুপে ৮ ম্যাচে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করেছে তারা।
তাদের চেয়ে ৪ পয়েন্ট পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল ক্যামেরুন। জেনে রাখা ভালো, আফ্রিকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আটবার বিশ্বকাপ খেলেছে ক্যামেরুনই। তাদের টপকে কেপ ভার্দে এখন বিশ্বকাপে।
দলটি আসলে কেমন
কেপ ভার্দের জাতীয় দল অনেকটাই প্রবাসী ফুটবলার–নির্ভর। দেশটির বর্তমান জনসংখ্যার চেয়েও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী কেপ ভার্দিয়ান বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা বেশি। সেই বাস্তবতার প্রতিফলন দেখা যায় ফুটবল দলেও।
দেশের ঘরোয়া লিগে ১২টি ক্লাব থাকলেও বিশ্বকাপ স্কোয়াডে স্থানীয় লিগের একজন খেলোয়াড়ও নেই। ২৬ সদস্যের দলে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে খেলা ফুটবলার আছেন মাত্র একজন—ডিফেন্ডার লোগান কস্তা, যিনি স্প্যানিশ ক্লাব ভিয়ারিয়ালের হয়ে খেলেন।
বাকি খেলোয়াড়েরা ছড়িয়ে আছেন ইউরোপ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের লিগে। স্কোয়াডের সর্বোচ্চ ৭ জন খেলেন পর্তুগিজ ক্লাবে।
দলের অধিনায়ক ও সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা রায়ান মেন্দেস। ১৬ বছর আগে জাতীয় দলে অভিষেক হওয়া ৩৬ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড এখনো আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসা। আর ৩৯ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনিয়া এখনো দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়দের একজন।
কোচ পেদ্রো লেইতাও ব্রিতো সাধারণত ৪-২-৩-১ কিংবা ৪-১-৪-১ ফরমেশনে দলকে খেলান। তাঁর কৌশলের মূল ভিত্তি হাই প্রেসিং, দ্রুত ট্রানজিশন এবং শারীরিক শক্তিনির্ভর ফুটবল।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে পথচলা
কেপ ভার্দে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ১৯৭৮ সালের ২৯ মে, গিনির বিপক্ষে। সেই ম্যাচে তারা ১–০ গোলে হেরে যায়। ১৯৮২ সালে গঠিত হয় কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশন এবং ১৯৮৬ সালে দেশটি ফিফার সদস্যপদ পায়।
১৯৯২ সালে প্রথমবার আফ্রিকান নেশনস কাপের বাছাইপর্বে অংশ নেয় কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে তাদের অভিষেক ২০০৩ সালে।
তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয় ২০১৩ সালে, যখন আফ্রিকান নেশনস কাপে প্রথমবার অংশ নিয়েই পৌঁছে যায় কোয়ার্টার ফাইনালে। ২০২৩ সালেও তারা একই কীর্তি গড়ে।
বর্তমানে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে কেপ ভার্দের অবস্থান ৭০তম। তবে র্যাঙ্কিংয়ের চেয়ে বড় পরিচয়, তারা এখন বিশ্বকাপের নবাগত দল—যারা নিজেদের প্রথম উপস্থিতিতেই সবাইকে চমকে দেওয়ার স্বপ্ন দেখছে।