ফিফার ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ পছন্দ হচ্ছে না ফন ডাইকের

হাইড্রেশন ব্রেকএএফপি

ফুটবল ম্যাচে এত দিন বিরতি ছিল একটিই। দুই অর্ধে ৪৫ মিনিট করে খেলার মাঝখানে বিরতি থাকত ১৫ মিনিটের। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ নামে নতুন এক বিরতি চালু করেছে ফিফা।

এ নিয়ে সমালোচনাও তৈরি হয়েছে বেশ। কেউ কেউ মনে করছেন, এই বিরতি চালু করা হয়েছে কেবল টিভিতে বিজ্ঞাপন দেখানোর জন্য। এতে খেলার স্বাভাবিক গতিও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এবার এই হাইড্রেশন ব্রেকের সমালোচনা করেছেন নেদারল্যান্ডসের অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইকও। গতকাল রোববার টেক্সাসে জাপানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের অভিযান শুরু করেছে ডাচরা। ম্যাচটা ২-২ গোলে ড্র করেছে নেদারল্যান্ডস।

আরও পড়ুন

এই ম্যাচের পর ফন ডাইক সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মনে হয় এই হাইড্রেশন ব্রেকের বিষয়টি বেশ কৌতূহল উদ্দীপক। আজকের ম্যাচের আগে আমি প্রায় সব খেলাই দেখেছি। প্রতিবার যখন এই বিরতির সুযোগে টিভিতে বিজ্ঞাপন দেখানো হয়, সত্যি বলতে এটা আমার একদমই পছন্দ নয়।’

নেদারল্যান্ডস অধিনায়ক ফন ডাইক
ফিফা

ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আবহাওয়া যেমনই থাকুক, ম্যাচের প্রতিটি অর্ধের মাঝামাঝি সময়ে ৩ মিনিটের এই বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন বিরতি দিতে হবে। এ কারণে ম্যাচ শুরুর ২২ মিনিটের মাথায় রেফারিদের খেলা থামাতে হচ্ছে।

ফিফা বলছে, খেলোয়াড়েরা যেন গরমে অস্বস্তিতে না পড়েন ও পানি পান করতে পারেন, এ জন্য এমন বিরতির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তবে এ ধরনের বিরতি দর্শকদের জন্য বিরক্তিকর হতে পারে বলে মনে করেন ফন ডাইক, ‘টেলিভিশনে যাঁরা খেলা দেখছেন, সেই নিরপেক্ষ দর্শকদের জন্যও এটা একেবারেই সুখকর কিছু নয়। প্রচণ্ড গরম থাকলে এই বিরতি দেওয়ার যুক্তি আছে। তবে আমার মতে, প্রতিটি ম্যাচের আবহাওয়া আলাদাভাবে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’

শুধু ফন ডাইকই নন, এই হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছেন লিভারপুলের সাবেক কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপও। তাঁর মতে এই বিরতি খেলার স্বাভাবিক গতি নষ্ট করছে।

জার্মান এই কোচের মতে তিন মিনিটের এই বিরতিগুলো ‘স্পনসরদের সুবিধার জন্য তৈরি করা একটি কারুকার্যময় দামি খাঁচা ছাড়া আর কিছু নয়।’

বেশ কড়া ভাষায় ফিফার সমালোচনা করে এই জার্মান কোচ বলেছিলেন, ‘যখন আমি দেখি তীব্র গরম না থাকা সত্ত্বেও খেলোয়াড়রা মাঠে দাঁড়িয়ে আছে।

টিভির বিজ্ঞাপনের সময়সূচি ম্যাচের গতি নির্ধারণ করে দিচ্ছে, তখন আমি নিজেকে প্রশ্ন না করে পারি না যে এই বিশ্বকাপ আসলে কার স্বার্থ রক্ষা করছে সমর্থকদের, খেলোয়াড়দের, নাকি বিজ্ঞাপনদাতাদের?’

আরও পড়ুন