মেসিকে কীভাবে আটকাবে অস্ট্রিয়া
এই মুহূর্তে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন সম্ভবত একটাই—লিওনেল মেসিকে থামানোর উপায় কী? অস্ট্রিয়ার জায়গায় নিজেকে বসিয়ে আমি বারবার একটা প্রশ্নই ভাবছি, মেসিকে আটকানো কি আদৌ সম্ভব!
আমি যদি এই ম্যাচে অস্ট্রিয়া দলের অধিনায়ক হতাম, তাহলে ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের প্রথম পরামর্শই দিতাম, মেসিকে কখনো বাজে ফাউল করা যাবে না। মাঠে আমার বড় কাজ হতো তাঁকে কোনো খালি জায়গা (স্পেস) না দেওয়া, তাঁর গায়ে গায়ে সার্বক্ষণিক একজন খেলোয়াড় ম্যান-মার্কিংয়ে রাখা। মেসি বল পাওয়ামাত্রই চাপ তৈরি করা দরকার; কিন্তু কোনো অবস্থাতেই তাঁকে চটানো যাবে না।
কারণ, মেসি এমন একজন ফুটবলার, যাঁকে ফাউল করে দমানো যায় না। উল্টো তিনি রেগে গেলে আরও বেশি ভয়ংকর হয়ে ওঠেন। রিয়াল মাদ্রিদে খেলার সময় ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার মার্সেলোর একটি মন্তব্য শুনেছিলাম, যা একজন মিডফিল্ডার বা অধিনায়ক হিসেবে আমার ফুটবল দর্শনের সঙ্গে মিলে যায়।
মার্সেলো নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলেছিলেন, সাধারণ ফাউল করলে মেসি স্বাভাবিক থাকেন; কিন্তু তাঁর ওপর রাফ ট্যাকল বা বাজে ফাউল করলে তিনি সেটার জবাব দেন মাঠের পারফরম্যান্সে বাড়তি কিছু করে। তখন আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠেন। তাই অস্ট্রিয়াকে যদি মেসিকে আটকাতে হয়, তাহলে যেকোনো মূল্যে কোনোরকম বাজে ট্যাকল এড়িয়ে চলতে হবে।
তবে এই সত্যটাও মেনে নিতে হবে—মেসিকে শুধু ছক দিয়ে বেঁধে রাখা যায় না। পুরো ম্যাচে হয়তো তিনি খুব বেশি চোখে পড়বেন না, অনেকটা সময় স্রেফ হেঁটে বেড়াবেন; কিন্তু শেষ মুহূর্তে একটা জাদুকরি পাস, একটা ড্রিবল বা একটা অবিশ্বাস্য শটে ম্যাচের ভাগ্য এক নিমেষে বদলে দিতে পারেন। যেদিন কম দৌড়ান, সেদিনও দেখা যায় তাঁর ছোট্ট একটি ঝলকই দলের জয়ের জন্য যথেষ্ট।
বিশ্বের অনেক বড় ক্লাব, অনেক শক্তিশালী রক্ষণ তাঁকে ফাউল করে, ট্যাকল করে থামানোর চেষ্টা করেছে এবং ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার জার্সিতে এই মেসিকে থামানো যেকোনো রক্ষণভাগের জন্যই দুঃসাধ্য। কারণ, তাঁর অভিধানে অসম্ভব বলে কোনো শব্দ নেই। তবে এ–ও সত্য, তাঁকে আটকানোর পরিকল্পনা করা যায় ঠিকই; কিন্তু মাঠে পুরোপুরি থামানোর নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারে না।
এই বিশ্বকাপ মেসি যেভাবে শুরু করেছেন, তাতে তাঁকে নিয়ে আলাদা মহাপরিকল্পনা না করে মাঠে নামার কোনো সুযোগই নেই প্রতিপক্ষের। অস্ট্রিয়ার মতো দলের জন্য তো আরও বেশি। প্রায় ৩৯ বছর বয়সে এসে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক পেয়েছেন মেসি, এটা এককথায় অবিশ্বাস্য, অকল্পনীয়! আমার বিশ্বাস, আজ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও মেসি গোল করবেন। কয়টা করবেন, সেই অনুমানে গেলে বলব, একটি। তা করতে পারলেই আজ তিনি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যাবেন।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জিতলেই নকআউট নিশ্চিত হয়ে যাবে আর্জেন্টিনার। আমার মনে হয়, আর্জেন্টিনা ২–০ গোলে জিতবে। মেসিও চাইবেন তাঁর চেনা ছন্দ ধরে রেখে দলকে টেনে নিতে। নকআউট নিশ্চিত হয়ে গেলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে কোচ লিওনেল স্কালোনি তাঁকে একটু বিশ্রাম দিতে পারেন। তাই আর্জেন্টিনার লক্ষ্য থাকবে আজকের ম্যাচেই আসল কাজটা সেরে ফেলা; আর অস্ট্রিয়ার লক্ষ্য হওয়া উচিত মেসিকে ফাউল না করে, মাথা ঠান্ডা রেখে রক্ষণ সামলানো।
লেখক: জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক