ফুটবল নয়, বাড়ছে ‘সকারের’ জনপ্রিয়তা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পতাকা এবং জার্সি বিক্রির দোকানগুলোতে এমন সাজসাজ রবএএফপি

ফুটবলকে ‘সকার’ বলায় মার্কিনিদের নিয়ে এখনো অনেকে রসিকতা করেন। তবে নাম নিয়ে ট্রল যা–ই হোক না কেন, উত্তর আমেরিকায় ‘সকার’ বা ফুটবলের জোয়ার এসেছে। বিশেষ করে বিশ্বকাপ সামনে রেখে গত পাঁচ বছরে এই অঞ্চলে ফুটবল দর্শকের সংখ্যা ১০.৯ শতাংশ বেড়ে ১৩ কোটি ৬০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জরিপকারী প্রতিষ্ঠান নিলসেনের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে উত্তর আমেরিকায় ফুটবল নিয়ে মানুষের আগ্রহ এখন তুঙ্গে।

নিলসেনের গবেষণা অনুযায়ী, এই জোয়ারের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছেন লিওনেল মেসি। ২০২৩ লিগস কাপে ইন্টার মায়ামির হয়ে মেসির অভিষেক ম্যাচটি যাঁরা টেলিভিশনে দেখেছেন, সেই সংখ্যা ছিল টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোর গড় দর্শকের চেয়ে ১৭৩ শতাংশ বেশি। মেসির ছোঁয়ায় ইন্টার মায়ামির শিরোপা জয়ের সুবাদে ২০২৪ সালে এমএলএস কাপের দর্শকসংখ্যা আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে ৯৭ শতাংশ।

নর্থ ক্যারোলিনায় জার্মানি ফুটবল দলের অনুশীলনে দর্শকদের ভিড়
এএফপি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই এখন ফুটবল–ভক্তের সংখ্যা ৬ কোটি ২৫ লাখ। সংখ্যার বিচারে যা বিশ্বের চতুর্থ সর্বোচ্চ। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৬৪ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, ফুটবলে তাঁদের আগ্রহ দিন দিন আরও বাড়ছে। আর প্রতি চারজন ভক্তের মধ্যে একজনের ফুটবলে হাতেখড়ি হয়েছে গত পাঁচ বছরের মধ্যে। ১০ জনের মধ্যে ৭ জনই বলেছেন, বিশ্বকাপ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে গত তিন বছরে খেলাটি নিয়ে তাঁদের উন্মাদনা বহুগুণ বেড়েছে।

ভৌগোলিক দিক থেকে এই অঞ্চলের সবচেয়ে শক্তিশালী ফুটবল বাজার মেক্সিকো। দেশটির ৬৩ শতাংশ মানুষ ফুটবলের সঙ্গে একাত্মতা অনুভব করেন, যা অন্য যেকোনো খেলাধুলার চেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় জনপ্রিয়তার দিক থেকে ফুটবলের অবস্থান যথাক্রমে চতুর্থ ও তৃতীয়।

আরও পড়ুন

যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল দর্শকদের নিয়ে আরেকটি দারুণ তথ্য দিয়েছে নিলসেন। সেখানকার ফুটবলপ্রেমীরা মূলত তরুণ ও আর্থিকভাবে সচ্ছল। ভক্তদের ৭৬ শতাংশই মিলেনিয়াল ও জেন-জি প্রজন্মের। শুধু তা-ই নয়, ইউরোপের দেশগুলোর তুলনায় উত্তর আমেরিকায় নারী ফুটবল দর্শকের উপস্থিতি অনেক বেশি।

পুরো উত্তর আমেরিকায় ৭২ শতাংশ দর্শক টেলিভিশন বা স্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে খেলা উপভোগ করেন। তবে খেলা দেখার পাশাপাশি ফুটবল নিয়ে মাতামাতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও এখন বড় ভূমিকা রাখছে।

আরও পড়ুন