বুয়াদ্দি কি আসলেই সিটিতে নতুন রদ্রি হতে পারবেন
১৩ বছর বয়সে লিলের একাডেমিতে পা রেখেছিলেন আইয়ুব বুয়াদ্দি। তখন থেকেই শুরু হয়েছিল ফিসফাস। বলা হচ্ছিল, এডেন হ্যাজার্ডের পর এমন প্রতিভা আর আসেনি এই একাডেমিতে।
সময় যত গড়িয়েছে, সেই গুঞ্জন ততই দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে মাঠে। তাই আঠারো ছোঁয়ার আগেই যে ৯ কোটি ৫০ লাখ ইউরোর চুক্তিতে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমিয়েছেন এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার, এতে অবাক হওয়ার খুব একটা জায়গা নেই।
২০২৪ সালে ১৭তম জন্মদিনেই রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচসেরার ট্রফি হাতে তোলা যেন ছিল বুয়াদ্দির এক ঘোষণা। ইউরোপের পরাশক্তি কোনো ক্লাবে তাঁর জায়গা হবেই, সেটি তখনই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল। এরপর ১৩ জুন বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিপক্ষে মরক্কোর জার্সিতে তাঁর পারফরম্যান্স যেন সেই ঘোষণাকে আরও জোরালো করল। এরপর আর তাঁকে ধরে রাখা সম্ভব ছিল না। প্রায় ৮ কোটি ইউরোর চাহিদা নিয়ে বসেছিল লিল, শেষ পর্যন্ত সেই অঙ্কের বেশিই পেয়েছে তারা। নিখাদ লাভই বলা যায়।
নিকোলাস পেপে, ভিক্টর ওসিমেন, রাফায়েল লিয়াও থেকে শুরু করে লেনি ইয়োরো। প্রতিভা চিনে তাঁকে গড়ে তুলে বড় ক্লাবের কাছে বিক্রি করে লাভ করার যে দক্ষতা লিলের, বুয়াদ্দি সেই ধারাবাহিকতার নতুন নাম।
কিন্তু যে আশায় সিটি তাঁকে নিয়েছে, সেটা কি তিনি পূরণ করতে পারবেন? হতে পারবেন সিটি ছেড়ে যাওয়া রদ্রির বিকল্প? ৩০ পেরিয়ে যাওয়া এবং লিগামেন্ট চোট থেকে ফেরা স্প্যানিশ তারকার ইতিহাদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত যেন সময়েরই দাবি হয়ে উঠেছিল। সিটি পরিচালনা পর্ষদের সামনে চ্যালেঞ্জ ছিল, রদ্রিকে বিক্রি করে সর্বোচ্চ অর্থ উসুল করা আর একই সঙ্গে তাঁর জায়গায় সমকক্ষ কাউকে খুঁজে বের করা।
প্রথম কাজটি তারা করেছে নিখুঁতভাবে। ৬ কোটি ইউরো কোনো ৩০ বছর বয়সী চোটফেরত ফুটবলারের জন্য মন্দ দর নয়। তবে বুয়াদ্দিকে আনতে গিয়ে হয়তো কিছুটা বেশি খরচ হয়েছে। কিন্তু এই বয়সে তাঁর যে সম্ভাবনা, সেটি উপেক্ষা করার ঝুঁকি নেয়নি সিটি।
কিন্তু ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ‘নাম্বার সিক্স’ যে জায়গা ফাঁকা রেখে গেছেন, সেটি রাতারাতি ভরাট করা সম্ভব নয়। রদ্রি চলে যাওয়ার পর সিটির কী হবে, সেই প্রশ্নে কিছুদিন আগে কোচ এনজো মারেসকা বলেছিলেন, ‘নতুন রদ্রি খুঁজে বের করতে হবে।’
এরপরই বুয়াদ্দিকে কিনে নেয় সিটি। কিন্তু আঠারো বছরের এক তরুণের কাঁধে সেই দায়িত্ব তুলে দেওয়া সহজও নয়। প্রশ্ন হচ্ছে, এনজো মারেসকার অধীন সিটির মাঝমাঠের সমস্যাগুলো কি বুয়াদ্দি একাই সমাধান করতে পারবেন?
বুয়াদ্দির মধ্যে সেই সম্ভাবনা খুব ভালোভাবেই আছে। বিনয় আছে, পরিশ্রম আছে, আবার নিজের সামর্থ্য নিয়ে অটুট বিশ্বাসও আছে। বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করার তাড়নাই তাঁকে ফ্রান্স ছেড়ে জাতীয় দল হিসেবে মরক্কোকে বেছে নিতে প্রভাবিত করেছে। যেখানে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ মিলবে সহজে। কারণ, বিশ্বকাপের মঞ্চই তো আসল পরীক্ষা।
বিশ্বকাপে তার পরিণত পারফরম্যান্স বলে দেয়, বড় চাপ সামলাতে তিনি প্রস্তুত। তবু প্রিমিয়ার লিগ আলাদা এক দুনিয়া। এখানে গতি বেশি, লড়াই কঠিন, ভুলের মূল্য বড়।
রদ্রির জায়গায় খেলতে নামলে সেই তুলনাটা তাঁকে পিছু ছাড়বে না। সঙ্গে থাকবে বিশাল ট্রান্সফার ফির চাপ। তবে মাঝমাঠে এলিয়ট অ্যান্ডারসন বা সম্ভাব্য এনজো ফার্নান্দেজের মতো সতীর্থ থাকলে কাজটা কিছুটা সহজ হবে।
আপাতত মনে হচ্ছে, যে পথচলার শুরুটা হওয়ার কথা ছিল আরও কিছু বছর পর, সেটিই শুরু হয়ে গেল এখনই। এখন দেখার অপেক্ষা, এই তরুণ সেই ভার সামলে নিজেকে কোথায় নিয়ে যেতে পারেন।