আর্জেন্টিনার আপিলে শাস্তি কমল মলিনার, কমেনি পারেদেসের

আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী তারকা নাহুয়েল মলিনাইনস্টাগ্রাম
প্রথম আলোকে নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসেবে পেতে হলেএখানে ক্লিক করুন

বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশি বাজার পরও উত্তেজনা থামেনি। মাঠের ফুটবল শেষ হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু আর্জেন্টিনা–স্পেনের খেলোয়াড়দের মধ্যে শুরু হয়েছিল হাতাহাতি। সেই ঘটনার রেশ এখনো টানতে হচ্ছে আর্জেন্টিনার দুই ফুটবলার নাহুয়েল মলিনা ও লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে।

তবে শাস্তির বোঝা কিছুটা কমেছে মলিনার। ফিফার আপিল চেম্বার আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) আপিল গ্রহণ করে এই রোমা রাইটব্যাকের নিষেধাজ্ঞা সাত ম্যাচ থেকে কমিয়ে চার ম্যাচ করেছে। একই সঙ্গে জরিমানাও কমানো হয়েছে। তবে পারেদেসের শাস্তি কমেনি।

শুক্রবার রাতে এক বিবৃতিতে এএফএ জানিয়েছে, মলিনার শাস্তি কমানোর আবেদন গ্রহণ করেছে ফিফার আপিল চেম্বার। তবে পারেদেসের ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ও ৯০ হাজার ডলার জরিমানা বহাল রাখা হয়েছে।

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে আর্জেন্টিনার পারেদেস ঘুষি মারেন স্পেনের গাভিকে। এরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দুই দলের খেলোয়াড়েরা জড়িয়ে পড়েন হাতাহাতিতে।

বিশ্বকাপ ফাইনালের পর মারামারিতে জড়ান দুই দলের খেলোয়াড়েরা
রয়টার্স

ঘটনাটি তদন্ত করে গত আগস্টে শাস্তি ঘোষণা করে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি। পারেদেসকে ১০ ম্যাচ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ৯০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়। মলিনাকে দেওয়া হয়েছিল সাত ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা। জরিমানা ছিল ৯০ হাজার ডলার।

আর্জেন্টিনার আরেক ফুটবলার থিয়াগো আলমাদাকে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ৩০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়। দলের সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালাকে তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ এবং ৩০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন

এএফএর আপিলের পর শুধু মলিনার শাস্তিই পুনর্বিবেচনা করেছে ফিফা। তাঁর নিষেধাজ্ঞা কমিয়ে চার ম্যাচ করা হয়েছে। জরিমানাও ৯০ হাজার ডলার থেকে কমিয়ে ৬০ হাজার ডলার করা হয়েছে। বাকি শাস্তিগুলো অপরিবর্তিত রয়েছে। বৈষম্যমূলক স্লোগানের কারণে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে দেওয়া শাস্তিও বহাল রয়েছে।

লিয়ান্দ্রো পারেদেস
ইনস্টাগ্রাম/পারেদেস

অবশ্য নিষেধাজ্ঞার তিন ম্যাচ ইতিমধ্যে কাটিয়ে ফেলেছেন মলিনা। বিশ্বকাপ ফাইনালের পর গত অক্টোবরে বলিভিয়া, বুরকিনা ফাসো ও বেনিনের বিপক্ষে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলেছে আর্জেন্টিনা। এই তিন ম্যাচে দলের বাইরে ছিলেন তিনি। ফলে নিষেধাজ্ঞার আর মাত্র একটি ম্যাচ বাকি।

নভেম্বরে উরুগুয়ে ও কোস্টারিকার বিপক্ষে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। এ সপ্তাহের শুরুতে ঘোষিত সেই দুই ম্যাচের দলে রাখা হয়নি মলিনাকে। উরুগুয়ে ও কোস্টারিকার বিপক্ষে ম্যাচ দুটি আর্জেন্টিনার জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় দল থেকে লিওনেল মেসির অবসরের পর এ দুই ম্যাচ দিয়েই নতুন অধ্যায় শুরু করবে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।