বিয়ে করে আর্জেন্টিনার ‘জামাই’ হলেন রোনালদো
বিয়ের ফুল ফুটল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। ৪১ বছর বয়সী পর্তুগিজ কিংবদন্তি এখন বিবাহিত।
কয়েক দিন ধরেই রোনালদোর বিয়ের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। গতকাল মঙ্গলবার সেটাই সত্যি হলো। পর্তুগালের সৈকত শহর কাসকাইসে এক পারিবারিক অনুষ্ঠানে দীর্ঘদিনের সঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেজকে বিয়ে করেছেন রোনালদো। বাগ্দানের ঘোষণা দেওয়ার ঠিক এক বছর পর তাঁরা বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন।
রোনালদোর বিয়ের খবর নিশ্চিত করেছেন তাঁর প্রতিনিধিরা। এর মধ্য দিয়ে জর্জিনা ও রোনালদোর দীর্ঘ এক দশকের প্রেম পূর্ণতা পেল। রোনালদোর জনসংযোগের দায়িত্বে থাকা ব্রান্সউইক গ্রুপ বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, সম্পূর্ণ ‘ব্যক্তিগত ও ঘরোয়া’ এই অনুষ্ঠানে দম্পতির পাঁচ সন্তান উপস্থিত ছিল।
বাংলাদেশ সময় গতকাল রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি পোস্ট করেন রোনালদো। জর্জিনার হাতের ওপর তাঁর হাত, দুজনের অনামিকায় আংটি। ক্যাপশনে ‘সি’ ও ‘জি’ দুটি শব্দের মাঝে ভালোবাসার একটি ইমো। সমর্থকেরা তাতেই যা বোঝার বুঝে নেন।
রোনালদোর বাগ্দত্তা হওয়ার খবর গত বছর ১১ আগস্ট ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করে জানান জর্জিনা। অনামিকায় বেশ বড়সড় একটি আংটি পরে রোনালদোর হাতের ওপর হাত রাখার ছবি পোস্ট করেন। ঠিক এক বছরের মাথায় উল্টে গেল হাতের ওপর হাত রাখার ছবিটি—এখন জর্জিনার হাতের ওপর রোনালদোর ভরসা ও ভালোবাসামাখা হাতখানি। আইনগতভাবে দুজনে এখন স্বামী-স্ত্রী।
পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমগুলোয় গুঞ্জন ছিল, লিসবনের বাইরে সিনত্রা বা আটলান্টিক মহাসাগর তীরবর্তী দ্বীপ মাদেইরায় রোনালদোর জন্মশহরে এ বিয়ে হতে পারে। মাদেইরার ফুনশালের এক গির্জায় বিয়ে হচ্ছে—এমন খবর চাউর হওয়ার পর সেই গির্জার সামনে শত শত মানুষ ভিড় করেন। কিন্তু পরে দেখা গেল বর-কনে এলেও তাঁরা রোনালদো ও জর্জিনা নন!
গির্জাটির কর্তৃপক্ষ আগেই এএফপিকে জানিয়েছিল, রোনালদোর বিয়ের অনুষ্ঠান সেখানে নির্ধারিত নেই। তবে এমন একটি আয়োজন করতে পারা তাদের জন্য ‘সম্মানের’ হতো বলেও জানায় তারা। শেষ পর্যন্ত লিসবন থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে সৈকত শহর কাসকাইসকে বিয়ের ভেন্যু হিসেবে বেছে নিলেন রোনালদো-জর্জিনা। সেখানে তাঁদের একটি ভিলা রয়েছে।
৩২ বছর বয়সী জর্জিনার জন্ম আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেসে। ২০১৬ সালে মাদ্রিদে গুচির একটি শোরুমে জর্জিনা বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করার সময় দুজনের মধ্যে পরিচয় থেকে প্রণয়ের সূত্রপাত। জর্জিনার ভাষায় সেটি ছিল ‘প্রথম দেখাতেই প্রেম’।
২০২৫ সালে ভোগ অ্যারাবিয়া সাময়িকীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জর্জিনা জানান, রোনালদোর সান্নিধ্যে আসার পর তাঁর মনে হয়েছিল, ‘আমরা একে অপরকে চিরকাল ধরে চিনি।’ ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে ফিফার বর্ষসেরা ‘দ্য বেস্ট ফিফা ফুটবল অ্যাওয়ার্ডস’ অনুষ্ঠানে দুজন একসঙ্গে জনসমক্ষে হাজির হন প্রথমবারের মতো। সে বছরই মে মাসে ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি পোস্ট করে জর্জিনার সঙ্গে মন দেওয়া-নেওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানান রোনালদো।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই জুটির অনুসারীর সংখ্যা ৭৫ কোটির বেশি। ফুটবলের সীমানা ছাড়িয়ে তাঁরা বিশ্বের অন্যতম পরিচিত তারকা জুটি। ফ্যাশন ব্র্যান্ড, হোটেল চেইনসহ বিভিন্ন খাতে তাঁদের বিনিয়োগের পোর্টফোলিও রয়েছে।
রোনালদোর বড় ছেলের নাম ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়র। ২০১০ সালে জন্ম নেওয়া জুনিয়রের মায়ের পরিচয় পর্তুগিজ কিংবদন্তি কখনো প্রকাশ করেননি। ২০১৭ সালের জুনে সারোগেটের মাধ্যমে ইভা মারিয়া ও মাতেওয়ের বাবা হন আল নাসরের এই তারকা। পাঁচ মাস পর তাঁর প্রেমিকা জর্জিনার কোল আলো করে জন্ম নেয় অ্যালানা মার্টিনা। ২০২২ সালে জর্জিনার গর্ভেই জন্মায় দুই যমজ সন্তান বেলা ও অ্যাঞ্জেল। তবে জন্মের কিছুক্ষণ পরেই মারা যায় অ্যাঞ্জেল।
পেশাদার ক্যারিয়ারে ৯৭৬ গোল করেছেন রোনালদো। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্টাসের হয়ে মাঠ মাতানোর পর এখন খেলছেন সৌদি প্রো লিগের দল আল নাসরে। এই পথে জিতেছেন পাঁচটি ব্যালন ডি’অর। পাঁচবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পাশাপাশি ইতালি, স্পেন ও ইংল্যান্ডে জিতেছেন লিগ শিরোপা। পর্তুগালের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ও গোলের রেকর্ডও রোনালদোর।