আরতেতার ‘অবিশ্বাস্য রাত’, ঐতিহাসিক ডাবলের সামনে আর্সেনাল
বছরের পর বছর সমর্থকেরা প্রিয় দলকে সমর্থন দিয়ে যান এমন মুহূর্তের জন্য। এমন একটি মুহূর্ত, যা তাঁকে পৌঁছে দেবে আনন্দের চূড়ায়। আর এই অনুভূতি পেতে সেই দল ও সমর্থকদের পেরোতে হয় যন্ত্রণাময় এক পথ। কখনো কখনো সেই পথ বেশ দীর্ঘও হতে পারে।
৩৬ বছর পর আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয় কিংবা ৩০ বছর পর লিভারপুলের লিগ জয় ছিল তেমনই ঘটনা। যে তালিকায় এবার যোগ হতে পারে আর্সেনালের নামও। ২২ বছর পর এবার লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগও জিততে পারে তারা। কোচ মিকেল আরতেতার হাত ধরে এখন ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে গানাররা।
ম্যানচেস্টার সিটি এভারটনের বিপক্ষে পয়েন্ট হারানোর পর প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা লাগাম এখন আর্সেনালের হাতে। আর আতলেতিকো মাদ্রিদকে গতকাল রাতে সেমিফাইনাল ফিরতি লেগে হারিয়ে তারা পৌঁছে গেছে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালেও।
এবারের মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল ও প্রিমিয়ার লিগ মিলিয়ে বাকি ৪ ম্যাচ সম্ভবত আর্সেনালের ইতিহাসেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চারটি ম্যাচ হতে যাচ্ছে। এই চারটি ম্যাচ জিতলে ফুটবল ইতিহাসে আর্সেনালের অধ্যায়টা আবার নতুন করে লেখা হবে। পাশাপাশি দীর্ঘ পরিশ্রমের ফসল হিসেবে আর্সেনালে অমরত্বও নিশ্চিত হবে কোচ আরতেতার।
চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার পর আর্সেনালের দীর্ঘ ও কঠিন যাত্রা নিয়ে দলের মিডফিল্ডার ডেকলান রাইস বলেছেন, ‘গত কয়েক বছরে এই ক্লাব যেখান থেকে উঠে এসেছে, খেলোয়াড় হিসেবে সেটা অনেক কষ্টের ছিল। কোচ পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। আমরা ক্রমাগত উন্নতি করেছি, একে অপরকে আরও এগিয়ে যেতে চাপ দিয়েছি। এই টুর্নামেন্ট এবং প্রিমিয়ার লিগে আমরা পুরো শক্তি দিয়ে খেলেছি। মৌসুম শেষ হতে এক মাসের কম সময় বাকি, আমরা ভালো অবস্থানে আছি।’
প্রিমিয়ার লিগে টানা তিন মৌসুম দ্বিতীয় হওয়ার যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছে আর্সেনালকে। চ্যাম্পিয়নস লিগে গত মৌসুমে ফিরতে হয়েছে সেমিফাইনাল থেকে। এবার সেই গেরো খুলে উদ্যাপনের দ্বারপ্রান্তে আর্সেনাল। এখন কেবল শেষ ধাপ পেরোনোর অপেক্ষা। নিজেদের লক্ষ্য নিয়ে আর্সেনালের কোচ আরতেতা বলেন, ‘এখন আমাদের এমন পর্যায়ে যেতে হবে যেখানে একটি বড় ক্লাব নিয়মিতভাবে সর্বোচ্চ শিরোপার জন্য লড়াই করে। সেই মান ধরে রাখতে হবে।’
আর্সেনাল ‘ডাবল’ জয়ের স্বাদ পেতে পারে এক সপ্তাহের মধ্যেই। যদি প্রিমিয়ার লিগের শিরোপাদৌড় মৌসুমের শেষ দিন পর্যন্ত চলে, তাহলে আর্সেনাল লিগ শিরোপা পুনরুদ্ধার করতে পারে ২৪ মে ক্রিস্টাল প্যালেসের মাঠে।
এরপর ৩০ মে তারা বুদাপেস্টে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে মুখোমুখি হবে পিএসজি বা বায়ার্ন মিউনিখের। অর্থাৎ সেটি হতে পারে আর্সেনালের জন্য স্মরণীয় একটি সপ্তাহ, যার জন্য কয়েক দশক ধরে অপেক্ষা করে আছে ইংলিশ ক্লাবটি। একই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ ও প্রিমিয়ার লিগ জিততে পারলে সেটি হবে ক্লাবটির ১৪০ বছরের ইতিহাসে সেরা সাফল্য।
সামনে কিছু চ্যালেঞ্জিং মুহূর্ত অপেক্ষা করলেও আপাতত উদ্যাপনেই মনোযোগ আর্সেনালের। গতকাল রাতে শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে মাঠে দৌড়ে গিয়ে খেলোয়াড়দের জড়িয়ে ধরে দলের উদ্যাপনে যোগ দেন আরতেতা। প
রে সমর্থকদের সঙ্গেও মাতেন উল্লাসে। আরতেতার ভাষায়, ‘এটি অবিশ্বাস্য রাত।’ সাংবাদিকদের এই কোচ বলেন, ‘যারা এই ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত তাদের নিয়ে আমি এর চেয়ে বেশি খুশি বা গর্বিত হতে পারি না। আমরা সবাই একই লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ঐক্যবদ্ধ ছিলাম।’
খেলোয়াড়দের প্রশংসা করে আরতেতা বলেন, ‘আমরা জানতাম সবার কাছে এর গুরুত্ব কতটা...ছেলেরা অবিশ্বাস্য খেলেছে। ২০ বছর পর এবং আমাদের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে ফিরলাম।’
আর্সেনালের সাবেক মিডফিল্ডার আরেততা ২০১৯ সালে ক্লাবটির কোচের দায়িত্ব নেন। স্প্যানিশ এ কোচ অকপটে স্বীকার করেন, আর্সেনাল কোচের দায়িত্ব নেওয়ার সময় ভাবেননি সাফল্যের এতটা কাছাকাছি পৌঁছাতে পারবেন। আরতেতার ভাষায়, ‘সত্যি বলতে, আমি তখন এমনটা ভাবিনি, কারণ শুরুতে আমরা ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় (চ্যাম্পিয়নস লিগ) ছিলাম না। এটি আমাদের জন্য বড় অর্জন।’
তবে আর্সেনালের এমন উদ্যাপনের সমালোচনা করেছেন ইংলিশ কিংবদন্তি ওয়েইন রুনি। অ্যামাজন প্রাইমে এক আলোচনায় রুনি বলেন, ‘তারা এখনো কিছু জেতেনি। আমার মনে হয় উদ্যাপনটা একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে। যখন জিতবে, তখন উদ্যাপন করো...তবে হ্যাঁ, তাদের এটা প্রাপ্য।’