সেনেগাল কি নতুন কোনো গল্প লিখবে

আজ বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে সেনেগালসেনেগাল ফুটবল
প্রথম আলোকে নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসেবে পেতে হলেএখানে ক্লিক করুন

রোমাঞ্চ আর মাঠের মহাযুদ্ধের অন্য নাম বিশ্বকাপ। আর সেখানে ফ্রান্স-সেনেগাল মুখোমুখি হওয়া মানেই ২০০২ বিশ্বকাপের সেই উদ্বোধনী ম্যাচের স্মৃতি ফিরে আসা।

প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে নাম লিখিয়েই অভিষেক ম্যাচে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিল সেনেগাল।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে যা ছিল অন্যতম বড় অঘটন। ২০০২ বিশ্বকাপে সেনেগালের সেই স্কোয়াডের ২১ জন খেলতেন ফ্রান্সের ক্লাবগুলোয়, আর সেই দলেরই সদস্য পাপে থিয়াও এখন প্রধান কোচ।

২০০২ বিশ্বকাপে প্রথম খেলেই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা সেনেগাল এরপর টানা তিনটি বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব পেরোতে পারেনি, ২০১৮ সালে ফিরে এবার নিয়ে খেলছে টানা তিন বিশ্বকাপ।

তবে বিশ্বকাপে নিজেদের সর্বশেষ ম্যাচটা ভুলেই যেতে চাইবে পশ্চিম আফ্রিকার দেশটি। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সেনেগাল শেষ ষোলোতে ইংল্যান্ডের কাছে ৩-০ গোলে উড়ে গিয়েছিল।

এমবাপ্পের মুখোমুখি হওয়ার আগে অনুশীলেন সাদিও মানেরা
সেনেগাল ফুটবল

চার বছর পর আজ আবার শুরু করছে দেশটি। বাংলাদেশ সময় রাত একটায় শুরু হওয়া ম্যাচে সেনেগালের প্রতিপক্ষ সেই ফ্রান্স। ২০০২ বিশ্বকাপের সেই ম্যাচের পর দুই দলের এই প্রথম দেখা। হয়তো কাগজে–কলমে ফ্রান্স আর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন নয়, রানার্সআপ।

কিন্তু ২০০২–এর ফ্রান্সের চেয়ে এই ফ্রান্স আরও বেশি ভয়ংকর। অনেক বিশেষজ্ঞের চোখেই এবারের শীর্ষ ফেবারিট। কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলেদের নিয়ে গড়া এই ফ্রান্সের আক্রমণভাগকে সামলানো সেনেগালের রক্ষণের জন্য হবে এক কঠিন পরীক্ষাই।

অধিনায়ক কালিদু কুলিবালির নেতৃত্বে মামাদু সার, আবদুলায়েক সেকরা সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে তৈরি। গোলরক্ষক এদুয়ার্দ মেন্দির মতো অভিজ্ঞ তারকা দলের বড় ভরসা।

আক্রমণভাগে মূল ভরসা সৌদি ক্লাব আল নাসরের ৩৪ বছর বয়সী তারকা সাদিও মানে। সঙ্গে আছেন আসানে দিয়াও, বাম্বা দিয়েংদের মতো নির্ভরযোগ্য মুখ।

চোখ থাকবে মানের ওপর
সেনেগাল ফুটবল

স্কোয়াডের বেশির ভাগ মুখ ফরাসি আর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলেন। ফলে সেনেগালকে এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দেবে ফ্রান্স, এতটা হয়তো ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশমও ভাবছেন না।

একটু পেছনে ফিরলে দেখা যায়, ২০০২ সালের পর টানা তিনটি বিশ্বকাপে বাছাইপর্ব টপকাতে পারেনি সেনেগাল। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে ফিরে এসে সেনেগালের বিদায় ছিল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম নিষ্ঠুর নির্মমতা।

আরও পড়ুন

গ্রুপে কোনো ম্যাচ না হেরেও জাপানের চেয়ে বেশি হলুদ কার্ড পাওয়ায় ‘ফেয়ার-প্লে’ নিয়মে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।

সেনেগালের ফুটবল ইতিহাসে আরেকটি নির্মম অভিজ্ঞতা হয়েছে। গত বছর আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের নাটকীয় ফাইনালে মরক্কোকে হারিয়ে সেনেগাল চ্যাম্পিয়ন হলেও দুই মাস পর মরক্কোকে জয়ী ঘোষণা করে সেনেগালের ট্রফি কেড়ে নেওয়া হয়। ম্যাচ চলাকালীন মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ায় বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগ আনা হয় সেনেগালের বিরুদ্ধে।

সেনেগালের ফুটবলে উৎসবের উপলক্ষ যেমন এসেছে, আবার এসেছে দুঃখের দিনও। সব পেছনে ফেলে বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মতো ফ্রান্সের মুখোমুখি হওয়ার আগে সেনেগালের জাতীয় সংসদের স্পিকার ওসমানে সোনকো সাদিও মানেদের কাছে জয়ের আশাবাদই রেখেছেন, ‘আমি মনে করি সেনেগাল জিতবে, অন্তত সব সেনেগালবাসীর মতো আমিও সেটাই প্রত্যাশা করি।’

আরও পড়ুন