এই রোনালদোকে কি আসলেই পর্তুগালের প্রয়োজন

পর্তুগাল কিংবদন্তি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোউয়েফা

প্রশ্নটা নতুন নয়। কয়েক বছর ধরেই আলোচনা চলছে—ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ছাড়া পর্তুগাল কি ভালো, নাকি তাঁকে নিয়েই দলটা বেশি কার্যকর? সর্বশেষ রোনালদোর জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার ঘোষণায় সেই পুরোনো প্রশ্নটাই আবার সামনে এসেছে। বরং এবার প্রশ্নটা আরও তীব্র। কারণ অনেকেরই মনে হচ্ছে, পর্তুগালের জার্সিতে রোনালদোকে হয়তো আর দেখা যাবে না।

৪১ বছর বয়সী রোনালদো অবশ্যই ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে। সেরা সময় পেছনে ফেলে এসেছেন অনেক আগেই। তার ওপর নতুন কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও যে খুব একটা স্বচ্ছন্দ নয়, ক্যাম্প ছাড়ার ঘটনাই তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদি ধরে নেওয়া হয়, এখানেই জাতীয় দলের হয়ে রোনালদোর ক্যারিয়ার শেষ, তাহলে প্রশ্ন ওঠে, পর্তুগাল কি তখন সত্যিই তাঁকে মিস করবে?

পর্তুগালের জার্সিতে রোনালদোর রেকর্ড অবিশ্বাস্য। রোনালদো–যুগের আগে পর্তুগাল মাত্র তিনটি বিশ্বকাপ ও তিনটি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে খেলেছে, জিততে পারেনি কোনো বড় আন্তর্জাতিক ট্রফি। রোনালদো–যুগে ছবিটা বদলেছে—পর্তুগাল ছয়টি বিশ্বকাপ ও ছয়টি ইউরোতে জায়গা করে নেয় এবং জেতে তিনটি বড় আন্তর্জাতিক ট্রফি।

পর্তুগালের হয়ে শেষটা ভালো হচ্ছে না রোনালদোর
এএফপি

পর্তুগালের হয়ে তাঁর গোল ১৪৬টি, ম্যাচ ২৩৪টি—দুটিই বিশ্ব রেকর্ড। টানা ২৫ বছর আন্তর্জাতিক ফুটবলে গোলের রেকর্ডও তাঁর। ইউরোতে গোল ১৪টি, বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ৪১টি, আর বিশ্বকাপে পর্তুগালের হয়ে করেছেন ১১টি গোল।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় রোনালদো কেমন করছেন? তিনি কি আদৌ বড় প্রভাব রাখতে পারছেন? পরিসংখ্যান বলছে, রোনালদোর প্রভাবটা খুব বেশি টের পাওয়া যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন

২০১৭ সালের পর পর্তুগালের রোনালদোসহ ম্যাচের হিসাব আর তাঁকে ছাড়া ম্যাচের হিসাব পাশাপাশি রাখলে খুব বড় পার্থক্য দেখা যায় না। এ সময়ে রোনালদোকে নিয়ে পর্তুগাল খেলেছে ৯৮ ম্যাচ। জিতেছে ৬২টি, ড্র ১৮টি, হেরেছে ১৮টি। পর্তুগালের জয়ের হার ৬৩ শতাংশ। রোনালদোকে ছাড়া ২৮ ম্যাচ খেলেছে পর্তুগাল। জয় ২০টি, ড্র ৮টি, হার মাত্র ২টি। জয়ের হার ৬৪ শতাংশ।

রোনালদোকে ছাড়া এ সময়ে পর্তুগাল ম্যাচপ্রতি গোল করেছে বেশি। কিংবদন্তিকে সঙ্গে নিয়ে পর্তুগাল ম্যাচপ্রতি করেছে ২.১ গোল। তাঁকে ছাড়া ম্যাচপ্রতি গোলের সংখ্যা ২.৭।

প্রথম আলো গ্রাফিকস

গত পাঁচ বছরে বিশ্বকাপ বা ইউরোর বাছাইপর্বের মাত্র দুটি ম্যাচ রোনালদো মিস করেছেন। সেটা নিষেধাজ্ঞার কারণে। দুটি ম্যাচই আবার পর্তুগালের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়ের তালিকায় আছে। লুক্সেমবার্গকে ৯-০ এবং আর্মেনিয়াকে ৯-১ গোলে হারিয়েছিল পর্তুগাল। এই পরিসংখ্যানে স্পষ্ট—গোলের জন্য পর্তুগালের রোনালদোর দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় না।

আরও পড়ুন

এমনিতেও পর্তুগালের বর্তমান দলে প্রতিভার অভাব নেই। ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বের্নার্দো সিলভা, ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস, নুনো মেন্দেসদের মতো খেলোয়াড় আছেন।

চারজন খেলোয়াড় তো টানা দুবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা পিএসজির সদস্য। এই দলকে ঘিরে প্রত্যাশা তাই শুধু রোনালদোর গোলের ওপর দাঁড়িয়ে থাকার কথাও নয়।
নতুন কোচ জর্জ জেসুসও শুরুতেই সেই বার্তা দিয়েছিলেন।

পর্তুগাল কোচ জর্জ জেসুস
এএফপি

রোনালদোকে দলে নেওয়ার সময় বলেছিলেন, অতীত নয়, পারফরম্যান্সই তার সিদ্ধান্তের ভিত্তি হবে। রোনালদো ‘অন্য রকম’ খেলোয়াড় হলেও সিদ্ধান্তে সেটি প্রভাব ফেলবে না—এমন কথাই জানিয়েছিলেন জেসুস।

তারপর ঘটনাপ্রবাহ দ্রুত বদলে কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, সেই গল্প তো সবারই জানা।