চ্যাম্পিয়ন হয়েও পদক মঞ্চে কেন যাননি কিংসের ফুটবলাররা
চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পদক গ্রহণের জন্য মঞ্চে ডাকাই হলো না। দেশের ফুটবল ইতিহাসে নজিরবিহীন এক ঘটনাই ঘটেছে গতকাল সন্ধ্যায় বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায়।
ফেডারেশন কাপের ফাইনালে মোহামেডানকে ৩-২ গোলে হারিয়ে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বসুন্ধরা কিংস। কিন্তু মাঠের জয় ছাপিয়ে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে দেখা গেল চরম বিব্রতকর পরিস্থিতি। কিংসের খেলোয়াড়দের পদক বা ট্রফি গ্রহণ করতে দেখা যায়নি।
বাফুফের দুই সহসভাপতিসহ ১২ জন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন মঞ্চে। প্রথমেই ম্যাচ অফিশিয়ালদের পুরস্কার দেওয়া হয়। এরপর ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় ও সর্বোচ্চ গোলদাতা (১২টি) হিসেবে কিংসের খেলোয়াড় দরিয়েলতন গোমেজের নাম দুবার ঘোষণা করা হলেও তিনি মঞ্চে আসেননি।
তাঁর পক্ষে পুরস্কার নেন দলের প্রধান কোচ বায়েজিদ আলম জোবায়ের। তবে টুর্নামেন্ট–সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার দরিয়েলতন নিজেই নেন। কিংসের পাওয়া ফেয়ার প্লে ট্রফি কোচ বায়েজিদ একাই গ্রহণ করেছেন।
রানার্সআপ মোহামেডানের খেলোয়াড়েরা পুরস্কার নেওয়ার পর চ্যাম্পিয়ন কিংসের খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পদক নিতে ডাকাই হয়নি। কারণ, ততক্ষণে আয়োজক বাফুফে বুঝে গেছে, কিংসের খেলোয়াড়েরা মঞ্চে আসবেন না। খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতিতে একা কোচ বায়েজিদ আলমই সব সামলান।
এর নেপথ্যের কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা গেছে, ফাইনালের আগে বকেয়া পাওনা পরিশোধের কথা থাকলেও কিংস তা না দেওয়ায় পরশু খেলোয়াড়েরা মাঠেই না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কর্মকর্তাদের অনুরোধে শেষ পর্যন্ত মাঠে যান তাঁরা, সেটাও মাঠে যাওয়ার নির্ধারিত সময়ের ৪৫ মিনিট পর। এ জন্য জরিমানা গুনতে হবে কিংসকে। দল সংশ্লিষ্ট একজন অবশ্য বিষয়টিকে পাত্তা না দিয়ে বলেছেন, ‘ফাইন করুক সমস্যা নেই। নাহয় এক-দুই লাখ টাকাই ফাইন করবে।’
এ প্রসঙ্গে ফেডারেশন কাপ ফাইনালের রেফারি অ্যাসেসর আজাদ রহমান বলেছেন, ‘ম্যাচের দেড় ঘণ্টা আগে মাঠে রিপোর্ট করতে হয়। কোনো দল নির্ধারিত সময়ে মাঠে না পৌঁছালে ম্যাচ কমিশনারের রিপোর্টের ভিত্তিতে শৃঙ্খলা কমিটির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দলকে জরিমানার বিধান আছে।’ খেলোয়াড়দের মঞ্চে গিয়ে পুরস্কার না নেওয়ার বিষয়টিও ম্যাচ কমিশনারের রিপোর্টে যুক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। এটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অবশ্য খেলোয়াড়েরা যে খেলেছেন, তাতেই স্বস্তি কিংসের এক কর্মকর্তার মুখে, ‘খেলোয়াড়েরা যে অনুরোধ রেখে মাঠে গেছে, আলহামদুলিল্লাহ।’
দলের একটি সূত্রের দাবি, ফুটবলাররা চুক্তির ৫০ ভাগ বা তারও কিছু বেশি টাকা এরই মধ্যে পেয়ে গেছেন। তারপরও এমন একটি অনুষ্ঠানে পুরস্কার না নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে কিংসের উইঙ্গার রাকিব হোসেন কোনো মন্তব্য করতে না চেয়ে বলেন, ‘এটা ক্লাবের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। আমি কিছু বলব না।’
কিংস সভাপতি ইমরুল হাসান অবশ্য দাবি করেছেন, বকেয়া বেতনের কারণে খেলোয়াড়দের মাঠে দেরিতে যাওয়া এবং পুরস্কার মঞ্চে না যাওয়ার কথাটি ঠিক নয়। তিনি বলেন, ‘ট্রফি তো আমরা মোহামেডানকে দিয়ে দিতে বলেছি আগেই। আর মাঠে দেরি করে যাওয়ার ব্যাপারটা গত কয় দিনের নানা ঘটনার প্রতিবাদ স্বরূপ বলতে পারেন।’ কোচ বায়েজিদ আলমের কথা, ‘বাফুফের সম্মানার্থে আমরা ম্যাচটি খেলেছি। সবাই মিলে ট্রফিটি নেইনি কারণ আমরা খেলতেই চাইনি।’
দেশের শীর্ষ ফুটবলে গত ৭ বছর ধরে দাপটের সঙ্গে খেলছে কিংস। তখন কখনো বেতনের সংকটের কথা শোনা যায়নি। কিন্তু এবার বেতন ঠিকমতো না পাওয়ার অভিযোগে গত অক্টোবরে তারিক কাজী ও জানুয়ারিতে কিউবা মিচেল ক্লাবের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করেন।
গত মাসে বকেয়া বেতনের দাবিতে ১৩তম রাউন্ডে বিদেশি ফুটবলার সানডে, দরিয়েলতন ও টনি মাঠে নামেননি। পরবর্তী সময়ে দরিয়েলতনের মান ভাঙলেও বাকি দুজন আর খেলেনইনি। এ ছাড়া বিদেশি কোচ-খেলোয়াড়দের পাওনা সংক্রান্ত জটিলতায় কিংস এবার খেলোয়াড় নিবন্ধনে ফিফার ১১টি নিষেধাজ্ঞাতেও পড়েছে। তবে এত সংকটের পরও চলতি মৌসুমে চ্যালেঞ্জ ট্রফি, লিগ ও ফেডারেশন কাপ মিলিয়ে ‘ট্রেবল’ জিতেছে দলটি।