স্পেন বিশ্বকাপ ১৯৮২

সক্রেটিস, জিকো, সের্জিনিও, এদের, ফ্যালকাওদের নিয়ে গড়া ’৮২ বিশ্বকাপের ব্রাজিল নিয়ে অনেক ধরনের রোমান্টিসিজম আছে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে। সেটি খুবই স্বাভাবিক। দলটি ছিল দুর্দান্ত। স্পেন বিশ্বকাপের পরিষ্কার ফেবারিট ছিল তারা। সেবার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ জিকো-সক্রেটিসরা খেলতে নেমেছিলেন সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপক্ষে। সেভিয়াতের বিপক্ষে সেই ম্যাচে ব্রাজিল জিতেছিল ২-১ গোলে। ৭৫ মিনিটে সক্রেটিস আর ৮৮ মিনিটে এদের ব্রাজিলের হয়ে গোল দুটি করেছিলেন। ইতালির বিপক্ষে ৩-১ গোলে হেরে ১৯৮২ বিশ্বকাপে সেকেন্ড গ্রুপ স্টেজ থেকে বিদায় নিয়েছিল ব্রাজিল।

মেক্সিকো বিশ্বকাপ ১৯৮৬

’৮৬-এর ব্রাজিলও ছিল দারুণ। খেলেছিলেন সক্রেটিস-জিকোরাই। সেবারও তারা ফেবারিট। কিন্তু মেক্সিকোতে ব্রাজিল বিদায় নিয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। ফ্রান্সের সঙ্গে সেই ম্যাচটি বিশ্বকাপের ইতিহাসেরই অন্যতম ‘আইকনিক’ ম্যাচ। খেলার নিষ্পত্তি হয়েছিল টাইব্রেকারে। ১৯৮৬ সালে ব্রাজিল নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলেছিল স্পেনের বিপক্ষে। মেক্সিকোর গুয়াদালাহারায় সে ম্যাচে ব্রাজিল জিতেছিল ১-০ গোলে। ৬২ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন সক্রেটিস।

ইতালি বিশ্বকাপ ১৯৯০

ইতালির তুরিনে সেবার ব্রাজিল প্রথম ম্যাচ খেলেছিল সুইডেনের বিপক্ষে। কারেকার জোড়া গোলে জয় ২-১ ব্যবধানে। ম্যাচের ৪০ ও ৬৩ মিনিটে গোল দুটি করেছিলেন তিনি। ১৯৯০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে বিদায় নিয়েছিল ব্রাজিল। দুঙ্গা, তাফারেল, কারেকা, আলেমাও, মুলারদের ব্রাজিল সে ম্যাচে হেরেছিল ডিয়েগো ম্যারাডোনার কারিশমার কাছেই। ফুটবল কিংবদন্তির বাড়িয়ে দেওয়া বল থেকেই ব্রাজিলের বুকে ছুরি বসান ক্লদিও ক্যানিজিয়া।

যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপ ১৯৯৪

১৯৭০ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রে সেবার নিজেদের চতুর্থ বিশ্বকাপটি জিতেছিল ব্রাজিল। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে রোমারিও, বেবেতো, ব্লাঙ্কো, দুঙ্গা, তাফারেলদের ব্রাজিল প্রথম ম্যাচ খেলেছিল রাশিয়ার সঙ্গে। পালো আলতোতে ব্রাজিল জিতেছিল ২-০ গোলে। ২৬ মিনিটে রোমারিওর গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর সেলেসাওরা দ্বিতীয় গোল পেয়েছিল ৫২ মিনিটের পেনাল্টি থেকে। গোল করেছিলেন রাই (সেবার রাইয়ের নেতৃত্বে ব্রাজিল যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে গেলেও মাঝপথে রাই বাজে পারফরম্যান্সের কারণে একাদশে জায়গা হারিয়েছিলেন)। এরপর অধিনায়ক করা হয় দুঙ্গাকে। ফাইনালে রবার্তো বাজ্জো, ফ্রাঙ্কো বারেসি, পাওলো মালদিনিদের ইতালিকে টাইব্রেকারে হারিয়েছিল ব্রাজিল।

ফ্রান্স বিশ্বকাপ ১৯৯৮

রোনালদো নাজারিওকে নিয়ে সেবার সারা দুনিয়ায় তীব্র হইচই। ব্রাজিলের জার্সিতে বিশ্বকাপ মাতাবেন এই তারকা—এমন প্রত্যাশাই ছিল সবার। আকাশসম প্রত্যাশা নিয়ে রোনালদো সেন্ট ডেনিসের স্তাদ দি ফ্রান্স স্টেডিয়ামে ব্রাজিলের জার্সিতে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। সবাই মনে করেছিল রোনালদো স্কটিশদের উড়িয়ে দেবেন। কিন্তু বাস্তবে ব্রাজিলকে অনেক কষ্ট করেই সেবারের প্রথম ম্যাচটা জিততে হয়েছিল। ৪ মিনিটে সিজার সাম্পাইওর গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর স্কটল্যান্ড গোল শোধ করে দিয়েছিল। ব্রাজিল ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত জেতে ৭৩ মিনিটে স্কটল্যান্ডের বয়ডের আত্মঘাতী গোলে। টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠে ব্রাজিল হারে স্বাগতিক ফ্রান্সের কাছে ৩-০ গোলে।

জাপান-কোরিয়া বিশ্বকাপ ২০০২

ব্রাজিলের পঞ্চম বিশ্বকাপ শিরোপাটা এসেছিল সেবারই। কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার উলসানে নিজেদের প্রথম ম্যাচটাতে সমর্থকদের হতাশ করেছিল রোনালদো-কাফু-রোনালদিনিও-রিভালদো-রবার্তো কার্লোসরা। তুরস্কের বিপক্ষে কষ্টেসৃষ্টে এসেছিল প্রথম জয়টি। ম্যাচের ৪৫ মিনিটে হাসান সাসের গোলে ১-০–তে এগিয়ে গিয়েছিল তুরস্ক। ব্রাজিল গোল শোধ করে ৫০ মিনিটে এসে। এরপর ৮৭ মিনিটে রিভালদো পেনাল্টি থেকে ব্রাজিলের জয়সূচক গোলটি করেছিলেন। এই ম্যাচটি রিভালদোর ফাউল পাওয়ার জন্য সেই অতি দুর্বল অভিনয়ের জন্য বিখ্যাত।

জার্মানি বিশ্বকাপ ২০০৬

ব্রাজিল সেবারের বিশ্বকাপে অচেনা প্রতিপক্ষের গ্রুপে পড়েছিল। ক্রোয়েশিয়া, জাপান আর অস্ট্রেলিয়া ছিল ব্রাজিলের গ্রুপসঙ্গী। প্রথম ম্যাচ ছিল ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে বার্লিনে। ৪৪ মিনিটে কাকার দেওয়া গোলেই জিতেছিল ২০০২ সালের শিরোপাজয়ীরা। দারুণ দল নিয়েও ব্রাজিল জার্মানি বিশ্বকাপে সেবার বিদায় নিয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে, জিনেদিন জিদানের জাদুতে ফ্রান্সের কাছে হেরে।

দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ ২০১০

জোহানেসবার্গে ব্রাজিল সেই বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলেছিল উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে। কিন্তু যেমন প্রত্যাশা ছিল, ব্রাজিল সেটি মেটাতে পারেনি। দুর্বল উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে কিছুটা ঘাম ঝরিয়েই জিততে হয়েছিল ব্রাজিলকে, ২-১ গোলে। ৫৫ মিনিটে ব্রাজিল পায় প্রথম গোল, মাইকন ছিলেন গোলদাতা। ৭২ মিনিটে দ্বিতীয় গোল করেছিলেন এলানো।

ব্রাজিল বিশ্বকাপ ২০১৪

ঘরের মাঠে বিশ্বকাপে ব্রাজিল সাও পাওলোতে প্রথম ম্যাচ খেলেছিল ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে। ম্যাচের ১১ মিনিটে স্টেডিয়াম স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল মার্সেলোার আত্মঘাতী গোলে। ২৯ মিনিটে নেইমারের গোলে খেলায় ফেরে ব্রাজিল। এরপর সেই নেইমারই নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ৭১ মিনিটে। খেলার যোগ করা সময়ে ব্রাজিলকে ৩-১ গোলে জয় এনে দেন অস্কার। স্বাগতিক ব্রাজিল সেবার সেমিফাইনালে উঠলেও বেলো হরিজন্তের মাঠ সেদিন দেখেছিল অভাবনীয় এক বিপর্যয়। জার্মানির কাছে ব্রাজিল হেরেছিল ৭-১ গোলে!

রাশিয়া বিশ্বকাপ ২০১৮

রাশিয়া বিশ্বকাপে রোস্তভে ব্রাজিল নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলেছিল সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে। কুতিনিওর গোলে এগিয়ে গেলেও সুইসরা শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলকে জিততে দেয়নি। বহু বছর পর ব্রাজিল সেবারই বিশ্বকাপের সূচনায় ড্র করে বসে। চার বছর আগে ব্রাজিলকে কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় করে দিয়েছিল বেলজিয়াম।