রিয়াল মাদ্রিদের রেকর্ডে কি ভাগ বসাতে পারবে পিএসজি?
আজ চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন মৌসুম শুরু হওয়ার আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন বোধ হয় এটাই। কী রেকর্ড? সেটা অনেকেরই জানা। যাদের জানা নেই, তাদেরও মনে করিয়ে দেওয়া হবে, তবে এই লেখার একেবারে শেষে। তার আগে বরং চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন ফরম্যাটটা আরও একবার মনে করিয়ে দেওয়া যাক।
বছর দুয়েক আগে যে ফরম্যাট চালু করেছিল উয়েফা, এবার সেই নিয়মে খেলা হবে তৃতীয়বারের মতো। ৩২ দলকে আটটি গ্রুপে ভাগ করার গতানুগতিক হিসাব এখন অতীত। এখন চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম পর্বে খেলে ৩৬টি দল। বিশাল লিগ পর্বে প্রতিটি দলকে লড়তে হবে ৮টি ভিন্ন দলের বিপক্ষে। ৪টি ম্যাচ নিজেদের মাঠে, ৪টি প্রতিপক্ষের মাঠে। ৮টি করে ম্যাচ শেষে টেবিলের শীর্ষ ৮টি দল সরাসরি চলে যাবে শেষ ষোলোয়। ৯ থেকে ২৪ নম্বরে থাকা ১৬টি দল দুই লেগের ‘প্লে-অফ’ লড়াইয়ে নামবে বাকি ৮টি টিকিটের জন্য। আর ২৫ থেকে ৩৬ নম্বরে থাকা বাকি দলগুলোর যাত্রা সেখানেই শেষ। ঝরে পড়ে ইউরোপা লিগে যাওয়ার সুবিধা আর নেই এখন। আগামী বছরের ৫ জুন মাদ্রিদের মেত্রোপোলিতানো স্টেডিয়ামের ফাইনাল শেষে চ্যাম্পিয়নস লিগ পাবে নতুন রাজা।
তার আগে চলুন দেখে নেওয়া যাক, নতুন মৌসুম ফুটবলপ্রেমীদের জন্য কী রোমাঞ্চ জমিয়ে রেখেছে:
নতুনদের স্বপ্ন, অচেনা উত্তেজনা
চ্যাম্পিয়নস লিগের সৌন্দর্যই এই জায়গায়। বড় দলগুলোর ভিড়ে হঠাৎ উঠে আসে নতুন গল্প। মূল পর্বের ৩৬ দলের মধ্যে চারটির এবার ইউরোপসেরা প্রতিযোগিতায় অভিষেক—কোমো, সাবাহ বাকু, এলএএসকে লিনৎস ও ভাইকিং। সব মিলিয়ে ১৯৯২-৯৩ মৌসুমে নতুন নামকরণের পর চ্যাম্পিয়নস লিগের মূল পর্বে খেলা ক্লাবের সংখ্যা দাঁড়াল ১৬৩।
ইতালির ফুটবলে আলো ছড়ানো সেস্ক ফ্যাব্রেগাসের কোমো গত মৌসুমে এসি মিলান ও জুভেন্টাসকে পেছনে ফেলে সিরি আ-তে তৃতীয় হয়েছিল। ইতালির ফুটবলে দেখার মতো এক দল হয়ে উঠেছে কোমো, এখন ইউরোপে তারা কী করতে পারে, সেটাই দেখার।
অন্যদিকে ৬১ বছর পর অস্ট্রিয়ান লিগ জেতা এলএএসকে লিনৎস এবং ৩৪ বছর পর নরওয়েজিয়ান লিগ জেতা ভাইকিং বাছাইপর্বের দেয়াল ডিঙিয়ে এবারই প্রথম মূল মঞ্চের আলো দেখছে।
তবে সবচেয়ে দারুণ গল্পটা আজারবাইজানের সাবাহ বাকুর। ১০ বছর আগে জন্ম নেওয়া দলটা গত মৌসুমে ঘরোয়া ফুটবলে ডাবল জিতেছে। প্রথম বাছাইপর্ব থেকে শুরু করে টানা ৮ ম্যাচের ৬টিতে জিতে মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত করেছে। স্বপ্নের মতো পথচলা তো একেই বলে।
চেনা মঞ্চে প্রত্যাবর্তন
অনেক দিন পর আবার চেনা মঞ্চে ফেরার আনন্দ নিয়ে নামবে কয়েকটি দল। ২০২৪-২৫ মৌসুমে কনফারেন্স লিগের ফাইনাল খেলা রিয়াল বেতিস ২১ বছর পর ফিরছে মূল আসরে।
তুর্কি ক্লাব ফেনেরবাচে ২০০৮-০৯ মৌসুমের পর এই প্রথম মূল পর্বে খেলছে। মাঝে ১০ বার বাছাইপর্বেই থমকে গিয়েছিল তাদের স্বপ্ন। অবশেষে গত মাসে অলিম্পিক লিওঁকে হারিয়ে ১৬ বছরের খরা কাটিয়েছে তারা। এ ছাড়া ২০১৮-১৯ মৌসুমের পর প্রথমবারের মতো ফিরেছে গ্রিক ক্লাব এইকে এথেন্স ও ইতালির রোমা। পোর্তো ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডও দুই মৌসুমের বিরতি কাটিয়ে নতুন লিগ পর্বের যুগে পা রেখেছে।
প্রথমবারের মতো মুখোমুখি
চ্যাম্পিয়নস লিগের মঞ্চে কিছু লড়াই এখন যেন নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে গেছে। গত ১০ বছরে রিয়াল মাদ্রিদ-ম্যানচেস্টার সিটি, লিভারপুল-রিয়াল মাদ্রিদ, বায়ার্ন মিউনিখ-পিএসজি, বার্সেলোনা-পিএসজি, এই ম্যাচগুলো যে কতবার দেখেছেন দর্শক! এবারের সূচি অবশ্য বেশ কিছু নতুন দ্বৈরথের সুযোগ করে দিয়েছে। একাধিকবার চ্যাম্পিয়নস লিগ খেললেও আগে কখনো মুখোমুখি হতে দেখা যায়নি, এমন কিছু ম্যাচ দেখা যাবে এবার।
জানুয়ারির শেষে আতলেতিকো মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে ফেনেরবাচে। আরেক নতুন রোমাঞ্চের নাম পিএসজি-রোমা ম্যাচ। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজির মুখোমুখি হতে ডিসেম্বরে প্যারিস সফর করবে ইতালির ক্লাবটি। সাবেক দুই চ্যাম্পিয়ন অ্যাস্টন ভিলা ও বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের লড়াইও এবারই প্রথম দেখবে ফুটবল বিশ্ব। আগামী জানুয়ারিতে ভিলা পার্কে হবে ম্যাচটা।
স্মৃতি, আবেগ আর পুনর্মিলন
ম্যানচেস্টার সিটিতে ট্রফি ভরা ক্যারিয়ার কাটানো বার্সেলোনার রদ্রি হয়তো ভাবেননি, বার্সার জার্সিতে চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম ম্যাচেই তাঁর সাবেক ক্লাবের মুখোমুখি হতে হবে। বার্সার আরেক সাবেক তারকা সেস্ক ফাব্রেগাস এবার কোমোর কোচ হয়ে ফিরবেন ক্যাম্প ন্যু-তে। আর কদিন আগে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজিতে যোগ দেওয়া ফেরান তোরেসের ভাগ্যও তাঁকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে সাবেক ক্লাব বার্সার মুখোমুখি।
আর আছেন জোসে মরিনিও। রিয়াল মাদ্রিদে দ্বিতীয় মেয়াদে কোচ হয়ে আসা মরিনিওর ইউরোপ-অভিযানের শুরুটাই হচ্ছে আজ ইন্টার মিলানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। ২০১০ সালে ইন্টারকে নিয়েই সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে বায়ার্ন মিউনিখকে ২-০ গোলে হারিয়ে ইউরোপ জয় করেছিলেন এই পর্তুগিজ কোচ। তাঁর আরেক প্রিয় ক্লাব চেলসির মাঠ স্টামফোর্ড ব্রিজেও পা পড়বে মরিনিওর, যেখানে এবার শাখতার দোনেৎস্ক নিজেদের হোম ম্যাচগুলো খেলবে।
এবং রিয়ালকে ছোঁয়ার হাতছানি পিএসজির
চ্যাম্পিয়নস লিগ যুগে টানা তিনবার ইউরোপ-সেরা হওয়ার কীর্তি শুধু রিয়াল মাদ্রিদের। লুইস এনরিকের পিএসজির সামনে এবার জিনেদিন জিদানের সেই রিয়ালের রেকর্ড ছোঁয়ার হাতছানি। ঘরের মাঠে তাদের খেলতে হবে বার্সেলোনা, রোমা ও গালাতাসারাইয়ের বিরুদ্ধে। আর প্রতিপক্ষের মাঠে তাদের পরীক্ষা নেবে ভিয়ারিয়াল ও কোমো। সঙ্গে রয়েছে ইংলিশ দুই ক্লাবের বড় চ্যালেঞ্জ। ম্যানচেস্টার সিটি এবং গত আসরের কোয়ার্টার ফাইনালে এনরিকের ঘাম ছুটিয়ে দেওয়া অ্যাস্টন ভিলা এবারও পিএসজির কঠিন পরীক্ষা নিতে তৈরি।