‘এবার আমাদেরই জেতা উচিত’, সাফে ২৩ বছরের খরা কাটানো নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ডুলি

আগামী বৃহস্পতিবার শুরু সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ। তার আগে চলছে শমিত–ফাহামিদুলদের প্রস্তুতিপ্রথম আলো
প্রথম আলোকে নির্ভরযোগ্য সূত্র হিসেবে পেতে হলেএখানে ক্লিক করুন

জাতীয় স্টেডিয়ামের ভিআইপি গেট দিয়ে ঢুকতেই কানে এল গানের সুর। খানিকটা থমকে যেতে হলো। মাঠের ভেতর আবার কিসের এত আয়োজন! একটু এগোতেই চোখে পড়ল উৎসবের প্রস্তুতি। মাঠের এক পাশে গানের তালে নাচছেন একদল শিল্পী, অন্য পাশে ব্যস্ত কর্মীরা বিজ্ঞাপনী বোর্ড লাগানোর কাজে। সবুজ গালিচাকেও ধুয়েমুছে প্রস্তুত করা হচ্ছে আগামী বৃহস্পতিবার শুরু সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য।

স্টেডিয়ামের বাইরে ফুটবল-উন্মাদনার খুব একটা ছাপ নেই। ২০১৮ সালে সর্বশেষ ঢাকায় সাফের সময় টুর্নামেন্ট শুরুর পাঁচ-ছয় দিন আগে থেকেই গমগম করত স্টেডিয়ামপাড়া। এবার যেন একটু নীরবতা। তবে আয়োজকদের প্রস্তুতিতে কমতি নেই। উদ্বোধনী মঞ্চ মাতাতে আসছেন ফিফা বিশ্বকাপের টরন্টো পর্ব মাতানো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন ডিজে ও সংগীত প্রযোজক সঞ্জয় দেব। সঙ্গে থাকছে স্থানীয় শিল্পীদের জমকালো সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

মাঠের বাইরের এই আয়োজন যতই বর্ণিল হোক, ফুটবলপ্রেমীদের চোখ আসলে মাঠের লড়াইয়েই। ২৩ বছরের অপেক্ষা ঘোচানোর হাতছানি বাংলাদেশের সামনে। সেই ২০০৩ সালে এই ঢাকার মাটিতেই শেষবার সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল লাল-সবুজের দল। এরপর কেটে গেছে দুই দশকের বেশি সময়। প্রাপ্তির খাতা শূন্য, জমেছে হতাশা আর আক্ষেপ। এবার কি সেই অপেক্ষার অবসান হবে?

প্রশ্নটা শুধু সমর্থকদের নয়, প্রতিপক্ষদেরও। বিশেষ করে প্রতিবেশী ভারত। টুর্নামেন্টের সফলতম দল শিরোপা ধরে রাখার প্রত্যয় নিয়েই আজ ঢাকায় পা রেখেছে। দুপুরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমেই নিজেদের লক্ষ্যের কথা জানিয়ে দিয়েছেন কোচ নওশাদ মুসা, ‘সবারই লক্ষ্য থাকে ম্যাচ জেতা এবং চ্যাম্পিয়ন হওয়া। আমরা অবশ্যই শিরোপা ধরে রাখতে চাই।’

এবিজি স্পোর্টস গ্রাউন্ডে আজ অনুশীলনে ফুরফুরে মেজাজে দেখা গেল জামালদের
প্রথম আলো

ভারতীয় কোচ যখন বিমানবন্দরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন, বাংলাদেশ দল তখন অনুশীলনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিকেল চারটার কিছুক্ষণ আগে টিম বাস গিয়ে থামে এবিজি স্পোর্টস সিটির মাঠে। এরপর প্রায় দুই ঘণ্টার ঘাম ঝরানো অনুশীলন। একই মাঠে ঘণ্টাখানেক আগে অনুশীলন করে সাফে বাংলাদেশের প্রথম প্রতিপক্ষ ভুটানও।

ছয় দলের এই লড়াইয়ে কে এগিয়ে, সেই প্রশ্নে আলোচনায় আসছে বাংলাদেশ ও ভারতই। তবে ভারত পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে ঢাকায় আসেনি। যদিও ইতিহাস মনে করিয়ে দেবে, তারপরও ভারতকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। ২০০৯ সালে অনূর্ধ্ব-২৩ দল নিয়ে খেলেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত।

আরও পড়ুন

তবে এটাও ঠিক, বাংলাদেশও আগের জায়গায় দাঁড়িয়ে নেই। ২০০৯ থেকে ২০২৬—মাঝের দীর্ঘ সময়ে বদলেছে দলের চেহারা, বেড়েছে সামর্থ্য। হামজা-শমিতদের মতো তারকারা এখন বাংলাদেশের জার্সিতে খেলছেন। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও আশার আলো দেখাচ্ছে। গত বছরের ১৮ নভেম্বর ঢাকার মাঠেই এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

ভারতের কোচ নওশাদ মুসারও নিশ্চয়ই তা অজানা নয়। যে কারণে বলেছেন, ‘আমার বিবেচনায় এই মুহূর্তে বাংলাদেশই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে শক্তিশালী দল। আশা করি, ফাইনালে তাদের মুখোমুখি হব।’

ভারতীয় কোচের কথায় প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান আছে, আছে শিরোপা ধরে রাখার আত্মবিশ্বাসও। তবে বাংলাদেশের কোচ টমাস ডুলির কণ্ঠে যেন আরও স্পষ্ট প্রত্যয়ের সুর। মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বললেন, ‘ভারত কেমন দল নিয়ে এসেছে, সেটা বড় কথা নয়। নিশ্চয়ই তারা শিরোপা জিততে চাইবে। আমাদেরও একই লক্ষ্য। কেউ এখানে হারতে চাইবে না। সবার প্রতি সম্মান রেখেই বলি, এবার আমাদের জেতা উচিত।’

একদিকে ভারতের শিরোপা ধরে রাখার প্রত্যয়, অন্যদিকে ২৩ বছরের অপেক্ষা ঘোচানোর স্বপ্ন বাংলাদেশের। কথার লড়াইয়ে দুই প্রতিবেশীই নিজেদের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে। উদ্দেশ্যটা তো পরিষ্কারই, কথার লড়াইয়ে মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা নেওয়াটা। কিন্তু দিন শেষে এসব কথার কীই–বা মূল্য, মাঠের খেলাটাই হলো আসল। এটা অবশ্য সবারই জানা। নওশাদ মুসার যেমন, তেমনি টমাস ডুলিরও।

আরও পড়ুন