দেশমকে বিদায়ী উপহার হিসেবে আবার বিশ্বকাপের ট্রফিটাই দিতে চান দেম্বেলে

দেশম ও দেম্বেলেএএফপি

১৪ বছরের এক দীর্ঘ, গৌরবময় অধ্যায়। ফরাসি ফুটবলের রাজকীয় এক যুগের অবসান হতে চলেছে এই বিশ্বকাপেই। ২০১৮ বিশ্বকাপজয়ী কোচ দিদিয়ের দেশম আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, এবারের বিশ্বকাপ শেষেই ফরাসি ডাগআউটকে বিদায় জানাবেন। কোচের এই বিদায়বার্তা কি তবে ফরাসি শিবিরে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে? মাঠের লড়াই শুরুর আগে কি একটু হলেও মনোযোগ হারাচ্ছেন খেলোয়াড়েরা?

উসমান দেম্বেলে অবশ্য তেমনটা ভাবছেন না। পিএসজির এই উইঙ্গার মনে করেন, কোচের বিদায় তাঁদের মনোযোগে কোনো চির ধরাচ্ছে না। উল্টো এটি তাঁদের জন্য বাড়তি এক টনিক হিসেবে কাজ করছে। দেশমের বিদায়ী মঞ্চটা একটা ট্রফি উঁচিয়ে রাঙাতে চান তাঁরা। গত শনিবার ইএসপিএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেম্বেলে ফরাসি ড্রেসিংরুমের এই আবহের কথাই জানিয়েছেন।

ফরাসি ফুটবলে দেশম যেন এক চিরন্তন বটবৃক্ষ। ২০১২ সালের গ্রীষ্মে লঁরা ব্লাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। এরপরের গল্পটা তো যেকোনো রূপকথাকেও হার মানায়। তাঁর হাত ধরেই ২০১৮ সালে বিশ্ব জয় করে ফ্রান্স, ২০২১ সালে জেতে নেশনস লিগ।

আরও পড়ুন

২০১৬ ইউরো এবং ২০২২ বিশ্বকাপের ফাইনালে তোলার পাশাপাশি গত ২০২৪ ইউরোর সেমিফাইনালে দলকে টেনে নিয়েছেন তিনি। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় কোচ হিসেবে দেশম নিজেকে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়।

ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম
এএফপি

তবে এবার বিশ্বকাপে কিংবদন্তি কোচের বিদায়ের সুর যেহেতু বেজে উঠেছে, তাঁর শেষটাও হওয়া চাই সবচেয়ে রাজকীয়। দেম্বেলের কথাতেও যেন সেই সুর, ‘আমরা সবাই জানি, কোচের এটাই শেষ টুর্নামেন্ট। ফরাসি দলে তাঁর সাফল্য আকাশছোঁয়া, তিনি অসাধারণ এক কোচ। তাঁর মতো একজনকে ডাগআউটে পেয়ে আমরা গর্বিত। এর আগেও আমরা তাঁর অধীনে বিশ্বকাপ খেলেছি।’

দেশমকে বিদায়ী উপহার হিসেবে আবার বিশ্বকাপের ট্রফিটা দিতে চান দেম্বেলে। ফরাসি উইঙ্গার বলেছেন, ‘তাঁর চলে যাওয়ার ঘোষণা এই টুর্নামেন্টে আমাদের মানসিকতায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে না। আমরা তাঁর হাত ধরে ফাইনালে উঠে দারুণ এক সমাপ্তি টানতে চাই। দলের প্রতিটি খেলোয়াড়ের ওপর ওঁর অগাধ আস্থা। প্রতিটি ম্যাচের পর তিনি আমাদের অভিনন্দন জানান, অনুপ্রাণিত করেন।’

নিজের ক্যারিয়ারে দেশমের অবদানের কথা মনে করিয়ে দিয়ে দেম্বেলে আরও যোগ করেন, ‘আমার ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারেও তিনি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কোচ হিসেবে ওঁর শেষটা রাঙাতে নিজেদের উজাড় করে দেব, কারণ এটা তাঁর পাওনা।’

আরও পড়ুন

কোচকে সেরা বিদায়ী উপহারটা দিতে পারবেন বলেই আত্মবিশ্বাসী দেম্বেলে। বোদ্ধারাও মনে করছেন, এই বিশ্বকাপে ফ্রান্স শিরোপার অন্যতম দাবিদার।  তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে যে ফেবারিট তত্ত্ব খাটে না, সেই বাস্তবতাবোধও আছে দেম্বেলের। কাতার বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা থেকে শুরু করে ২০২৪ ইউরোজয়ী স্পেন, ইংল্যান্ড, পর্তুগাল, জার্মানির পাশাপাশি ব্রাজিলের মতো কঠিন প্রতিপক্ষের শক্তি সম্পর্কে ভালোই ধারণা আছে দেম্বেলের।

তাঁর কথা, ‘কাগজে-কলমে অনেকেই ফেবারিট। কিন্তু মাঠের লড়াই যখন শুরু হয়, তখন লড়াইটা এগারো বনাম এগারোজনের। তখন আর কোনো ফেবারিট থাকে না। আমাদের পুরো মনোযোগ ধরে রাখতে হবে।’

১৬ জুন নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে ফ্রান্সের বিশ্বকাপ অভিযান।