বিশ্বকাপে নিষিদ্ধ ভুভুজেলা, আচরণবিধিতে কড়া ফিফা
ভুভুজেলা! নামটা শুনেই মনে পড়তে পারে ২০১০ বিশ্বকাপ। সেবার স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচে কান ঝালাপালা করে দিয়েছিল এই বাঁশি। লম্বা প্লাস্টিকের তৈরি এই বাঁশি তার পর থেকেই পুরো বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছিল। কিন্তু এবার বিশ্বকাপে গ্যালারিতে ভুভুজেলা বাজিয়ে মাতামাতি করার সুযোগ পাচ্ছেন না ফুটবলপ্রেমীরা।
১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপের ভেন্যুগুলোয় ভুভুজেলা বাঁশি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, সম্প্রতি প্রকাশিত স্টেডিয়ামের আচরণবিধিতে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
ভুভুজেলা মূলত দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবল ম্যাচগুলোর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। মৌমাছির ঝাঁক একসঙ্গে উড়লে যেমন গুঞ্জন হয়, অনেকে ভুভজেলার শব্দকে এর সঙ্গে তুলনা করেন। তবে ভুভুজেলার একঘেয়ে ও তীব্র আওয়াজের কারণে এটি নিয়ে তুমুল সমালোচনাও রয়েছে।
ফিফার স্টেডিয়াম আচরণবিধি অনুযায়ী, কেবল ভুভুজেলা নয়, এয়ার হর্নসহ মাত্রাতিরিক্ত শব্দ তৈরি করে—এমন যেকোনো ধরনের যন্ত্র ১৬টি ভেন্যুর কোনোটিতেই নেওয়া যাবে না। এ ছাড়া লেজার রশ্মি ছড়ায়—এমন যন্ত্র বা লেজার পয়েন্টার নেওয়াও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার এ তালিকায় পোশাকের বিষয়েও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, শরীরে রং করা বা ট্যাটু আঁকাকে কোনোভাবেই পোশাক হিসেবে গণ্য করা হবে না। মাঠে নগ্ন হয়ে দৌড়ানো, শরীর প্রদর্শন বা পোশাক খুলে শরীরের সংবেদনশীল অংশ দেখানো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
নিরাপত্তাঝুঁকির অজুহাতে দর্শকদের স্টেডিয়ামে পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল নিয়ে প্রবেশের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ফিফা। আচরণবিধিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, এ নিয়মগুলো যাঁরা অমান্য করবেন, তাঁদের স্টেডিয়ামে ঢুকতে দেওয়া হবে না কিংবা স্টেডিয়াম থেকে বের করে দেওয়া হতে পারে।