আর্জেন্টিনাকে কাঁপিয়ে দেওয়া কেপ ভার্দের কে এই লোপেজ

সিডনি লোপেজ কাবরালের গোলে দ্বিতীয়বার সমতা ফেরায় কেপ ভার্দেরয়টার্স

ম্যাচের পর লিওনেল মেসির সঙ্গে কয়েকটা ছবি তুলে রাখতে চেয়েছিলেন সিডনি লোপেজ কাবরাল। তিনি জানেন, বহু বছর পর, বুড়ো হয়ে গেলেও তাঁকে বলতে হবে এই গল্প। মেসির সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতাটা কেমন…অনেক আড্ডাতেই তাঁর জন্য ছুটে আসবে এমন প্রশ্ন।

তবু ম্যাচের আগে মেসির কথা ভেবে মাথাটা বিগড়ে ফেলতে চাননি। শুধু ম্যাচের পর ফোনে কয়েকটা স্মৃতি জমিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন ভবিষ্যতের জন্য। সেটি লোপেজ পেরেছিলেন কি না নিশ্চিত হওয়া যায়নি তখনো।

ম্যাচ হেরে যাওয়ার পর অঝোরে কাঁদতে কাঁদতেই মাঠ ছেড়েছেন। তবে একটা ব্যাপার তিনি নিশ্চিত করে ফেলেছেন তার আগেই, লোপেজের রাস্তা আটকেও যে ছবি তুলতে চাইতে পারেন কেউ কেউ, তা এখন বলে দেওয়া যায় তেমন সংশয় ছাড়াই।

সিডনি লোপেজ কাবরাল
রয়টার্স

আর্জেন্টিনা–কেপ ভার্দে ম্যাচটা দেখলে কারণটা এতক্ষণে জেনেই যাওয়ার কথা আপনারও। লিসান্দ্রো মার্তিনেজের দুর্দান্ত গোলে আর্জেন্টিনা ২–১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর মনে হচ্ছিল বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের রূপকথার গল্পটা বোধ হয় এখানে শেষ।

তখনই আর্জেন্টিনার বক্সের বাইরে বাঁ দিকে বল পান লোপেজ। কাট করে ভেতরে ঢুকে বক্সের বাইরে থেকে তাঁর দুর্দান্ত শট একেবারে আর্জেন্টিনার গোলপোস্টের কোনা দিয়ে জালে জড়ায়, অসহায় চোখে তা দেখা ছাড়া কিছু করার ছিল না এমিলিয়ানো মার্তিনেজের। যেটিকে বলা হচ্ছে এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোল।

৫ লাখ ৩০ হাজার মানুষের দেশে ‘পার্টি’ করাটাই সবচেয়ে আনন্দের কাজ। ছোট্ট জীবনটা উপভোগ করাই তাঁদের মন্ত্র। লোপেজও ব্যতিক্রম নন খুব একটা। তবে তাঁর মনে ছিল একটা অন্য স্বপ্নও—পেশাদার ফুটবলার হতে হবে।

এই স্বপ্নের জন্যই তিনি ‘পাগল’ হয়ে গিয়েছিলেন বাকিদের কাছে, ‘আমি সব সময় পরিবার, বন্ধুবান্ধব আর প্রেমিকাকে বলতাম, একদিন শীর্ষ পর্যায়ে ফুটবল খেলব। কিন্তু তখন বন্ধুরা আমাকে পাগল বলত।’

গোল করে গ্যালারিতে ছুটে যান লোপেজ
রয়টার্স

কিন্তু লোপেজ সেই পাগলামিটাকেই নিজের মতো লালন করে গেছেন। রাত তিনটা অবধি পার্টি করতেন ঠিকই, পরদিন সকাল ১০টায় আবার ফিরে গেছেন অনুশীলনে। বিধাতাও তাঁর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেননি।

এই বছর দুয়েক আগেও জার্মানির পঞ্চম ডিভিশনে খেলতেন। সেখান থেকে সুইডেন হয়ে গত মৌসুমের শুরুতে যান পর্তুগালের দ্বিতীয় স্তরের ক্লাব ভিক্টোরিয়া কোলনে। ক্লাবের হয়ে ৫ গোল করার পর মৌসুমের মাঝপথেই তাঁকে নিয়ে আগ্রহী হয় বেনফিকা।

জানুয়ারিতে দল বদলে বেনফিকার হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগেও খেলে ফেলেছেন লোপেজ। দুই বছর আগেও যিনি ময়লার পলিথিন দিয়ে বাসার জানালার পর্দা বানাতেন, মাসে বেতন ছিল মাত্র সাড়ে আট শ ডলার, সেই লোপেজকে এখন চেনে পুরো দুনিয়া। বয়সটা কেবল ২৩, কে জানে সামনের দিনগুলো হয়তো আরও স্বপ্নরাঙা।

আরও পড়ুন