এমিলিয়ানো মাতারেনগোলোর কথাই ধরা যাক। বুয়েনস এইরেসের ৩৯ বছর বয়সী এই অধিবাসী বিশ্বকাপ দেখতে কাতার যেতে নিজের জমানো সব অর্থ খরচ করবেন। ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক পাস করলেও মেসির হাতে বিশ্বকাপটা কাছ থেকে দেখার প্রত্যাশায় ব্যবসার কোনো সূত্রই যেন মানছেন না এই আর্জেন্টাইন।

কাতারে বিশ্বকাপ দেখতে জমানো অর্থ কিংবা ধনসম্পদ দেদার খরচ করা মানুষের তালিকায় মাতারেনগোলোর মতো আছেন আরও অনেকেই। বিশ্বকাপ দেখতে কাতারে যেতে কীভাবে টাকা জমিয়েছেন, তা জানাতে গিয়ে মাতারেনগোলো বলেছেন, ‘চার বছর ধরে জমাচ্ছি। স্বপ্ন সত্যি করার জন্য প্রতি মাসে কিছু টাকা জমা রেখেছি। এ জন্য গাড়ি-বাড়ি কেনাও বন্ধ রেখেছিলাম।’

কেন এমন সিদ্ধান্ত নিলেন? উত্তরে মাতারেনগোলোর ব্যাখ্যা, ‘এটা স্বপ্ন, এটা একধরনের মোহ। অনেক মানুষ বলে, সে বাড়ির জন্য টাকা না রেখে কাতার যাওয়ার জন্য টাকা খরচ করছে। হ্যাঁ, আমি নিশ্চিত যে বাড়ি ভালো ব্যাপার। তবে আমি বিশ্বকাপ দেখতেই যাব।’

বিশ্বকাপের জন্য এবার দারুণভাবে প্রস্তুত হয়েছে আর্জেন্টিনা। টানা ৩৫ ম্যাচ অপরাজিত থাকার দারুণ রেকর্ডকে সঙ্গী করেই কাতার যাবেন মেসিরা। এর আগে গত বছর কোপা আমেরিকা জেতার সাফল্যও আর্জেন্টিনাকে বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাবে। শুধু আর্জেন্টিনা থেকেই নয়, মেসির হাতে শিরোপা দেখার প্রত্যাশায় ইংল্যান্ড-জাপান থেকেও সমর্থকেরা কাতার যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বিশ্বকাপে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের মূল ভরসা হবেন মেসি। আর স্বর্গ থেকে তাঁদের সাহস দেবেন ম্যারাডোনা। এই তো কদিন আগে সারমিনেটো পার্কে ভক্তদের জড়ো হয়ে গাইতে দেখা গেছে, ‘মাঠে আমাদের মেসি আছে এবং স্বর্গে খেলবেন ডিয়েগো (ম্যারাডোনা)।’

বিশ্বকাপ নিয়ে আর্জেন্টাইনদের উন্মাদনা ভুলিয়ে দিচ্ছে দেশটির চলমান অর্থনৈতিক সংকটকেও। যে ধারাবাহিকতায় বেড়েছে দেশের বাইরে যাওয়ার খরচও। তবে কোনো কিছুই যেন আর্জেন্টাইনদের স্বপ্নকে রুখতে পারছে না।

জোনাথন লুনা নামের ৩২ বছর বয়সী এক আর্জেন্টাইন নাগরিক বলেছেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আর্জেন্টিনা এখন কিছু সংকটের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। যেখানে প্রতি মাসে সবকিছুর দাম বেড়েই চলেছে। তবে এক রাতে বসে সিদ্ধান্ত নিলাম যে আমি বিশ্বকাপ দেখতে যাব। কারণ, আমি জাতীয় দলকে ভালোবাসি। আমি আর্জেন্টিনাকে সব জায়গাতেই ছায়াসঙ্গী হয়ে অনুসরণ করি। এটা আমার প্রথম বিশ্বকাপ এবং যখন আমি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম, চোখে পানি এসে গিয়েছিল।’

কাতার যাওয়ার সিদ্ধান্ত কীভাবে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, সেই ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে লুনা, ‘আমি জানি যখন আমি ফিরে আসব, আমার জীবনের সেরা স্মৃতিগুলো সঙ্গে রয়ে যাবে। তবে এটা হতে পারে যে এর বিনিময়ে আমাকে সারা জীবন ভাড়া করে থাকতে হবে। তবে সেসব আমি পাত্তা দিচ্ছি না। দলকে সমর্থন দিতে আমাদের যেতে হবে।’