খোলা চিঠিতে সত্য না লুকিয়ে আবেগী এমবাপ্পে
বিশ্বকাপের পর কি খোলাচিঠির হিড়িক পড়ল?
আর্জেন্টিনা রানার্সআপ হওয়ার পর তাদের একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। সেটা অবশ্য খোলাচিঠি ছিল না। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম চিঠিটি ‘ফাঁস’–এর পর সেটি খুলে যায়। মেইল অনলাইন নিশ্চিত করে, তা ফিফা সভাপতিরই। সেই ফাইনালে হারের সাত দিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন এক খোলাচিঠি প্রকাশ করেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। এরপর ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত খোলাচিঠিতে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন বিশ্বকাপের সমালোচকদের।
কিলিয়ান এমবাপ্পের খোলাচিঠিতে কাউকে আক্রমণ নয়, বরং ফরাসি সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান। কিছুদিন আগে শেষ হওয়া বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বাদ পড়া ফ্রান্স দলের পারফরম্যান্স নিয়ে চিঠিতে নিজের মতামতও জানান। এর পাশাপাশি স্মরণ করেছেন ফ্রান্সের সদ্য বিদায়ী কোচ দিদিয়ের দেশমকেও।
ফ্রান্সের সংবাদমাধ্যম ‘লেকিপ’–এ এমবাপ্পের এই চিঠি আজ প্রকাশ হয়। সেখানে দেশের মানুষের উদ্দেশে চিঠিতে অধিনায়ক এমবাপ্পে বলেন, ‘আমরা ট্রফি ঘরে আনতে পারিনি। এটা কষ্টদায়ক। আপনাদের কাছে সত্য লুকিয়ে লাভ নেই, এই কষ্ট আরও কিছুদিন থাকবে।’
ফ্রান্সের সমর্থকদের এমবাপ্পে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এভাবে, ‘আপনারা আমাদের ওপর থেকে আস্থা হারাননি, সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তেও নয়। এমনকি যখন আমাদের তা পাওয়ার কথা ছিল না, তখনো নয়। এ ইতিহাস শুধু মাঠের ১১ জন তৈরি করেনি, লাখ লাখ মানুষের হাতে রচিত হয়েছে—যাঁদের সবার চালিকা শক্তি ছিল একই আবেগ।’
বিশ্বকাপে ১০ গোল করে গোল্ডেন বুট জেতেন এমবাপ্পে। কিন্তু চ্যাম্পিয়ন হতে না পারার আক্ষেপে ব্যক্তিগত অর্জন ম্লান হয়ে গেছে, ‘সর্বোচ্চ গোলদাতার স্বীকৃতি আমি গর্বের সঙ্গেই গ্রহণ করেছি, তবে এর সঙ্গে ট্রফিটা জিততে পারলে অনেক বেশি সুন্দর হতো। হয়তো আপনাদের এর চেয়ে ভালো একটা সমাপ্তি উপহার দেওয়া আমাদের উচিত ছিল। তবে গল্পের শেষটা সব সময় আমাদের হাতে থাকে না, আমরা শুধু নিজেদের সর্বোচ্চটা দিতে পারি—আর আমরা সেটাই দিয়েছি। এ নিয়ে আমরা গর্বিত।’
সতীর্থদেরও ধন্যবাদ জানান এমবাপ্পে, ‘তাদের পরিশ্রম, দৌড়, পাস ও প্রথম থেকে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত আমাদের টিকিয়ে রাখা এবং এই দলীয় ঐক্য ছাড়া আমি কখনো এত গোল করতে পারতাম না। এই স্বীকৃতি যতটা আমার, ঠিক ততটাই দলেরও। ছোটবেলায় আমি অন্তত একটি বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখতাম। আমি তিনটি বিশ্বকাপ খেলেছি, একটিতে জিতেছি এবং এবার অধিনায়ক হিসেবে খেলার গৌরব অর্জন করেছি। এটি আমি কখনোই ভুলব না।’
বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল থেকে বাদ পড়ার পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে বিদায় নেয় ফ্রান্স। এর মধ্য দিয়ে ফ্রান্সের কোচ হিসেবে দেশমের দীর্ঘ অধ্যায়ও শেষ হয়। ফ্রান্সের কোচ হিসেবে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার অপেক্ষায় এখন জিনেদিন জিদান। দেশমের কোচিং স্টাফকেও ধন্যবাদ জানান এমবাপ্পে, ‘দিদিয়েরকে যা বলার আমি আগেই বলেছি। তাঁকে এবং তাঁর পুরো কোচিং স্টাফকে ধন্যবাদ—ফিজিওথেরাপিস্ট, রাঁধুনি, ট্রেনার, ড্রাইভার, পর্দার আড়ালের সেই মানুষগুলো, যাঁদের ছাড়া কিছুই সম্ভব হতো না। সেই মানুষদেরও ধন্যবাদ, যাঁরা এই টুর্নামেন্টজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের স্বাগত জানিয়েছেন।’