লাল কার্ড নিয়ে ফিফার সঙ্গে কথা বলেছিলাম, নিশ্চিত করলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড় ফোলারিন বালোগানের এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করার জন্য ফিফাকে অনুরোধ করেছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বালোগান বসনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে তারিক মুহারোমোভিচকে ফাউল করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেছিলেন। নিয়মানুযায়ী শেষ ষোলোয় বেলজিয়ামের বিপক্ষে তাঁর বসে থাকার কথা থাকলেও নজিরবিহীনভাবে ফিফা তা স্থগিত করেছে।
স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্টই ফিফাকে সিদ্ধান্ত বদলাতে প্রভাবিত করেছেন—এমন অভিযোগের মধ্যে ট্রাম্প নিশ্চিত করলেন, তিনি লাল কার্ড নিয়ে ফিফাকে ভাবতে বলেছিলেন।
সোমবার হোয়াইট হাউসে তিনি বলেন, ‘আমি কেবল পুনর্বিবেচনা করার জন্য বলেছিলাম। কারণ, আমার মনে হয়নি ওটা কোনো ফাউল ছিল। আর সত্যি বলতে, এসব বিষয় আমি ভালোই বুঝি। আমার কাছে ওটা ফাউল মনে হয়নি। আমার মনে হয়েছে দুজন দুর্দান্ত খেলোয়াড় একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে জড়িয়ে পড়েছিলেন।’
১৯৭০ বিশ্বকাপে লাল কার্ড চালুর পর এত দিন ধরে কোনো খেলোয়াড়ের স্বয়ংক্রিয় এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হয়নি। সরাসরি লাল কার্ডের ন্যূনতম শাস্তি এটি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অপরাধের ধরন বিবেচনায় নিয়ে নিষেধাজ্ঞাটি আরও বাড়বে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে এবার তিন গোল করা বালোগানের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ফিফার সমালোচনা করছেন অনেকে।
তবে ট্রাম্প মনে করছেন সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে ফিফা, তিনি উল্টো রেফারিদের সমালোচনা করেছেন, ‘আমার মনে হয় তারা (ফিফা) একটি চমৎকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রেফারির সিদ্ধান্তটি ছিল অত্যন্ত বাজে, অথচ সেই বিষয়ে কেউ কথাই বলছে না। সবাই লাল কার্ড পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে এমনভাবে কথা বলছে, যেন ওটাই ঠিক ছিল; লাল কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে রেফারির সিদ্ধান্তটি কেমন ছিল, তা নিয়ে কেউ আলোচনা করছে না।’
বালোগান খেলতে না পারলে তা বিশ্বকাপের জন্য ক্ষত হয়ে থাকত বলেও মনে করেন ট্রাম্প, ‘এই নিষেধাজ্ঞা একটি বড় দাগ রেখে যেত। আমি তাদের কী করতে হবে, তা বলে দিতে পারি না। আমি বিশ্বাস করি না যে তারা (ইনফান্তিনো) এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমার বিশ্বাস এটি ডিসিপ্লিনারি কমিশন নিয়েছে। এবং এটি একটি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল।’
নিষেধাজ্ঞা স্থগিত হওয়ায় বালোগান বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলতে পারবেন। তবে এ নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে ফিফায় আপিল করেছিল রয়্যাল বেলজিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আরবিএফএ)। ফিফা সেটি খারিজ করে দেওয়ার পর আরবিএফএ যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশনের কাছে বালোগানের বিষয়ে নিজেদের ‘প্রতিবাদ’ জানিয়ে রেখেছে।
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফাও ফিফার সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছে। এ ঘটনা ফুটবলের সততা ও নিরপেক্ষতাকে ঝুঁকিতে ফেলেছে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
এ দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বালোগানকে লাল কার্ড দেওয়া ব্রাজিলিয়ান রেফারি রাফায়েল ক্লাউসকে ‘কিছুটা সন্দেহজনক’ বলে যে মন্তব্য করেছেন, সেটির প্রতিবাদ জানিয়েছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। ক্লাউসের পক্ষে দাঁড়িয়ে সিবিএফের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তাঁর ট্র্যাক রেকর্ডে এমন কিছু নেই, যা তাঁকে হেয় করে বা কোনো সন্দেহের অবকাশ রাখে। তিনি একজন অনুকরণীয় পেশাদার রেফারি।’
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বিবৃতিতে ইনফান্তিনো জানান, ট্রাম্পের ফোন পাওয়ার পর তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বলেছিলেন যে ‘ফিফার স্বাধীন বিচার বিভাগীয় সংস্থাগুলোর অধীনে একটি আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং যথাসময়ে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ এর সিদ্ধান্ত নেবে।’
ফিফার আপিল কমিটি মনে করছে এ ঘটনায় বেলজিয়াম কোনো সংশ্লিষ্ট পক্ষ নয়, কারণ তারা মূল সিদ্ধান্তের সঙ্গে জড়িত ছিল না এবং তারা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী প্রতিপক্ষ। বেলজিয়ামের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে বালোগান খেলতে নামার কথা বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল ৬টায়।