‘আপনারাই বলুন মাঠ কেমন ছিল’—আবাহনীর কাছে হেরে ক্ষোভ ইগলস কোচের
মনে হচ্ছিল শিয়াজ মোহাম্মদ সাংবাদিকদের ক্লাস নিচ্ছেন।
আবাহনীর কাছে এএফসি কাপের প্রাথমিক রাউন্ডে হারের পর প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই সংবাদ সম্মেলনে এলেন শিয়াজ। কিন্তু সেটা যেন আর সংবাদ সম্মেলন থাকল না। হয়ে গেল শ্রেণিকক্ষ। সেখানে মালদ্বীপের ক্লাব ইগলসের কোচ শিক্ষক, সংবাদকর্মীরা ছাত্র।
প্রায় প্রতিটি প্রশ্নেই জবাব না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করছিলেন তিনি সাংবাদিকদের। শেষটায় বোঝা গেল তাঁর ক্ষোভ। ম্যাচ হারের কারণ হিসেবে তিনি পুরো দায় দিলেন সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের মাঠকে। সাংবাদিকদের উল্টো প্রশ্ন করলেন, ‘আপনারা তো সবই দেখেছেন, আপনারাই বলুন (এ মাঠে খেলা যায়?)!’
আজ সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের মাঠ দেখলে খালি চোখে যে কারওরই মনে হবে—আরে মাঠ তো চমৎকার। কয়েক জায়গায় একটু ঘাসহীন কাদার উঁকিঝুঁকি, সে তো থাকতেই পারে। বর্ষাকাল বলে কথা! ঢাকাতেই টানা বৃষ্টি হচ্ছে, সিলেটের বৃষ্টি তো এমনিতেই বিখ্যাত। গত কয়েক দিন বৃষ্টির পর আজই সিলেট বৃষ্টিহীন, সকাল থেকে উঠেছিল রোদও।
কিন্তু খেলা শুরু হওয়ার পর দেখা গেল, পুরো মাঠ বৃষ্টির কারণে রীতিমতো শ্লথ। বল গড়াতে সমস্যা তো হচ্ছেই, খেলোয়াড়দের দৌড়াতেও হচ্ছে সমস্যা। বৃষ্টিভেজা মাঠে যে সুবিধার কথা বলেছিলেন আবাহনীর কোচ মারিও লেমোস, সেই সুবিধা তাঁর দল পেলেও আজ খেলতে অসুবিধা হচ্ছিল আবাহনীর খেলোয়াড়দেরও। কিন্তু সেই সমস্যা জয় করেই নীল-হলুদ শিবির জিতেছে ২-১ গোলে। নিশ্চিত করেছে এএফসি কাপের প্লে অফ। সেই সঙ্গে মালদ্বীপের কোনো ক্লাবের বিপক্ষে টানা ছয় ম্যাচ জয়হীন থাকার আক্ষেপটাও ঘুচিয়েছে আবাহনী।
ম্যাচ শেষে ইগলস কোচ শিয়াজ মোহাম্মদ সব ক্ষোভ ঝেড়ে দিলেন মাঠের ওপর, ‘যে ভালো খেলার উদ্দেশ্য নিয়ে এখানে আসা, এমন মাঠের কারণে সেটিই তো সম্ভব নয়।’
সমস্যা অবশ্য শুধু ইগলসের নয়, আবাহনীরও হয়েছে। ২১ মিনিটে কর্নেলিয়াস স্টুয়ার্টের গোলে এগিয়ে গেলেও আবাহনী স্কোরলাইনটাকে বাড়াতে পারেনি ফরোয়ার্ডদের একের পর এক গোল মিসের মহড়ায়। এমন এমন সহজ সুযোগ নষ্ট করেছেন আবাহনীর ফরোয়ার্ডরা! অবিশ্বাস্য। তবে এতে মাঠের ভূমিকাও আছে।
প্রথমার্ধের ৪২ মিনিটে তো কর্নেলিয়াসের ফাঁকায় বাড়ানো বল ধরতে গিয়ে কাদায় পা হড়কে পড়েই গেলেন ওজোকু ডেভিড। নিশ্চিত গোল থেকে বেঁচে যায় ইগলস।
দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের সামলে ইগলস ম্যাচে ঠিকই ফিরেছিল। ৬৩ মিনিটে গোল শোধ করেও দিয়েছিল। ৮০ মিনিটে দুর্ভাগ্যের কারণে এগিয়ে যেতে পারেনি তারা। কিন্তু ম্যাচের পর সাংবাদিক সম্মেলনে এসে ইগলসের কোচ সরাসরি না বললেও হাবভাবে বুঝিয়ে দিলেন তিন আজ তাঁর দলের হারের জন্য সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের মাঠকেই দায়ী করছেন। রেফারিং নিয়েও কিছুটা অসন্তোষ দেখা গেল তাঁর মধ্যে। যদিও তিনি সেটি নিয়ে সেভাবে কিছু বলেননি।
মাঠে কাদা থাকায় আবাহনী বাড়তি সুবিধা পেয়েছে, এমনটা মনে করেন না আবাহনীর অধিনায়ক ডিফেন্ডার রহমত মিয়া। শিয়াজের মাঠ নিয়ে অসন্তুষ্টির জবাবে তাঁর বক্তব্য খুবই পরিষ্কার, ‘মাঠের মালিক তো আর আবাহনী নয়। মাঠ যেমনই থাকুক, এই মাঠে দুই দলকেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত আমরা জিতেছি। আর এটা এএফসির ম্যাচ। তাই তারা বিচার-বিবেচনা করেই এই মাঠে খেলা দিয়েছে। তাই এটা নিয়ে কারওরই অসন্তুষ্টির জায়গা নেই।’