ব্রাজিলের কোচ তিতে কাল আলভেজকে রেখে কাতার বিশ্বকাপের জন্য ২৬ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেন। তাঁকে দলে রাখার বিষয়ে তিতের ব্যাখ্যা, ‘(দলে) অন্য সবার যে মানদণ্ড, আলভেজেরও তা–ই। ব্যক্তিগত দক্ষতা, শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার পুরস্কার এটি। অন্যদের মতোই তার হয়তো একাধিক যোগ্যতা আছে।’

বিশ্বকাপ দলে ডাক পাওয়ার পর নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করেন আলভেজ। বার্সেলোনা, জুভেন্টাস ও পিএসজি মাতানো এই ফুটবলার সেখানে বলেছেন, ‘বহুল চর্চায় ক্লিশে হয়ে আসা সেই কথাটা “কখনো হাল ছেড়ো না”—এটা সত্যি এবং আমি তা প্রমাণ করতে চাই। চার বছর পর আবারও বিশ্বকাপ এবং আমিও আছি। এটা কঠোর পরিশ্রমের পুরস্কার।’

বার্সায় দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ করে এ বছরের জুলাইয়ে মেক্সিকান লিগের ক্লাব ইউএনএমে যোগ দেন আলভেজ। গত ২৩ সেপ্টেম্বরের পর থেকে কোনো ম্যাচ খেলেননি বার্সার হয়ে তিনবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা এই ফুটবলার। ইউএনএমের হয়ে মৌসুম শেষে মেক্সিকো ছাড়েন আলভেজ।

সেখান থেকে চলে আসেন বার্সেলোনায়। যোগ দেন কাতালান ক্লাবটির বি দলে। কাতার বিশ্বকাপ সামনে রেখে এই বি দলের সঙ্গে অনুশীলন করে নিজেকে ফিট রাখেন। বোঝাই যাচ্ছে, এই বয়সেও বিশ্বকাপ খেলতে মরিয়া ছিলেন আলভেজ। তাই কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং তার পুরস্কারও পেলেন।

বয়স? অনেকে বলতে পারেন, আলভেজের কাছে বয়স সম্ভবত স্রেফ একটা সংখ্যা। এই বয়সেও উইং ধরে দ্রুতগতিতে দৌড়ানোর পাশাপাশি নিখুঁত ক্রসের অভ্যাস ভুলে যাননি আলভেজ। কাতারে একটি রেকর্ডও তাঁকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। ব্রাজিলের সবচেয়ে বয়ষ্ক খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে খেলার রেকর্ড গড়বেন আলভেজ।

১৯৬৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে ৩৭ বছর বয়সে খেলা দালমা স্যান্টোস এখনো দখলে রেখেছেন সেই রেকর্ড। কী কাকতাল! ২০১৩ সালে প্রয়াত এবং দুটি বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি দালমাও আলভেজের মতোই রাইটব্যাক পজিশনেই খেলতেন। ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে ‘এনসাইক্লোপিডিয়া’ নামে খ্যাত কিংবদন্তি লেফটব্যাক নিল্টন স্যান্টোসের ভাই দালমা স্যান্টোস।

দালমার রেখে যাওয়া সেই পজিশনে খেলে নতুন মাত্রা যোগ করেন আলভেজ। ২০০৬ সালে ব্রাজিল দলে অভিষেকের পর ডান প্রান্তের উইং কিংবা রক্ষণে তাঁর চেয়ে ভালো ফুটবলার খুব কমই দেখা গেছে। বয়সের ভার আলভেজের সেই ধারে কিছুটা মরচে ফেললেও তিতে তাঁর ওপর আস্থা রেখেছেন। আর তাই বিশ্বকাপ দলে সুযোগ পাওয়ার দিনটা আলভেজের জন্য ‘বিজয় দিবস’।

ভিডিওতে তিনি বলেছেন, ‘আজ বিজয় দিবস এবং আমি (দলে সুযোগ পাওয়ায়) খুব খুশি। খবরটা পেয়ে আনন্দ ও সন্তুষ্টি বোধ হচ্ছে। চার বছর আগে এই একই পরিস্থিতিতে থাকতে চোটের কারণে সুযোগ না পাওয়ায় কেঁদেছিলাম। সেটা ছিল দুঃখের কান্না। কিন্তু আজকের কান্নাটা আনন্দের।’