ম্যাচ শেষে ভিয়েতনামের কোচের সঙ্গে যখন করমর্দন করছিলেন পিটার বাটলার, তাঁর শরীরী ভাষাই বলে দিচ্ছিল ভেতরে কতটা ঝড় বইছে। ব্রিটিশ এই কোচের অধীনে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল এবং অনূর্ধ্ব-২০ দল এশীয় পর্যায়ে টানা ছয়টি ম্যাচ হারল। এএফসি এশিয়ান কাপের মঞ্চে বড়দের পর এবার ছোটরাও (অনূর্ধ্ব-২০) বিদায় নিয়েছে গ্রুপ পর্ব থেকে।
গত মাসে অস্ট্রেলিয়ায় বড়দের এশিয়ান কাপে চীন, উত্তর কোরিয়া এবং উজবেকিস্তানের কাছে বিধ্বস্ত হয়ে বিদায় নিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বেও একই পরিণতি বরণ করতে হলো। টুর্নামেন্টের তিনটি ম্যাচের সব কটিতে হেরে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেছে বাংলাদেশের।
আজ থাইল্যান্ডের নন্থাবুরিতে কোয়ার্টার ফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে ভিয়েতনামের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে বাংলাদেশ লড়াই চালিয়ে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায়। কিন্তু দ্বিতীয়ার্থের শুরুতেই ঘটে সেই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। ৪৯ মিনিটে মাঝমাঠের কিছুটা সামনে থেকে নেওয়া ভিয়েতনামের লম্বা ফ্রি-কিক উড়ে আসে বাংলাদেশের ডি-বক্সের ভেতর।
গোলরক্ষক মিলি আক্তার নিজের উচ্চতাকে কাজে লাগিয়ে বলটি লুফে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বল হাতে লাগলেও গ্রিপে রাখতে পারেননি। তাঁর হাত ফস্কে বল ঠিক গোললাইনের সামনে পড়ে যায়। সেখানে গোলের জন্য ওত পেতে থাকা ভিয়েতনামের ডিফেন্ডার এনগুয়েন থি থুই লিন আলতো টোকায় বল জালে জড়িয়ে দেন। এই এক গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
ম্যাচজুড়ে দাপট ছিল ভিয়েতনামেরই। যোগ্যতর দল হিসেবেই তারা মাঠ ছেড়েছে। অন্যদিকে, এমন বাঁচা-মরার ম্যাচেও বাংলাদেশ দল তেমন ধারালো আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি। স্ট্রাইকার সাগরিকাকে সামনে রেখে সাজানো আক্রমণভাগ ভিয়েতনামের রক্ষণভাগে কোনো ভীতি ছড়াতে পারেনি। গোল করার মতো পরিষ্কার সুযোগও সেভাবে তৈরি করতে পারেননি পিটার বাটলারের শিষ্যরা।
বাংলাদেশকে হারিয়ে গ্রুপে তৃতীয় হয়েছে ভিয়েতনাম। তিন ম্যাচের সব কটিতে হেরে তালিকার তলানিতে অর্থাৎ চতুর্থ হয়ে আসর শেষ করল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের সামনে গাণিতিক সমীকরণ ছিল, ভিয়েতনামের বিপক্ষে অন্তত ড্র করতে পারলে সেরা দুই ‘তৃতীয়’ দলের একটি হয়ে শেষ আটে যাওয়ার লড়াইয়ে টিকে থাকা যেত। কিন্তু সেই লক্ষ্য পূরণ সম্ভব হয়নি। থাইল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে সাগরিকার জোড়া গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হার এবং চীনের কাছে ২-০ গোলে হারের পর আজকের এই ফলাফল বাংলাদেশকে রূঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার (সাফ) শ্রেষ্ঠত্ব আর এশীয় স্তরের ফুটবলের মধ্যে যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান, তা এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো। বড়দের পর ছোটদের এই বিদায়ে একটা বিষয় পরিষ্কার—এশিয়ার বড় দলগুলোর কাতারে পৌঁছাতে হলে বাংলাদেশের নারী ফুটবলকে আরও লম্বা পথ পাড়ি দিতে হবে। এই সফর বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য বড় এক শিক্ষাও।