৪৪ বছর পরও কেউ ফেরে তাহলে!

ইংলিশ কোচ রয় হজসনরয়টার্স

তিনি সুস্থ–সবল আছেন কি না, তা–ই হয়তো ফুটবল দুনিয়ার অনেকে জানতেন না। গত শতাব্দীর আশির দশকে তাঁর কোচিং ক্যারিয়ারের শুরু, পাঁচ দশক পর একবিংশ শতকের এই সময়ে এসে তাঁর নামও ভুলে যাওয়ার কথা কারও কারও। প্রায় বিস্মৃত সেই মানুষটিই আজ হঠাৎ আলোচনায়।

ব্রিস্টল সিটি শুক্রবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চলতি মৌসুমের বাকি সময়ের জন্য দলটির নতুন কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন রয় হজসন। ৭৮ বছর বয়সী এই কোচ সদ্য বরখাস্ত গেরহার্ড স্ট্রবারের স্থলাভিষিক্ত হলেন। প্রায় আশির কাছাকাছি বয়সে হজসনের কোচিংয়ে ফেরাটাই বড় ঘটনা। তবে ইংল্যান্ডের সাবেক এই কোচ আরও বড় ‘কীর্তি’র অংশ হয়েছেন ব্রিস্টলে ফিরে।

১৯৭৬ সালে কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করা হজসন ১৯৮২ সালে এই দলটিকে কোচিং করিয়েছিলেন। সেই একই ক্লাবে তিনি কোচ হিসেবে ফিরলেন ৪৩ বছর ৩৪৪ দিন পর । ফুটবলের উপাত্ত নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান অপটার মতে, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে কোনো কোচের তাঁর পুরোনো ক্লাবে ফেরার ক্ষেত্রে এটিই দীর্ঘতম বিরতির রেকর্ড।

৫০ বছরের ফুটবল ক্যারিয়ারে ইন্টার মিলান, লিভারপুল, ইংল্যান্ড জাতীয় দলসহ মোট ২১টি ভিন্ন দলের প্রধান কোচের দায়িত্বে ছিলেন হজসন। সর্বশেষ কোচ ছিলেন প্রিমিয়ার লিগের দল ক্রিস্টাল প্যালেসে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্যালেস ছাড়ার পর মনে হয়েছিল সেখানেই ইতি। গত বছর স্কাই স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি ফ্র্যাঙ্ক সিনাত্রার মতো হতে চাই না যে বারবার অবসরের ঘোষণা দেব।’

সেই হজসন আজ ব্রিস্টলে ফিরেছেন চ্যাম্পিয়নশিপ মৌসুমের শেষ সাত ম্যাচের জন্য। সুইডিশ ক্লাব হামস্টাড দিয়ে কোচিং ক্যারিয়ার শুরুর পর ১৯৮০ সালে বব হিউটনের সহকারী হিসেবে ব্রিস্টল সিটিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। এরপর ১৯৮২ সালের জানুয়ারিতে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন ম্যানেজারের দায়িত্ব নেন। তবে সেই দায়িত্ব খুব একটা সুখকর ছিল না। আর্থিক টানাটানির মধ্য দিয়ে যাওয়া ব্রিস্টলের হয়ে সেবার ২১ ম্যাচ ডাগআউটে দাঁড়িয়ে জিতেছেন মাত্র তিনটি।

আরও পড়ুন

২০১২ সালে বিবিসিকে তিনি বলেছিলেন, ‘ব্রিস্টল সিটির অভিজ্ঞতা বিপর্যয়ের চেয়ে কম কিছু ছিল না। আমরা সেখানে যাওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ব্যাংকগুলো ক্লাবের নিচ থেকে কার্পেট টেনে ধরা শুরু করেছিল। আমি যখন শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন ম্যানেজারের দায়িত্ব নিই, আমার কাজ ছিল খুবই সাধারণ। খেলোয়াড়েরা ক্লাব ছেড়ে চলে যাওয়ার পর সৃষ্ট পরিস্থিতির সামাল দেওয়া এবং বাকি থাকা ম্যাচগুলো শেষ করা।’

১৯৮২ সালের এপ্রিলে হজসন বিদায় নেওয়ার পর ব্রিস্টল সিটি এ পর্যন্ত মোট ২৪ বার কোচ পরিবর্তন করেছে। তবে প্রায় সাড়ে চার দশক পরে ক্লাবে ফিরে হজসন নিজেই অনন্য কীর্তি গড়েছেন।

ইএসপিএনের তথ্যমতে, ফুটবলে একই ক্লাবের দুই মেয়াদের মধ্যবর্তী সময়ের দিক থেকে হজসনই শীর্ষে। তাঁর নতুন রেকর্ডের কাছাকাছি আছেন ব্রাজিলের ভ্যান্ডারলাই লুক্সেমবার্গো। ৪০ বছরের কোচিং ক্যারিয়ারে তিনি রিয়াল মাদ্রিদ (২০০৪-০৫) এবং ব্রাজিল জাতীয় দলসহ (১৯৯৮-০০) ৩০টির বেশি দলের দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৮২ সালে যেখানে তিনি সহকারী হিসেবে ছিলেন, তার ৩৭ বছর পর ২০১৯ সালে সেই ব্রাজিলিয়ান ক্লাব ভাস্কো দা গামায় প্রধান কোচ হয়ে ফিরেছিলেন। অবশ্য প্রথম মেয়াদে পূর্ণাঙ্গ প্রধান কোচ না থাকায় লুক্সেমবার্গোর কীর্তিটি কিছুটা কমই মূল্যায়ন করা হয়।

সে ক্ষেত্রে আয়ারল্যান্ডের রনি ম্যাকফলই হজসনের কাছাকাছি। ১৯৭৯–১৯৮৪ সময়ে নর্দার্ন আইরিশ লিগের দল গ্লেনটোরানের কোচ ছিলেন ম্যাকফল। ৩৪ বছর বিরতির পর ২০১৮ সালে সেখানে তিনি আবার ফেরেন।

দীর্ঘ বিরতির পর সাবেক ক্লাবে ফেরার ঘটনায় আরেকটি উদাহরণ নেইল ওয়ারনক। এই ইংলিশ ম্যানেজার ২০২৩ সালে হাডার্সফিল্ড টাউনে ফিরেছিলেন ২৭ বছর বিরতির পর।

আরও পড়ুন