আজ সেই দিবুর জন্য একটা বিশেষ দিন। দেশের যে জার্সি গায়ে খেলাটাই একসময় তাঁর স্বপ্ন ছিল, সেই জার্সিতে আজ তাঁর বিশ্বকাপে অভিষেক হচ্ছে। সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে আর্জেন্টিনার এবারের বিশ্বকাপ অভিযান। সেই অভিযানে আর্জেন্টিনাকে যাঁরা পথ দেখাবেন, মার্তিনেজ তাঁদের অন্যতম।

১২ বছর আগে আর্জেন্টিনা দলে প্রথম ডাক পেয়েছিলেন। তবে দেশের জার্সি গায়ে গোলবারের নিচে দাঁড়ানোর স্বপ্ন পূরণের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে এক দশক। গত বছর জুনে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে চিলির বিপক্ষে ম্যাচে অভিষেক হয় মার্তিনেজের। তত দিনে আর্সেনাল ও অ্যাস্টন ভিলায় খেলে মার্তিনেজ বেশ নামধাম করেছেন। ওদিকে সের্হিও রোমেরোর জায়গায় আর্জেন্টিনাও একজন ভরসা করার মতো গোলকিপার খুঁজছিল। উইলি কাবায়েরো, নাহুয়েল গুজমান, ফ্রাঙ্কো আরমানিসহ বেশ কয়েকজন খেলিয়েও সেই ভরসা না পাওয়ায় মার্তিনেজের ডাক পড়ল।

এখন সেই সিদ্ধান্তটাকে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি তাঁর কোচিং ক্যারিয়ারেরই সেরা সিদ্ধান্তগুলোর একটা মনে করতে পারেন। গত বছরের জুন থেকে এই নভেম্বর, ১৫ মাসে আর্জেন্টিনার হয়ে ১৯ ম্যাচ খেলেছেন মার্তিনেজ। মাত্র এই ১৯ ম্যাচেই দেখিয়েছেন, আর্জেন্টিনার ইতিহাসে অন্যতম সেরা গোলরক্ষক হওয়ার সব যোগ্যতা ও সামর্থ্যই তাঁর আছে।

১৯ ম্যাচে তাঁর জালে মাত্র ৫ বার বল ঢুকেছে, মার্তিজেনকে নিয়ে আর্জেন্টিনার উচ্চাকাঙ্ক্ষার কারণ শুধু এটাই নয়। গোলবারের নিচে তিনি আসলে দারুণ এক চরিত্র। শুধু নিজেই পারফর্ম করেন না, পুরো দলকে পারফর্ম করতে বাধ্য করেন আসলে। আর মাঠে প্রতিপক্ষের সঙ্গে মনস্তাত্ত্বিক কিংবা কথার লড়াইয়ে তো দিবুর জুড়িই নেই।

গত বছর কলম্বিয়ার বিপক্ষে কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারের কথা মনে করেই দেখুন না। একেবারে ঘোষণা দিয়ে দিয়ে তিনটি পেনাল্টি ঠেকিয়েছেন মার্তিনেজ। শুধু তা-ই নয়, কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার ইয়েরি মিনার শট ঠেকানোর আগে তাঁকে রীতিমতো স্লেজিং করে দিশাহারা করে দিয়েছেন। ‘আমি তো জানি তুমি কোন দিকে শট নেবে। শট তো ফেরাবই, আমি তোমাকে জ্যান্ত খেয়ে ফেলব’—এরপর কি আর মিনার মাথা ঠিক থাকে!

আর্জেন্টিনা সেই কোপা জিতে ঘুচিয়েছিল ২৮ বছরের শিরোপা-খরা, মার্তিনেজ হয়েছিলেন টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষক। এরপর ইতালিকে হারিয়ে জিতেছে লা ফিনালিসিমার ট্রফিও। কিন্তু এখন যে দিবুর স্বপ্নটা আরও অনেক বড় হয়ে গেছে, ‘একটা সময় আমি ভাবতাম, আর্জেন্টিনার হয়ে একটা ম্যাচ খেলতে পারলেই জীবন সার্থক হবে। এরপর যখন কোপা আমেরিকাতে খেলার সুযোগ পেলাম, আমার স্বপ্ন ছিল, সেটা জেতা। সেই স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। এখন স্বপ্ন দেখি বিশ্বকাপ জেতার, স্বপ্ন দেখি বিশ্বকাপের সেরা গোলরক্ষক হওয়ার।’

সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে যখন সেই স্বপ্নের পথে যাত্রা শুরু হবে মার্তিনেজের, কিছুটা আবেগাপ্লুত হতেও দেখা যেতে পারে তাঁকে, ‘বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচটা খেলতে যখন মাঠে নামব, নিজেকেই মনে মনে বলব, তুমি পেরেছ। যখন জাতীয় সংগীত বাজবে, হয়তো আমার চোখে জল চলে আসবে। এটা আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় দিন হতে যাচ্ছে।’

এমন দিনে চোখে একটু জল যদি আসেও, ক্ষতি কি!