আর্জেন্টিনা ১৯৭৮ সালে বিশ্বকাপ আয়োজনের ৩৬ বছর পর সেবার প্রথম দক্ষিণ আমেরিকায় বিশ্বকাপ হয়। আর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টানা দুবার বিশ্বকাপ আয়োজিত হয় ইউরোপের বাইরে।

প্রথম দিন, ১২ জুন, মার্সেলোর আত্মঘাতী গোলে ব্রাজিল পিছিয়ে গেলেও শেষতক ৩-১ গোলে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে জেতে স্বাগতিকেরা। কিন্তু এই জয়ের পরও ডেভিড লুইজকে সেন্টার-ব্যাকে খেলতে দেখে অনেকেই বিস্মিত হন। এর ১২ বছর আগে বিশ্বকাপ জেতা কোচ লুইস ফেলিপে স্কলারি দলকে ব্রাজিলসুলভ ফুটবল না খেলিয়ে বরং শৃঙ্খলা এবং ফলাফলনির্ভর ফুটবল খেলানোর জন্য সুপরিচিত ছিলেন। এ কারণে আরও বিস্মিত হতে হয় যে কেন তিনি ছটফটে আর শৃঙ্খলার ঘাটতি থাকা লুইজকে সেই জায়গায় খেলান।

কোয়ার্টার ফাইনালে লুইজ কলম্বিয়ার বিপক্ষে ফ্রি-কিকে দুর্দান্ত এক গোল দেন। কিন্তু বেলে হরিজেন্তেতে জার্মানি যে গোলের মহোৎসব করে, তার বড় দায়টা সে দিনের অধিনায়ক লুইজেরই। লুইজ সেদিন যেন দুয়ার খুলে হারিয়ে গিয়েছিলেন আর বানের জলের মতো গোলগুলো ব্রাজিলকে চরম লজ্জায় ভাসিয়ে দেয়। তবে লুইজের সৌভাগ্য এই যে বারবোসার মতো অভিশাপ নিয়ে তাঁকে বাকি জীবন কাটাতে হয়নি।

ব্রাজিল নিজেদের দুর্ভাগা ভাবতেই পারে। একে তো কলম্বিয়ার হুয়ান সুনিগার এক জঘন্য এক ফাউলে নেইমারের মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যাওয়ায় তিনি জার্মানির বিপক্ষে সেই ম্যাচ খেলতে পারেননি, অনুপস্থিত ছিলেন অধিনায়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সেন্টার-ব্যাক থিয়াগো সিলভাও। সব মিলিয়ে সেদিন ব্রাজিল মানসিকভাবেই যেন বিপর্যস্ত ছিল। ফিরে এসেছিল ’৯৮-এর ফাইনালের স্মৃতি।

তবে এ কথাও মানতে হবে যে ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জেতার মতো দল ব্রাজিল ছিল না। লিওনিদাস, আদেমির, ভাভা, রোমারিও আর রোনালদোর দেশের হয়ে সেবার সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলেছেন ফ্রেড, যাঁকে নিজেদের সমর্থকেরাই টুর্নামেন্টজুড়ে ‘দুয়ো’ দিয়ে গেছে। সন্দেহ নেই যে নেইমার দারুণ খেলোয়াড় এবং কোয়ার্টার ফাইনালে সুনিগার ‘গুন্ডামি’র শিকার হয়েছেন, কিন্তু প্রথম ম্যাচে তিনি নিশ্চিত লাল কার্ডের থেকে বেঁচে যান লুকা মদরিচকে একটা বাজে ফাউল করে এবং এর পরে একটা বিতর্কিত পেনাল্টিও পান। সেই গোলেই ব্রাজিল এগিয়ে যায়।

সুনিগার ফাউলকে যদি গুন্ডামি বলা হয়, তাহলে সুয়ারেজেরটা কী? গ্রুপের শেষ ম্যাচে ২৪ জুন তিনি ইতালির জর্জো কিয়েল্লিনির কানে কামড় দিয়ে বসেন। বক্সিং রিং-এর ভেতর মাইক টাইসনের ইভান্ডার হলিফিল্ডের কান কামড়ানোর পর আরও একবার খেলাধুলার দুনিয়ায় এমন ঘটনা দেখা যায়।

উরুগুয়েবাসী অবশ্য সুয়ারেজের এই দানবীয় কাণ্ডকে রীতিমতো সমর্থন জোগায়। যে হোসে মুজিকা আজীবন মানুষের জন্য সংগ্রাম করেছেন, নিরন্তর অত্যাচার সহ্য করেছেন, জেল খেটেছেন, ক্ষমতায় আসার পরও সাধারণ মানুষের মতো জীবন কাটিয়েছেন, তিনি তখন প্রেসিডেন্ট। অথচ এই রোল মডেল কি করলেন? তিনি দিব্যি সুয়ারেজের পক্ষ নিলেন! এত কাণ্ডের পর ‘ডি’ গ্রুপ থেকে পরের রাউন্ডে যায় কোস্টারিকা ও উরুগুয়ে, ইতালি আর ইংল্যান্ড গ্রুপ পর্ব থেকেই পত্রপাঠ বিদায় নেয়।

নিয়তির আরেক নির্মম শিকার স্পেন। আগেরবারের চ্যাম্পিয়নরা এবার প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নেয়। প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের কাছে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত হয় স্পেন। পরের ম্যাচে চিলির কাছে হার ২-০ গোলে। টিকিটাকার গৌরবময় দিনের শেষটা যেন দেখা যাচ্ছিল। স্পেনকে হারানো নেদারল্যান্ডস আর চিলি ‘বি’ গ্রুপ থেকে যায় পরের রাউন্ডে।

দ্বিতীয় রাউন্ডে দুর্দান্ত খেলেও ব্রাজিলের বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে যায় চিলি। ব্রাজিলের জয়ের নায়ক ছিলেন গোলরক্ষক হুলিও সিজার, প্রথমার্ধে একটি অবধারিত গোল বাঁচানো ছাড়াও তিনি টাইব্রেকারে দুটি শট ঠেকিয়ে দেন। তবে অ্যালেক্সিস সানচেজের খেলা সবার নজর কাড়ে।

এর চেয়েও বেশি নজর কাড়ে আরেক দক্ষিণ আমেরিকান, কলম্বিয়ার হামেস রদ্রিগেজের খেলা। উরুগুয়ের বিরুদ্ধে মারাকানায় দ্বিতীয় রাউন্ডে তাঁর গোলটি ছিল টুর্নামেন্টের সেরা। বুক দিয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ঘুরে বাঁ পায়ের এক জোরাল ভলি।

সেই খেলায় আরও একটি গোলসহ কলম্বিয়ার হয়ে ৫ ম্যাচে ৬টি গোল দেন রদ্রিগেজ।
ব্রাজিলের কাছে হেরে কলম্বিয়া কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বাদ পড়ে। কলম্বিয়া বেশি দূর যেতে না পারলেও অনেকেই মনে করেন, ২০১৪ বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় রদ্রিগেজ! শেষতক লিওনেল মেসি জিতেছেন টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার। কিন্তু পুরস্কারটি নেওয়ার সময় মেসিকে বিব্রত ও বিধ্বস্ত লাগছিল। সেটা খুব কাছে গিয়েও বিশ্বকাপ ট্রফি ছুঁতে না পারার হতাশায়।

২০১৪ বিশ্বকাপে মেসি টুর্নামেন্টজুড়েই খেলেছেন অসাধারণ। প্রথম ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সঙ্গে প্রথমার্ধে কোচ আলেহান্দ্রো সাবেলা মেসিকে অনেকটা নিচে খেলান। অসন্তুষ্ট মেসিকে পছন্দমতো আরেকটু ওপরে খেলানোর পর এক অনবদ্য একক নৈপুণ্যের গোলে দলকে জেতান ২-১ ব্যবধানে।

ইরানের কোচ কার্লোস কুইরোজের ভয়াবহ রক্ষণাত্মক ফুটবল আর্জেন্টিনাকে প্রায় আটকেই দিয়েছিল, কিন্তু একেবারে শেষ দিকে অসাধারণ এক বাঁকানো শটে গোল দেন মেসি।

নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানের জয়ে মেসি করেন জোড়া গোল। দুই গোলের একটি ছিল ফ্রি-কিকে। সেদিন ম্যাচ শেষে নাইজেরিয়ার কোচ স্টিভেন কেসি বলেছিলেন, ‘মেসি বৃহস্পতি গ্রহ থেকে এসেছে। সে একেবারেই আলাদা। তার মুখোমুখি হওয়া এক নারকীয় অভিজ্ঞতা।’

দ্বিতীয় রাউন্ডেও আবার মেসি। সুইজারল্যান্ড বরাবরই দৃঢ়চেতা একটি দল। সেদিন সাবেলোর আর্জেন্টিনা ৪-২-৩-১ কৌশলে নামে আর লক্ষ্য ছিল গোল না খাওয়া। ৯০ মিনিট গোলশূন্য ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। ১১৮ মিনিটে মেসির স্বভাবসুলভ জাদুকরি এক দৌড়, আনহেল দি মারিয়াকে বল বানিয়ে দেওয়া আর তা থেকে গোল।
বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে আবারও ১-০। ‘মেসি আমাদের মরুভূমিতে পানির উৎস। শুষ্ক প্রান্তরে এক দমকা হাওয়া’—খেলা শেষে বলেন উল্লসিত সাবেলা। এদিন অবশ্য গোলটা করেন গঞ্জালো হিগুয়েইন।

রিয়াল মাদ্রিদে গোলের বন্যা বইয়ে তার আগের বছর যোগ দিয়েছিলেন নাপোলিতে। স্পেনের পর ইতালিতেও এই স্ট্রাইকার গোলের পর গোল দিচ্ছিলেন। কিন্তু ২০১৪ বিশ্বকাপের একটা মুহূর্ত তাঁর সম্পর্কে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের ধারণা বদলে দেয়। অনেকটা যেন বারবোসার মতোই। বিশ্বকাপের ইতিহাস তো মানুষের জীবনেরই ইতিহাস। সেখানে মুহূর্তের ভুলে খলনায়ক হওয়া হিগুয়েইন-বারবোসারা যেন মোপাসার গল্পের নেকলেস হারিয়ে ফেলা সেই নারীর মতো।

এটা ভুললেও চলবে না যে টানা দলকে টেনে যাওয়া মেসিও সেদিন ছিলেন ক্লান্ত। নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে সেমিফাইনালটা ১২০ মিনিটেও ছিল গোলশূন্য। গোলরক্ষক সের্হিও রোমেরো সেদিন গয়কোচিয়া হয়ে উঠেছিলেন। দারুণ সব সেভের পর টাইব্রেকারে ঠেকিয়ে দেন দু-দুটি শট। কিন্তু ফাইনালে গয়কোচিয়া হয়ে উঠতে পারেননি রোমেরো, মেসি হতে পারেননি ম্যারাডোনা। সেই জার্মানির বিপক্ষে।

জার্মানদের প্রতিটি বিশ্বকাপের ফাইনাল জয়ে একটা ধারা দেখা যায়। ১৯৫৪-তে জার্মানরা তাক লাগিয়েছিলেন ক্লান্ত-শ্রান্ত পুসকাসদের হারিয়ে। ১৯৭৪ সালে টোটাল ফুটবলের জাদুতে উড়তে থাকা ক্রুইফরা ফাইনালে মাটিতে নেমে আসেন জার্মান যন্ত্রের কলাকৌশলে। ১৯৯০ সালে ম্যারাডোনা শেষের জার্মান-ধাঁধার জট খুলতে ব্যর্থ হলেন। পুসকাস, ক্রুইফ আর ম্যারাডোনার যন্ত্রণাটা টের পেলেন তাঁদের উত্তরসূরি মেসি। তবে দুনিয়ার একটা বড় অংশের মানুষ আশা করে থাকবেন মেসির পরিণতি যেন প্রথম দুই কিংবদন্তির মতো না হয়। একটা বিশ্বকাপ জিতেই যেন তিনি শেষ করতে পারেন নানা রঙে রঙিন ক্যারিয়ার।

মেসির সঙ্গে এক নিশ্বাসে উচ্চারিত হওয়া ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং পর্তুগাল সেই টুর্নামেন্টে প্রথম রাউন্ডেই বাদ পড়েন। অন্যদিকে বিশ্ব গোলবারের নিচে পায় এক দারুণ তারকা। কোস্টারিকার কেইলর নাভাস একের পর এক অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স করে অপরাজিত রেখে দলকে টেনে তোলেন কোয়ার্টার ফাইনালে। সেদিনও এই দারুণ দলটি অপরাজিত ছিল, বিদায় নিতে হয় টাইব্রেকার নামের লটারিতে হেরে।

নেদারল্যান্ডস দলের অভিজ্ঞ কোচ লুই ফন গাল টাইব্রেকারের ঠিক আগে একটা ফাটকা খেলেন বদলি গোলরক্ষক টিম ক্রুলকে নামিয়ে দিয়ে। মূল গোলরক্ষক ইয়াসপার ক্লিসেনের থেকে লম্বা এবং বড় হাতের অধিকারী ক্রুল দুইটা পেনাল্টি ঠেকিয়ে কোস্টারিকা-রূপকথার অবসান ঘটান।

কোস্টারিকার মতো আরেক অপরাজেয় দল ছিল জার্মানি। দক্ষিণ আমেরিকার মাটি থেকে প্রথম কাপ জিতে আসা জার্মানি। জার্মান-যন্ত্রের বিপুল মানসিক শক্তির কথা তো সবার জানাই। জার্মানিকে নিয়ে ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি গ্যারি লিনেকারের একটি উক্তি তো ফুটবল উপকথারই অংশ হয়ে গেছে—ফুটবল এমন এক খেলা, যা ৯০ মিনিট ধরে হয় এবং জার্মানি জেতে। সেই টুর্নামেন্টে এটাই দেখিয়েছিল ইওয়াখিম লুভের দলটি।

প্রথম খেলাতেই ৪-৪-২ ফরমেশনে খেলে পর্তুগালকে উড়িয়ে দেয় ৪-০ গোলে। ঘানার সঙ্গে ড্র করার পর হারায় যুক্তরাষ্ট্রকে। আলজেরিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচটা সবাইকে মনে করিয়ে দেয় ১৯৮২ বিশ্বকাপের সেই লজ্জাজনক অধ্যায়। এবারও আলজেরীয় ছিল চনমনে, উদ্দীপ্ত। এই ম্যাচে ৪-২-৩-১ ফরমেশনে ফেরা জার্মানদেরও মনে হচ্ছিল নড়বড়ে। শেষতক অবশ্য জার্মানি লিনেকারের কথাকে সত্যি করে জেতে ২-১ গোলে। কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয় ফ্রান্সের।

ফ্রান্স দলটাকে সেবার মনে হচ্ছিল পুনরুজ্জীবিত এক শক্তি। হন্ডুরাসকে ৩-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা ফ্রান্স সুইজারল্যান্ডকে হারায় ৫-২ ব্যবধানে। ইকুয়েডরের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করলেও দ্বিতীয় রাউন্ডে ২-০ গোলে জেতে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে। কিন্তু জার্মান-যন্ত্রে আটকে যায় নেপোলিয়নের দেশের অগ্রযাত্রা। মারাকানায় ম্যাট হুমেলসের গোলে জার্মানরা সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে।

সেমিফাইনালে ব্রাজিল আর ফাইনালে আর্জেন্টিনা। ইউরোপের শ্রেষ্ঠত্বের সিলমোহর মেরে দিল জার্মানি। গোটশের ১১৩ মিনিটের গোলে রচিত হলো ইতিহাস। বিশ্ব দেখল মেসির কান্না, কোটি কোটি মেসি-ভক্তের হাহাকার।

কিন্তু জার্মানদের এই জয় তো কেবল দৃঢ়তা আর মনোবলের জোরে আসেনি। সৈয়দ মুজতবা আলী বলতেন, জার্মানরা বিজ্ঞানের জাতি। তাঁরা সবকিছুকে বিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করে। ফুটবল বিজ্ঞানেও তত দিনে জার্মানরা আবিষ্কার করেছে এক দুর্দান্ত কৌশল—গেগেনপ্রেস। জার্মান ফুটবল স্কুল অব থট টিকিটাকাকে চূর্ণ করে এই দুরন্ত আবিষ্কারে খেলার খোলনলচে পাল্টে দেয়। আর সব আবিষ্কার আর দর্শনের মতোই এ-ও আসলে মানুষের লাখো বছরের চিন্তাধারার আরেকটি বাঁক। মানুষের অগ্রযাত্রার একটি ধাপ। রালফ রাংনিক নামের এক ফুটবল দার্শনিক এই দর্শনের রূপকার।

ইয়োস্তান গার্ডেনারের সোফির জগতের মতো কেউ যদি কখনো ফুটবলের দর্শন নিয়ে একটি বই লেখে তার একটি রুদ্ধশ্বাস অধ্যায় থাকবে গেগেনপ্রেসের জন্য, রাংনিকের জন্য, রাংনিকের প্রিয় ছাত্র ইয়ুর্গেন ক্লপ, টমাস টুখেলদের জন্য। সেই ক্লপ, যিনি জার্মান-কৌশলে ইংলিশ ফুটবলের সফলতম দল লিভারপুলকে পুনরুজ্জীবিত করেছেন। ৩০ বছর পর লিগ জিতিয়েছেন, ইউরোপ সেরা করেছেন। দলটাকে আবার নিয়ে এসেছেন অভিজাতদের কাতারে।

রাংনিক-ক্লপের এই বিপ্লবী ঘরানার ফুটবল খেলে লুভের জার্মানি হয়েছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, লুভের সহযোগী হান্সি ফ্লিকের হাত ধরে বায়ার্ন মিউনিখ জিতেছে শিরোপা ষষ্ঠক। রাংনিকের কথা টেনে নিয়েই বলা যায় জার্মানিতে প্রেসিং এখন আর কোনো ফুটবল ঘরানা নয়। এখন এটা একটা লাইফস্টাইল। প্রতিটি জার্মান এখন তাদের জীবনের প্রায় সবখানেই প্রেস করে।

‘নেভার সে ডাই’ বলা জার্মানরা এখন এই ছিনিয়ে নেওয়া মতবাদে বিশ্বাসী হয়ে নির্বাচনে বছর ষাটেক পর ক্ষমতায় বসিয়েছেন বামঘেঁষা গ্রিন পার্টিকে। মানুষের মুক্তির জন্য যেই খেলা, সেই খেলার প্রচ্ছন্ন প্রভাবে অধিকার আদায়ের সংগ্রাম জোরদার হচ্ছে, এর থেকে সুন্দর কিছু কি আর কল্পনা করা যায়!

জার্মানরা দুনিয়াকে উচ্চ স্বরে বলতে চাইছে—প্রেস, প্রেস, প্রেস। প্রেস আনটিল ইট হার্টস। ফুটবল আর জীবনের এ এক অনবদ্য দর্শন!