সুইজারল্যান্ডের দাবি, লাল কার্ডই বদলে দিয়েছে ম্যাচের মোড়

হারের হতাশা নিয়েই ঘরে ফিরেছে সুইস দর্শকেরারয়টার্স

সিদ্ধান্তটা যেন এখনো মেনে নিতে পারছে না সুইজারল্যান্ড। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপের শেষ আটে ৩-১ গোলে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে সুইসরা উগরে দিয়েছেন ক্ষোভ। এতটাই যে সুইস অধিনায়ক গ্রানিত জাকা ও কোচ মুরাত ইয়াকিন বলছেন, এমবোলোর লাল কার্ডই খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।

ঘটনাটা ম্যাচের ৭২ মিনিটে। আর্জেন্টিনার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে একটা ফাউলের জন্য হলুদ কার্ড দেখানো হয়। কিন্তু ভিডিও রিভিউয়ের পর পারেদেসের হলুদ কার্ড সরিয়ে এমবোলোকে ‘ডাইভ’ বা ফাউল আদায়ের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে পড়ে যাওয়ার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

ভিডিওতে দেখা যায়, পারেদেসের সংস্পর্শে আসার আগে এমবোলো পড়ে যাচ্ছিলেন। এমবোলো এর আগে ম্যাচে একটি হলুদ কার্ড দেখায় দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের কারণে তাঁকে লাল কার্ড পেতে হয়। ফলে ১-১ সমতায় থাকা ম্যাচের বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় সুইজারল্যান্ডকে।

ম্যাচ শেষে সুইস ডিফেন্ডার নিকো এলভেদি তাই ক্ষোভটা লুকাননি, ‘আমি সত্যিই বুঝতে পারছি না, ভিএআর কীভাবে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’ ঘটনাটি ঘটে ঠিক সেই সময়, যখন সুইজারল্যান্ডের ড্যান এনদয়ে কিছুক্ষণ আগেই গোল করে দলকে সমতায় ফিরিয়েছিলেন।

এটি বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বারের মতো এমন ঘটনা, যেখানে ‘ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানো’সংক্রান্ত নিয়ম ব্যবহার করে কোনো খেলোয়াড়ের হলুদ কার্ড পরিবর্তন করা হয়েছে। এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড়কে ভুলভাবে হলুদ বা লাল কার্ড দেখানো হলে ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারে।

সুইজারল্যান্ড কোচ মুরাত ইয়াকিনও ম্যাচ শেষে এই লাল কার্ড নিয়ে নিজের হতাশাটা জানিয়েছেন, ‘আমরাই ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করছিলাম। আমরা খেলাটা নিয়ন্ত্রণ করছিলাম। কিন্তু লাল কার্ডের কারণে আমাদের এমন একটি নিয়মের শাস্তি পেতে হলো, যেটা আমার কাছে বোধগম্য নয়। অবশ্যই এভাবে বিদায় নেওয়া ভীষণ কষ্টের। আজকের ম্যাচে এমন ফল প্রাপ্য ছিল না।’

লাল জার্সির বিবর্ণ–বিদায়ই দেখেছে ফুটবলবিশ্ব
এএফপি

ইয়াকিনের কথা, ‘এর আগে আরও কয়েকবার হলুদ কার্ড দেখানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু এমন একটি ঘটনায় হলুদ কার্ড দেওয়া হলো, যেটা আমার কাছে খুবই সাধারণ একটা ফাউল ছিল, এমনকি এটা ফাউল ছিল কি না, সেটাও প্রশ্নের বিষয়। তারা তাদের রেফারিকে রক্ষা করার জন্য এমন একটি নিয়ম ব্যবহার করল, যেটা আজ আমাদের ম্যাচটাই নষ্ট করে দিল। এটা ভীষণ কষ্টের। আমার মতে, আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখানোর কোনো কারণই ছিল না। রেফারির উচিত ছিল খেলা চালিয়ে যাওয়া। তিনি নিজের ভুল সংশোধন করতে গিয়ে আমাদের বিপদে ফেলেছেন। এরপর সবাই দেখেছে, একজন কম নিয়ে আমাদের খেলতে হয়েছে।’

আরও পড়ুন

রিপ্লেতে যদিও দেখা গেছে এমবোলো ‘ডাইভ’ দিয়েছিলেন, কিন্তু ইয়াকিন এমবোলোর পাশেই দাঁড়ালেন, ‘এমোবোলোকে দোষ দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। সে সব সময় দলের জন্য পরিশ্রম করে, আমাদের খেলায় তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। অবশ্যই সে ভেঙে পড়েছে, কারণ, সে আর দলকে সাহায্য করতে পারেনি। আপনারা ভাবতে পারবেন না, ব্রিল এখন কেমন বোধ করছে।’

১-১ সমতায় থাকা ম্যাচের বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় সুইজারল্যান্ডকে
রয়টার্স

সুইস অধিনায়ক গ্রানিত জাকাও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের হতাশার কথা জানিয়েছেন, ‘আমার মনে হয় লাল কার্ডই ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছে। ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমের সবাই হতাশ ছিল। এই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া খুব কঠিন।’

গত ৬০ বছরের বিশ্বকাপ ইতিহাসে এমবোলো চতুর্থ খেলোয়াড়, যিনি ‘সিমুলেশন’ বা ফাউল আদায়ের জন্য দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পেয়েছেন। ইতালির ফ্রান্সেসকো টট্টি (২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে), মেক্সিকোর লুইস পেরেজ (২০০৬ সালে পর্তুগালের বিপক্ষে), ঘানার আসামোয়া জিয়ানের (২০০৬ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে) এর আগে এমন অভিজ্ঞতা হয়েছিল।

আরও পড়ুন