বাফুফেকে দেওয়া চিঠিতে জামাল দাবি করেন, সাইফের কাছ থেকে তিন মাসের বেতন বাবদ ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা পান। বাফুফের কাছ থেকে কোনো সুবিচার না পেলে ফিফায় অভিযোগ করার পরিকল্পনা রয়েছে জামালের, ‘আমি এর মধ্যেই একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছি। প্রয়োজনে আইনজীবীর মাধ্যমে আমি ফিফার কাছে যাব এর প্রতিকারের জন্য।’

২০২১ সালের ২৪ নভেম্বর মাসিক সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা বেতনে সাইফের সঙ্গে নতুন করে এক বছরের চুক্তি হয় জামালের। চুক্তির শর্ত ছিল সারা বছর বেতনের ২৫ শতাংশ টাকা ক্লাব চুক্তি সইয়ের সময় জামালকে বুঝিয়ে দেবে। সবকিছুই চলছিল ঠিকঠাক। সাইনিং মানিসহ বেতনও পাচ্ছিলেন নিয়মিত। তবে এই বছরের শুরু থেকে বেতনটা অনিয়মিত হয়ে পড়ে জামালের।

বাফুফের কাছে অভিযোগপত্রে জামাল উল্লেখ করেন, ‘এ বছর ২ আগস্ট মৌসুম শেষ হওয়ার পর আমি আমার তিন মাসের বকেয়া বেতন দাবি করি। ক্লাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকও কথা দেন দ্রুত সেটা তাঁরা আমাকে দেবেন। আমি আশা করি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও জুলাই—এই তিন মাসের বেতন চলতি নভেম্বরের মাঝামাঝি তাঁরা আমাকে পরিশোধ করে দেবেন। এ মাসে আমি সাইফের শীর্ষ কর্মকর্তা তরফদার রুহুল আমিন, তরফদার সাইফ, সাধারণ সম্পাদক (আসাদুজ্জামান রনি) ও ম্যানেজারের (শাহেদুল আলম শাহেদ) সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। তবে তাঁদের কেউই আমার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি এবং বকেয়াও শোধ করেননি। তাই বাধ্য হয়েই অভিযোগ করছি। আশা করছি, ফিফার নিয়ম অনুযায়ী আমি প্রতিকার পাব।’

সাইফের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ জামাল বলেন, ‘আমি বাফুফের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। সাইফের অন্য সব খেলোয়াড় যাঁরা একটা ম্যাচও খেলেনি, তাঁদের ঠিকই বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। অথচ আমি বেতন পুরোপুরি পাইনি। এটা খুব হতাশার।’

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের ম্যানেজার শাহেদুল আলম বলেন, ‘জামালকে বারবার বেতন পরিশোধের তারিখ দিয়েও কেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ টাকাটা দিচ্ছে না সেটা আমার কাছেও অবাক লেগেছে। তবে জামালের বকেয়া টাকা অচিরেই দিয়ে দেওয়া হবে। সাইফ স্পোর্টিংয়ের অতীত ইতিহাসে এমন খারাপ কোনো রেকর্ড নেই। সে পুরো টাকায় পেয়ে যাবে।’