সম্ভবত সেই পুরোনো কৌশলই। নিজেদের ওপর থেকে চাপ কমানো। লক্ষ্য শিরোপা জয়ই থাকবে, কিন্তু সেটা মনের ভেতরে ও মাঠের খেলায় ফুটিয়ে তুলতে হবে। মাঠের বাইরে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে যে প্রত্যাশার পারদ চড়েছে, তাতে খেলোয়াড়েরা যেন অতিরিক্ত চাপ না নিয়ে ফেলেন, সেই ভাবনা থেকেই স্কালোনি সম্ভবত ধীরে চলো নীতি অবলম্বন করলেন।

লুসাইলে আজ বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টায় ‘সি’ গ্রুপ থেকে নিজেদের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। কাল সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনি স্পষ্ট করে বলে দেন, ‘আর্জেন্টিনার মতো জাতীয় দলের কোচ হলে চাপ নিতেই হবে। আর ফলটা প্রত্যাশানুযায়ী না হলে কী ঘটে, সেটাও জানি।’

স্কালোনি এরপর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করলেন। কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলকে চ্যাম্পিয়ন হতেই হবে, এমনটা মনে করেন না মেসিদের এই কোচ, ‘নিজের চিন্তাভাবনা নিয়েও আমি পরিষ্কার। স্পষ্ট করে বলতে চাই, যেকোনো পরিস্থিতিতেই বিশ্বকাপ জয়ের বাধ্যবাধকতা কি আছে আমাদের? মোটেই না। এটা বিশ্বাস করলে আমরা ভুল ভাবছি।’

লাতিন আমেরিকার সেরা দলের মুকুট আর্জেন্টিনার। গত বছর কোপা আমেরিকা জিতে এবার কাতারে পা রেখেছেন মেসিরা। টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থাকার পথে মেসি–দি মারিয়াদের ঘিরে প্রত্যাশা তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। অবশ্য প্রায় প্রতিটি বিশ্বকাপেই আর্জেন্টিনাকে ফেবারিটদের কাতারে রাখা হয়। কিন্তু ৩৬ বছর হয়ে গেল আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ শিরোপার দেখা পায়নি।

কাতারে এই খরা ঘুচবে কি না, এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেননি স্কালোনি। তিনি জানালেন বিশ্বকাপ উপভোগের কথা, ‘আমরা খুব ভালো কিছু দলের বিপক্ষে লড়ব। বিশ্বকাপটা উপভোগ করব। আমার মনে হয় এই দলটা যেমন ফুটবল খেলে, তা দেখে আর্জেন্টাইন এবং বাকি ভক্তরাও খুশি হবেন।’

১৯৭৮ ও ১৯৮৬ বিশ্বকাপ জয়ের পর ১৯৯০ ও ২০১৪ সালে ফাইনাল খেলেছে আর্জেন্টিনা। এবারও মেসিকে কেন্দ্র করেই প্রত্যাশার বেলুন ফুলিয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে স্কালোনি মনে করিয়ে দিলেন, ‘অন্যতম ফেবারিটরা সাধারণত বিশ্বকাপ জেতে না। অন্তত ৮ থেকে ১০টি দল বিশ্বকাপ জেতার সামর্থ্য রাখে, এর মধ্যে বেশির ভাগই ইউরোপের।’

স্কালোনি এরপর ব্যাখ্যা করলেন, বিশ্বকাপ জেতা না জেতার পেছনে মূলত কোন বিষয়গুলো ভূমিকা রাখে, ‘আমার মনে হয় ভালো বা খারাপ খেলার ওপর বিষয়টি নির্ভর করে না। এখানে (বিশ্বকাপে) সবকিছু ঠিক রাখাটা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় খেয়াল রাখতে হয়। এই বিশ্বকাপেও তার ব্যতয় ঘটবে না। আর এগুলো মিলিয়েই একটা দল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। সে জন্য সেরা ফুটবল খেলার দরকার নেই কিংবা ফেবারিটও হতে হয় না।’