তো এবার আর্জেন্টিনা যখন হেরে গেল সৌদি আরবের সঙ্গে, পলাকে জিগ্যেস করলাম, পলা, তোমার মনটা কেমন?

পলা লিখে পাঠিয়েছেন:

‘এটা একটা অপ্রত্যাশিত আঘাত, অবশ্যই। প্রথমত, তাঁরা আমাদের তিনটা গোলকে খুন করেছে, যা দলের স্পিরিটের ওপরে প্রভাব ফেলেছে। আমি মনে করি, সৌদি আরবের ফরাসি কোচ আসলেই ভালো। সে যা ঘটিয়েছে, আমাদের আক্রমণভাগ আর রক্ষণভাগের মধ্যে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতে পেরেছে। তারা একেবারে খাঁটি আরব ঝড় তৈরি করতে পেরেছে। ১৯৯০ বিশ্বকাপে ক্যামেরুন প্রথম ম্যাচে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। তারপরও আমরা ফাইনালে গেছি। কাজেই এটা কোনো বড় বিষয়ই নয়। আশা করি, আমরা মেক্সিকোকে একটা সুন্দর মারণদিবস উপহার দিতে পারব। (হাসির ইমো)

অল দ্য বেস্ট আনিসুল।

বেসোস ফ্রম বার্সেলোনা। পলা।’

তো আসুন আমরা মেক্সিকোর ওপর দিয়ে আর্জেন্টিনার ঝড়ের জন্য অপেক্ষা করি।

তবে এ কথা ঠিক যে এবারের খেলার সবচেয়ে বড় ভিলেন হলো ভিএআর। ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি।

ফুটবল তো গতির খেলা। এটা তো ক্রিকেট নয়। ক্রিকেটে ওভার শেষ হলে প্রান্ত বদল হয়। বোলার বদল হয়। আমরা তখন বিজ্ঞাপন দেখি। কিন্তু ফুটবল তো চলে বিরামহীনভাবে। স্ট্রাইকার গোল করেছেন, লাইনসম্যান পতাকা তোলেননি, খেলোয়াড়েরা সেটা উদযাপন করছেন, এই সময় আপনি ভিএআরের কাছে গেলেন। খেলা বন্ধ। পাঁচ মিনিট পর এসে বললেন, গোল বাতিল। এটা কিছু হলো?

আর হাত ছাড়া চুলও যদি রক্ষণভাগের শেষ খেলোয়াড়কে অতিক্রম করে বল কিকের আগে, আপনি অফসাইড। কোনো মানে হয়!

এবার বিশ্বকাপে নায়ক যে–ই হোক, ভিলেন হয়ে থাকবে ভিএআর।

রেফারি তো ভুল করতেই পারেন। দরকার পড়লে চারজন লাইনসম্যান থাকবেন। ফুটবল মানবিক খেলা। ভুল তো মানুষই করে। যন্ত্রও ভুল করে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আমাদের সাকিব আল হাসানকে সেদিনের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভুল এলবিডব্লু দিয়েছে টিভি রিপ্লে। কী আর করা!

ফুটবল গণতান্ত্রিক খেলা। জাম্বুরা দিয়ে খেলা যায়, দিয়াশলাইয়ের বাক্স দিয়ে যায়। এটা গরিবের খেলা। এটাকে ভিএআর ইত্যাদি দিয়ে বড়লোকের খেলা বানানোর দরকার কী!

ম্যারাডোনা হাত দিয়ে গোল করেছেন। এখন হলে তো লাল কার্ড খেতেন। রিভালদো অভিনয় করে প্রতিপক্ষকে লাল কার্ড খাইয়েছিলেন। এগুলো খেলার অংশ। মানুষ ফেরেশতা নয়। ফুটবলকে কেন দেবদূতদের খেলা হতে হবে! কেন রোবট দিয়ে খেলার রেফারিং করাতে হবে?

মানবিক ফুটবল মানুষের থাকুক।