চীনের বিপক্ষে লড়াকু ফুটবল উপহার দিয়ে সমর্থকদের মনে আশা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু আজ উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে এসে যেন খেই হারিয়ে ফেলল দল। ৫-০ গোলের বড় ব্যবধানের হারে অসহায় আত্মসমর্পণের ছবিই ফুটে উঠেছে। তবে ১২ দলের নারী এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার আশা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। এখন সবার দৃষ্টি ৯ মার্চের উজবেকিস্তান ম্যাচের দিকে।
ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামের মিক্সড জোনে ম্যাচ শেষে কথা বলেছেন বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের কয়েকজন। তীব্র গরম আর শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াইয়ের ক্লান্তি ছাপিয়ে তাঁদের কণ্ঠে শোনা গেল পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়।
উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নিজেদের সীমাবদ্ধতাগুলো ভালোভাবেই বুঝে নিয়েছেন অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার। তবে হারের হতাশাকে পেছনে ফেলে সামনের দিকে তাকাতে চান তিনি, ‘উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যে ভুলগুলো হয়েছে, পরের ম্যাচে তা যেন না করি, সেই চেষ্টা থাকবে। উত্তর কোরিয়া বিশ্বের ৯ নম্বর টিম, অনেক শক্তিশালী। আমাদের লক্ষ্য ছিল, ভালো খেলব, ফাইট করব। আমরা সেটাই করার চেষ্টা করেছি।’
সিডনির গরম এদিন বাড়তি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আফঈদা বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে এসেছি, বাংলাদেশে এত গরম ছিল না। তারপরও কয়েক দিন আগে আসায় কিছুটা মানিয়ে নিতে চেষ্টা করছি।’ তবে সব প্রতিকূলতা পেরিয়েও শেষ আটে যাওয়ার স্বপ্ন জিইয়ে রেখেছেন আফঈদা, ‘উজবেকিস্তান ম্যাচ এখনো আছে। এখনো আশা করি ভালো কিছু করতে পারব, পরের রাউন্ডে যেতে পারব।’
প্রচণ্ড রোদে দুপুরে খেলার ধকলের কথা জানালেন মিডফিল্ডার স্বপ্না রানীও, ‘দুপুরে খেলা হয়েছে। অনেক রোদ ছিল। এমন রোদে ত্বকে প্রভাব ফেলেছে। অনেক কষ্ট হয়েছে সবার।’
ম্যাচের পর ভুলগুলো শোধরানোর উপায় নিয়ে স্বপ্না বললেন, ‘আজকের ম্যাচ নিয়ে ভিডিও বিশ্লেষণ করব আমরা। হারানোর কিছু ছিল না আমাদের। তারা অনেক ভালো দল। আমরা চেষ্টা চালিয়ে গেছি। কিছু করার নেই। উজবেকিস্তান ম্যাচ নিয়ে স্বপ্নার আশা, ‘উজবেকিস্তানের সঙ্গে ভালো কিছু করার চেষ্টা থাকবে। আমরা চাইব সেভাবেই প্রস্তুতি নিতে।’
চীন ম্যাচের মতো আজও গোলরক্ষক মিলি আক্তার পোস্টের নিচে ছিলেন সাহসী। অন্তত পাঁচবার প্রতিপক্ষের গোল ঠেকিয়ে পরাজয়ের ব্যবধান কমানোর লড়াই করেছেন তিনি। মিলি বলেন, ‘আজকে আমরা হার্ড টিমের সাথে খেলেছি। হার্ড টিমের সাথে খেলার পর বুঝতে পারছি কোথায় কোথায় সমস্যা। এগুলো নিয়ে পরের ম্যাচে কাজ করব।’
গরমের ব্যাপারটা নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলারও, ‘দুর্ভাগ্যবশত, আমার মনে হয়েছে, আমাদের কিছু মেয়ে রোদে নুয়ে পড়েছিল এবং আমরা আসলে নিজেদের প্রতি সুবিচার করতে পারিনি।’
উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটিই এখন বাংলাদেশের জন্য বাঁচা-মরার লড়াই। আজকের বড় হার থেকে পাওয়া শিক্ষা কাজে লাগিয়ে মেয়েরা কি পারবেন কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে? উত্তর মিলবে মাঠের পারফরম্যান্সেই।