ইউরোপিয়ান শীর্ষ ৫ লিগে সর্বোচ্চ বেতন পান যাঁরা

কিলিয়ান এমবাপ্পে (বাঁয়ে) ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রই সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া ফুটবলারউয়েফা

কেউ গোল করে দর্শকদের মোহাবিষ্ট করে রাখেন। কারও ড্রিবলিং, পাস কিংবা রক্ষণে দক্ষতা দেখে গ্যালারিতে গর্জন ওঠে। তবে ফুটবলারদের এই মাঠের খেলাই শুধু নয়, তাদের ব্যাংক ব্যালান্সের হিসাব নিয়েও আগ্রহ কম নেই।

প্রতিবছরের মতো এবারও ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের খেলোয়াড় ও কোচদের বেতনের হিসাব প্রকাশ করেছে ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘লেকিপ’। সেখানে দেখা যাচ্ছে, মুদ্রাস্ফীতির বাজারেও ফুটবলারদের বেতনের গ্রাফটা বেশ ঊর্ধ্বমুখী।

স্প্যানিশ লা লিগা

বেতনের দিক থেকে ইউরোপের সেরা ৫টি লিগের মধ্যে শীর্ষে রিয়াল মাদ্রিদের দুই তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। দুজনেই প্রতি মাসে পকেটে পুরছেন ২৬ লাখ ৭০ হাজার ইউরো (প্রায় ৩২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা) করে। স্প্যানিশ লা লিগায় তাঁদের পরেই আছেন রিয়াল মাদ্রিদের অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডার দাভিদ আলাবা (১৮ লাখ ইউরো) ও বার্সেলোনার পোলিশ স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানডভস্কি (১৭ লাখ ৩০ হাজার ইউরো)। রিয়াল মাদ্রিদের জুড বেলিংহাম ও আতলেতিকো মাদ্রিদের ইয়ান ওবলাকের আয়ও নেহাত কম নয়, মাসে প্রায় ১৬ লাখ ৭০ হাজার ইউরো করে।

আরও পড়ুন
বেতনে এগিয়ে আছে হলান্ডও
এএফপি

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ

ইংল্যান্ডে বেতনের হিসাবে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন আর্লিং হালান্ড। ম্যানচেস্টার সিটির এই নরওয়েজীয় গোলমেশিন মাসে পান ২৬ লাখ ৩০ হাজার ইউরো (প্রায় ৩২ কোটি ২০ লাখ টাকা)। লিভারপুলের ‘মিসরীয় যুবরাজ’ মোহাম্মদ সালাহ পাচ্ছেন ২০ লাখ ইউরো। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাসেমিরো ও লিভারপুলের ভার্জিল ফন ডাইকের আয় সাড়ে ১৭ লাখ ইউরো করে। শীর্ষ তালিকায় আছেন ইউনাইটেদের ব্রুনো ফার্নান্দেজ ও মিকেল আরতেতার প্রিয় শিষ্য বুকায়ো সাকাও (১৫ লাখ ইউরো করে)।

বুন্দেসলিগায় সবচেয়ে বেশি বেতন কেইনের
রয়টার্স

জার্মান বুন্দেসলিগা

জার্মানিতে আবার বায়ার্ন মিউনিখের একচ্ছত্র আধিপত্য। হ্যারি কেইন ও জামাল মুসিয়ালা দুজনেই মাসে পাচ্ছেন ২১ লাখ ইউরো করে (প্রায় ২৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা)। ম্যানুয়েল নয়্যার ১৭ লাখ ৫০ হাজার ইউরো এবং জশুয়া কিমিখ পাচ্ছেন ১৬ লাখ ৬০ হাজার ইউরো।

কেইনের সমান বেতন পান মুসিয়ালা
এএফপি

ইতালিয়ান লিগ সিরি ‘আ’

ইতালির লিগে অবশ্য কৃচ্ছ্রসাধন চলছে কয়েক মৌসুম ধরেই। আর্থিক চাপের কারণে সিরি আ-র ক্লাবগুলো এখন হিসাব করে পা ফেলছে। তারপরও জুভেন্টাসের দুসান ভ্লাহোভিচ মাসে পাচ্ছেন ১৮ লাখ ৫০ হাজার ইউরো (প্রায় ২২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা)। ইন্টার মিলানের আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার লাওতারো মার্তিনেজ (১৩ লাখ ৯০ হাজার ইউরো) ও রোমার আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার পাওলো দিবালা (১০ লাখ ৮০ হাজার ইউরো) আছেন তালিকার ওপরের দিকে।

ফরাসি লিগ ‘আঁ’

ফ্রান্সের লিগ আঁ-তে রাজত্বটা বরাবরের মতোই কাতার স্পোর্টস ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানির মালিকানায় থাকা পিএসজির। এবারের তালিকায় ফ্রান্সের সবচেয়ে দামি ফুটবলার হিসেবে নাম লিখিয়েছেন পিএসজির উসমান দেম্বেলে। ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকার মাসিক বেতন ১৮ লাখ ৫০ হাজার ইউরো (প্রায় ২২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা)। তালিকার পরের দুটি নামও পিএসজির—মার্কিনিওস পাচ্ছেন ১১ লাখ ২০ হাজার ইউরো এবং আশরাফ হাকিমি ১১ লাখ ইউরো। গত মৌসুমের তুলনায় এবার পিএসজির গড় বেতনও কিছুটা বেড়েছে, ৬ লাখ ৪৭ হাজার ইউরো থেকে হয়েছে ৬ লাখ ৫০ হাজার ইউরো।

কোচদের কার পকেটে কত

শুধু ফুটবলাররাই নন, কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা পাচ্ছেন কোচরাও। বেতনের দিক থেকে অনেক বছর ধরেই ইউরোপের এক নম্বর কোচ আতলেতিকো মাদ্রিদের দিয়েগো সিমেওনে, প্রতি মাসে তাঁর অ্যাকাউন্টে ঢোকে ২১ লাখ ৭০ হাজার ইউরো (প্রায় ২৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা)। বার্সেলোনার হান্সি ফ্লিক পান মাসে ৯ লাখ ১০ হাজার ইউরো।

বেতনের হিসাবে ইউরোপের এক নম্বর কোচ আতলেতিকো মাদ্রিদের দিয়েগো সিমেওনে
এক্স

ইংল্যান্ডে পেপ গার্দিওলার বেতন মাসে ১৯ লাখ ২০ হাজার ইউরো। মিকেল আরতেতা ও উনাই এমেরি পাচ্ছেন যথাক্রমে ১২ লাখ ৫০ হাজার এবং ৭ লাখ ৭০ হাজার ইউরো। ইতালিতে আন্তোনিও কন্তে ১৩ লাখ ইউরো বেতন নিয়ে ডাগআউটের সবচেয়ে দামি ব্যক্তি। আর ফ্রান্সে লুইস এনরিকে মাসে ১০ লাখ ইউরো পেলেও গুঞ্জন আছে, তার নতুন চুক্তির অঙ্ক বছরে ২০ মিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়ে যেতে পারে!