স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতানো কোচের চোখে আর্জেন্টিনার দুই ‘বিপজ্জনক’ চরিত্র
ফুটবল রোমান্টিকদের হৃদয়ে ভিসেন্তে দেল বস্ক নামটা যেন এক রূপকথার জাদুকর। চোখ বুজলেই ভেসে ওঠে ১৬ বছর আগের সেই সোনালি দিন, যখন তাঁর হাত ধরেই স্পেন প্রথমবার ছুঁয়েছিল বিশ্বকাপের আদিগন্ত আকাশ।
সময়ের নদী বেয়ে এক যুগেরও বেশি পথ পেরিয়ে স্পেন আবারও দাঁড়িয়ে এক মহা–উদ্যাপনের আঙিনায়। কিন্তু এবার ওপারে যে দল দাঁড়িয়ে, তারা কোনো সাধারণ প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; তারা তো বর্তমান বিশ্বজয়ী আর্জেন্টিনা, যাদের পায়ে এখন ফুটবলের মোহিনী জাদু!
আগামীকাল যখন নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিকেল নামবে, তখন সবুজ ঘাসের বুকে লেখা হবে এক নতুন মহাকাব্য।
তবে এই মহারণের ঠিক আগে ফেলে আসা দিনের সেই মহানায়ক দেল বস্ক স্পেনের তরুণ রক্তকে মনে করিয়ে দিলেন আকাশি-সাদার ভেতরের দুই ‘বিপজ্জনক’ চরিত্রের কথা—তাদের অনিশ্চিত খেলার মায়াজাল আর অভিজ্ঞতার গভীরতা।
স্প্যানিশ দৈনিক এল পাইসের পাতায় যেন নিজের মনের কোণের সেই আশঙ্কা আর মুগ্ধতার কথাই বুনেছেন দেল বস্ক, ‘আমি মনে করি, ফাইনালে স্পেনই জিতবে। তবে আর্জেন্টিনার অনিশ্চিত খেলার ধরন ও তাদের অভিজ্ঞতার ব্যাপারে স্পেনকে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। আমরা সবাই কোনো না কোনো সময় আর্জেন্টাইন সতীর্থদের সঙ্গে খেলেছি, তাই আমরা জানি তারা কতটা কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী এবং কতটা লড়াকু মানসিকতার।’
সত্যিই তো, সেমিফাইনালের রাতে যখন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এক গোলে পিছিয়ে পড়েছিল আর্জেন্টিনা, কে ভেবেছিল এমন এক প্রত্যাবর্তন অপেক্ষা করছে। খাদের কিনারা থেকে ফিরে আসার এই যে অদম্য জেদ, একেই তো ভয় দেল বস্কের।
তাই তো আবেগের চাদর সরিয়ে তিনি অকপটেই বললেন, ‘ফুটবলের অন্যতম বড় সৌন্দর্য হলো এর অনিশ্চয়তা; এই রোববার কী ঘটবে, তা আমরা কেউই জানি না। আর্জেন্টিনা খুবই কঠিন প্রতিপক্ষ—ক্ষমা করবেন কথাটা বলছি, কিন্তু তারা সত্যিই ভীষণ চতুর দল। তারা খুব ভালো করেই জানে কীভাবে খেলতে হয় এবং কী করতে হবে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তাদের দারুণ প্রত্যাবর্তন দেখলেই সেটা বোঝা যায়।’